নয়াদিল্লি: ফেসবুক জুড়ে আধ্যাত্মিক গুরুদের ছড়াছড়ি। কিন্তু সেইসব ‘বাবা’রাই যে আসল তেমনটা নয়। অন্তত ১৫০টি নকল ‘বাবা’র প্রোফাইল চিহ্নিত করা হয়েছে। আর এদের খপ্পরে পড়লেই হতে পারে ভয়ঙ্কর ক্ষতি। কারণ, মনে করা হচ্ছে এরা আসলে পাকিস্তানের চর। এদের মাধ্যমেই নাকি ভারতের বিভিন্ন গোপন তথ্য সংগ্রহ করতে শুরু করেছে পাকিস্তান। তাই এদের থেকে সাবধান হতে বলছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।

এতদিন পর্যন্ত হানিট্র্যাপ অর্থাৎ মহিলাদের মাধ্যমে সম্মোহিত করে গোপন তথ্য সংগ্রহ করার ঘটনা ঘটত প্রায়ই। সেনাবাহিনীর নানা গোপন তথ্য এভাবেই পাচার হত। কিন্তু, সেই পদ্ধতি পুরনো হয়েছে। সেইজন্যই হয়ত এবার নতুন পদ্ধতি আমদানি করেছে পাকিস্তান। এইসব গুরুদের মাধ্যমে ট্র্যাপে ফেলে তথ্য জোগাড় করা হচ্ছে বলে গোয়েন্দাদের অনুমান। সেনাবাহিনীর অবস্থান, যুদ্ধের কৌশল, সবকিছুই জানার চেষ্টা চলছে এইভাবে।

ইতিমধ্যেই ১৫০টি ফেক প্রোফাইল চিহ্নিত করা হয়েছে, যারা সেনা জওয়ানদের ট্র্যাপে ফেলে তথ্য জোগাড় করছিল। গুরুদের নাম করে সেনা জওয়ানদের বিশ্বাস তৈরি করা হচ্ছে, অনেক সময় তাদের পরিবারকেও এই ফাঁদে ফেলা হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে এরপরই বিভিন্ন স্পর্শকাতর তথ্য জানতে চাওয়া হচ্ছে।

সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, প্রথমে জওয়ানদের পরিবারগুলিকেই টার্গেট করা হচ্ছে। তাদের কাছে বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ ও ইউটিউব লিংক পাঠিয়ে আধ্যাত্মিক বার্তা দেওয়া হয়। গত মাসেই এই ধরনের বাবা-দের থেকে সাবধান হওয়ার জন্য বিশেষ নোটিশ পাঠানো হয়েছে জওয়ানদের। কোনও অচেনা ব্যক্তির ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট, চ্যাট বা ফোন কলের জবাব দিতে নিষেধ করা হয়েছে। এই বিষয়ে সতর্ক করার জন্য বিশেষ প্রচার চালানো হচ্ছে সেনাবাহিনীর মধ্যে।

শুধু গুরু হিসেবে নয়, বীমা এজেন্ট, গোয়েন্দা এজেন্সি, এমনকি পুলিশের নাম নিয়েও এই ধরনের ট্র্যাপ চালাচ্ছে পাকিস্তান।