সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় , কলকাতা : জিএসটি নিয়ে ব্যবসায়িক মহলে কম হইহল্লা হয়নি। বিশেষ করে যারা নতুন ব্যবসা শুরু করেছেন বা ছোট ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে জিএসটি মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু এই বাঙালি ব্যবসায়ী বলছেন জিএসটিতে তাঁর লভ্যাংশ বেড়েছে। তিনি ব্যবসা পার্সেল মার্কেটে মাত্র সাত বছর ব্যবসা শুরু করেছেন। এরই মধ্যে তাঁর সংস্থা স্পটঅন পাল্লা দিচ্ছে BLUE DART, DHL, FED EXএর মতো লজিস্টিক সংস্থার সঙ্গে।

সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর অভীক মিত্র বলছেন, ‘দেখুন আমাদের সংস্থার নামটাই স্পটঅন। তাহলে বুঝুন ঠিক সময়ে ঠিক জায়গায় জিনিস পৌঁছে যাওয়ার জন্য এর থেকে সুবিধাজনক সমাধান আর কি হতে পারে।” তিনি এও জানিয়েছেন, “লজিস্টিক ক্ষেত্রে আমাদের সঙ্গে লড়াই BLUE DART, DHL, FED EX এর মত সংস্থাগুলির সঙ্গে। কিন্তু এই লড়াইতে আমরা এখন ভালো জায়গায় চলে এসেছি বলে আমরা মনে করছি এবং সেটা খুব অল্প সময়ের মধ্যে।” কিন্তু জিএসটিতে সুবিধা কোথায় হয়েছে?

তিনি বলেন, “জিএসটি আসার আগে পার্সেল বিজনেসের ক্ষেত্রে চেক পোস্ট একটা বড় সমস্যা ছিল। চেক পোস্টে একবার আটকে দিলে সে জিনিস আদৌ পৌঁছবে কিনা তা নিয়ে চিন্তায় থাকতে হত। কারণ কত জিনিস নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সেই অনুযায়ী ট্যাক্স দেওয়া হিসেব অনেক ব্যপার ছিল। প্রচুর সময় নষ্ট হত। কিন্তু জিএসটি এসে একটাই কর ব্যবস্থা হয়ে গিয়েছে। কাজেই আমরা জেনে যাচ্ছি চেক পোস্টের কম সময় খরচ হচ্ছে। ফলে জিনিস ঠিক সময়ে পৌঁছে যাচ্ছে।”

২০১২ সালে এই সংস্থার যাত্রা শুরু হয়। এর আগে টিএনটি নামক একটি আমস্টাররডমের সংস্থা তাঁদের ভারতে ব্যবসা বন্ধ করতে চাইছিল বলে জানিয়েছেন অভীক মিত্র। সেই সংস্থাতেই তিনি চাকরি করতেন একটি উচ্চ পদে। সংস্থার ভারতে ব্যবসা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরেই তিনি ওই সংস্থার ভারতীয় ব্যবসাটি কিনে নিতে চান। কিন্তু একই নামে ব্যবসা চলতে পারে না। তাই স্পট অন নামে ব্যবসা শুরু করেন। প্রথম বছরেই সংস্থার লাভ হয়েছিল ১৮০ কোটি টাকা। ২০১৮-২০১৯ সালে এই লভ্যাংশ ৬৫০ কোটি টাকা পেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশী রয়েছে বলে মনে করছেন অভীক মিত্র। তিনি বলেন, “এই সাত বছরে আমাদের বিজনেস গ্রোথ ৩২ শতাংশ।”

এই মুহূর্তে শুধু সড়ক পথেই এই ব্যবসা করছেন তাঁরা। এই বছরের জুন জুলাই মাসের মধ্যে আকাশ পথেও পার্সেল বিজনেস শুরু করার চিন্তা ভাবনা করছে স্পট অন। মোটর গাড়ির পার্ট, ওষুধ, জাপাকাপড়। মোবাইল, ল্যাপটপের মতো ইলেকট্রনিক জিনিস পার্সেলের কাজ করে স্পট অন।

কিন্তু BLUE DART, DHL, E-BAY, FED EXএর মতো সংস্থাগুলিকে ছেড়ে বাকি ব্যবসায়ীরা স্পটঅনের দিকে ঝুঁকছে কেন ? অভীক মিত্র বলেন, “ আমাদের প্রথম কাজ হল যত দ্রুত সম্ভব পন্য পৌঁছে দেওয়া। সেক্ষেত্রে আমাদের সাফল্যটা বেশী। আর এখানেই মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে পারছে আমার সংস্থা।”