লন্ডন: প্রিমিয়র লিগে ওয়েস্ট হ্যামের বিরুদ্ধে জয় দিয়ে নর্থ লন্ডনের ক্লাবটির ম্যানেজার পদে অভিষেক হয়েছিল গত সপ্তাহে। স্বাভাবিকভাবেই মোরিনহো জমানার প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচ ঘিরে প্রত্যাশা নিয়েই এদিন ঘরের মাঠে ভিড় জমিয়েছিলেন টটেনহ্যাম অনুরাগীরা। কিন্তু এদিন প্রথমার্ধের ২০ মিনিটেই দু’গোলে পিছিয়ে পড়ে গতবারের রানার্সরা। ভ্রু কুঁচকোচ্ছিলেন অনেকে। যদিও ম্যাচ শেষে নিরাশ হলেন না সমর্থকেরা। বরং মুখে চওড়া হাসি নিয়েই মাঠ ছাড়লেন তারা।

প্রিমিয়র লিগের পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও জয় দিয়ে নতুন ক্লাবে যাত্রা শুরু হল হোসে মোরিনহোর। দু’গোলে পিছিয়ে পড়েও পালটা বিপক্ষের জালে চার-চারবার বল জড়ালেন কেনরা। আর দুরন্ত কামব্যাকেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নক-আউট নিশ্চিত হল টটেনহ্যামের। নর্থ লন্ডনের ক্লাবটির হয়ে এদিন জোড়া গোল অধিনায়ক হ্যারি কেনের। বাকি দু’টি গোল করলেন ডেলে আলি ও সার্জ অরিয়র। তবে শুরুটা মোটেই টটেনহ্যামসুলভ হয়নি এদিন। নক-আউটের সম্ভাবনা না থাকলেও অ্যাওয়ে ম্যাচে এদিন শুরুতে তাঁদের উজ্জ্বল উপস্থিতি জানান দেয় অলিম্পিয়াকোস।

ম্যাচের বয়স তখন মাত্র ছ’মিনিট। বক্সের অনেকটা বাইরে থেকে এল আরাবির দূরপাল্লার শট স্পারস গোলরক্ষকের নাগাল এড়িয়ে জড়িয়ে যায় জালে। ১৯ মিনিটে স্পারসের চিন্তা বাড়িয়ে দ্বিতীয় গোল তুলে নেয় গ্রিসের ক্লাবটি। বিপক্ষ রক্ষণের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে কর্নার থেকে ভেসে আসা বল আলতো টোকায় জালে জড়িয়ে দেন অলিম্পিয়াকোস ডিফেন্ডার রুবেন সেমেদো। কিন্তু ঘরের মাঠে তাগিদটা অনেক বেশি ছিল টটেনহ্যামের। পাশাপাশি আধঘন্টারও কম সময়ের মধ্যে এরিক ডায়েরকে তুলে ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেনকে নামিয়ে একটা চাল চালেন মোরিনহো। ফল মিলে যায় প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে। সার্জ অরিয়ারের ডানপ্রান্তিক ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে ক্ষমার অযোগ্য ভুল করে বসেন ইয়াসিন মেরিয়া।

তিনকাঠির সামনে ফাঁকায় বল পেয়ে তা জালে জড়াতে কোনরকম ভুলচুক করেননি ডেলে আলি। যদিও প্রথমার্ধের খেলায় অপেক্ষাকৃত ঝাঁঝহীন ছিল স্পারসের আক্রমণ। তাই দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই মরিয়া আক্রমণের পথ বেছে নেন মোরিনহোর ছেলেরা। ৫০ মিনিটে লুকাস মৌরার মাটি ঘেঁষা ক্রস থেকে সমতাসূচক গোল করে যান অধিনায়ক হ্যারি কেন। এরপর স্পারসকে আর নাগালের মধ্যে পায়নি গ্রিসের ক্লাবটি। ৭৩ মিনিটে বক্সের মধ্যে ডেলে আলির ডানপ্রান্তিক ক্রস সন মিনের মাথায় প্রতিহত হয়ে জমা পড়ে অরিয়ারের আস্তানায়। সেখান থেকে ডানপায়ের জোরালো ভলিতে বিপক্ষ গোলরক্ষককে ম্যাচে তৃতীয়বারের জন্য পরাস্ত করেন আইভরি কোস্টের রাইট ব্যাক।

টটেনহ্যামের জয় নিশ্চিত হয়ে যায় ওখানেই। তবুও মিনিটচারেক বাদে বিপক্ষের কফিনে চতুর্থ পেরেকটি পোঁতেন হ্যারি কেন। এরিকসেনের ফ্রি-কিক থেকে নিজেকে দক্ষতার শীর্ষে নিয়ে গিয়ে দুরন্ত হেডারে তাঁর দ্বিতীয় গোলটি করেন ইংরেজ স্ট্রাইকার। এই জয়ের ফলে ৫ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই নক-আউট নিশ্চিত করল স্পারস। গ্রু-‘বি’ থেকে আগেই নক-আউট হয়ে গিয়েছিল জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখের। এদিন সার্বিয়ার ক্রেভেনা ভেজদাকে হাফডজন গোলে হারিয়ে শীর্ষস্থানে অবস্থান আরও মজবুত করল বায়ার্ন।