স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: রাজ্যস্তরের খ্যাতনামা কবাডি খেলোয়াড় শেখ হাবিব আলিকে কলার ধরে নিগ্রহ৷ এক ঠিকাদারের হাতেই জেলা পরিষদের ভেতর অনভিপ্রেতভাবে আক্রান্ত হতে হল কালনা মহকুমার কালিনগর এলাকার বাসিন্দা এবং অ্যামেচার কাবাডি ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার এরাজ্যের সংযুক্ত সম্পাদক শেখ হাবিব আলিকে৷

আর এরপরই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে – তাহলে কি পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদ ঠিকাদারের কব্জায় চলে গেছে? খোদ হাবিব আলি এদিন এই ঘটনায় একদিকে যেমন ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন তেমনি পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের এই ঘটনায় তিনি হতবাকও হয়ে গেছেন। বৃহস্পতিবার ব্যক্তিগত কাজে পুর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদে এসে এক ঠিকাদারের হাতে আক্রান্ত হন তিনি৷

এই ঘটনায় চরম মানষিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে গোটা বিষয়টি তিনি জানান রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ সহ জেলা পরিষদের সভাধিপতিকে। হাবিব আলি জানিয়েছেন, এই ঘটনায় তিনি অভিযুক্ত ঠিকাদারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন থানায়।

বৃহস্পতিবার হাবিব আলি জানিয়েছেন, এদিন দুপুরের দিকে তিনি ব্যক্তিগত কাজে জেলা পরিষদে আসেন। জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ মহম্মদ ইসমাইলের সঙ্গে দেখা করেন। মহম্মদ ইসমাইলের ঘরেই তিনি বসেছিলেন। ইসমাইল সাহেব অফিসের কাজে বেড়িয়ে যাওয়ার পরে তিনি একাই বসেছিলেন। সেই সময় তিনি মোবাইলে নিজের কাজ করছিলেন। হাবিব জানিয়েছেন, এই সময় একজন এসে তাকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যান।

এরপর তার কলার ধরে ওই ব্যক্তি দাবী করেন, টেণ্ডার উঠিয়ে নিতে হবে। কিসের টেণ্ডার, কি বিষয় তিনি জানতে চাইলে তাকে কেবলই বলা হয় টেণ্ডার তুলে নিতে হবে। হাবিব জানিয়েছেন, তিনি টেণ্ডারের সঙ্গে যুক্ত নন বা তিনি কিছু জানেন না বলে জানান। কিন্তু তা সত্ত্বেও তপন আদিত্য নামে ওই ঠিকাদার তাঁকে হেনস্থা করতে থাকেন। এই ঘটনায় তিনি প্রতিবাদ করলে জেলা পরিষদের অন্য কর্মীরা সেখানে চলে আসেন। তারপর ওই ঠিকাদার চলে যান।

হাবিব জানিয়েছেন, জেলা পরিষদে যে কেউ আসতেই পারেন। কিন্তু এভাবে আক্রান্ত হতে হবে তিনি কখনও ভাবেননি। তিনি জানিয়েছেন, তিনি রাজ্যের হয়ে কাবাডি খেলেছেন, ভারতীয় রেলের হয়ে জাতীয়স্তরে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য ও বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের কোচ ছিলেন। অ্যামেচার কাবাডি ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার এরাজ্যের সংযুক্ত সম্পাদক হাবিব আলি বর্তমানে রেলে কর্মরত। এই অবস্থায় তাঁকে হেনস্থা করার এই ঘটনায় বর্ধমান জেলা পরিষদের সম্মান ভুলুণ্ঠিত হয়েছে। গোটা বিষয়টি তিনি জেলা পরিষদের সভাধিপতিকেও জানিয়েছেন।

এদিকে, এই ঘটনা সম্পর্কে জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ মহম্মদ ইসমাইল রীতিমত ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনিও জানিয়েছেন, পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের ইতিহাসে এই ধরণের ঘটনা আগে হয়নি। গোটা বিষয়টি তিনি উর্ধতন নেতৃত্বকে জানিয়েছেন। অন্যদিকে, এব্যাপারে জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ উত্তম সেনগুপ্ত জানিয়েছেন, শারীরিক অসুস্থতার জন্য তিনি কয়েকদিন জেলা পরিষদে যেতে পারেননি। তবে তিনি শুনেছেন এরকম একটি ঘটনা ঘটেছে। কেন এরকম হল তা খতিয়ে দেখা হবে। এর পিছনে অন্য কোনো কারণ আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে।

অপরদিকে, এই ঘটনা সম্পর্কে এদিন জেলা পরিষদের দীর্ঘদিনের কর্মীরাও জানিয়েছেন, দীর্ঘ বাম আমলের পর গত ৫ বছরেও এই ধরণের ঘটনার কথা তাঁরা মনে করতে পারছেন না। এই ঘটনা জেলা পরিষদের ঐতিহ্যের মাথাকে হেঁট করেছে। এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত ওই ঠিকাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।