নয়াদিল্লি: এতদিন এতটা নামডাক ছিল না। বহুবছরের বিতর্কশেষে রাম মন্দিরের ভূমিপুজোর অনুষ্ঠানে পারিজাত বৃক্ষ রোপণ করেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ঠিক তারপর থেকেই দিল্লি-এনসিআর এলাকায় নতুন সেনসেশন তৈরি হয়েছে, সকলেই খুঁজছেন পারিজাত বৃক্ষ।

অযোধ্যায় বৃক্ষরোপণের পর থেকেই বাজারে পারিজাত গাছের চাহিদা বেড়ে গিয়েছে। এই গাছ ‘হরশ্রিঙ্গার’ নামে পরিচিত। এই গাছের চারা ন্যাশনাল ক্যাপিটাল রিজিওনের সব নার্সারিতে বর্তমানে রাখতে দেখা যাচ্ছে। হিন্দুধর্মে পারিজাত বৃক্ষকে শুভ হিসেবে গণ্য করা হয়। পাশাপাশি এই গাছের আয়ুর্বেদিক গুণাগুণ অনেক। পারিজাত বৃক্ষের বৈজ্ঞানিক নাম নিকট্যানথেস আরবার-ত্রিসতিস যা মূলত দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পাওয়া যায়।

পারিজাত গাছের বিক্রি বেড়েছে এই প্রসঙ্গে দিল্লির যমুনা ব্যাংক অঞ্চলের একটি নার্সারির মালিক সুভাষ সিং জানিয়েছেন, “পারিজাত গাছের পাতা আয়ুর্বেদে আর্থারাইটিসের ওষুধ তৈরির জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। প্রবীণদের মধ্যে অনেকেই এই পাতার রস পান করেন তাই চাহিদা বেশি। অযোধ্যায় প্রধানমন্ত্রী মোদী পারিজাত গাছ রোপণের পরথেকেই পারিজাত গাছের চাহিদা বেড়েছে। শেষ দু’দিনে ৫৫টি গাছের চারা বিক্রি হয়েছে”।

জানেন কি, আমার আপনার চির পরিচিত শিউলিরই আর এক নাম পারিজাত। এই গাছের ফল ফুটত নাকি স্বর্গের বাগানে। সেখান থেকে তা মর্ত্যে নিয়ে আসেন কৃষ্ণ। পারিজাতের আর এক নাম কল্পবৃক্ষ, অর্থাৎ যে গাছ ইচ্ছাপূরণ করে। ইংরেজিতে বলে কোরাল জ্যাসমিন ট্রি। এই গাছের উৎপত্তি সত্যযুগে, সমুদ্র মন্থনের সময় ক্ষীর সমুদ্রের নীচ থেকে আসে পারিজাত।

বলা হয়, পারিজাত ব্রহ্মাণ্ডের শ্রেষ্ঠ গাছ, এই গাছের ফুল ইশ্বরদের গয়না। কৃষ্ণ এই গাছ ইন্দ্রলোক থেকে নিয়ে আসেন দ্বারকায়। উপহার দেন তাঁর দুই স্ত্রী রুক্মিণী ও সত্যভামাকে। পুরাণ-বেদে পারিজাতের উল্লেখ আছে। রাতে এই ফুল ফোটে, নিজেরাই খসে পড়ে মাটিতে। পারিজাতই একমাত্র গাছ, যার ফুল মাটি থেকে তুলে উৎসর্গ করা হয় ঈশ্বরদের।

পারিজাত গাছের আকার অনুযায়ী কখনও ২০ থেকে ৩০ আবার কখনও ১০০ থেকে ২০০ টাকা দামে পাওয়া যায়। সাধারণত স্বাভাবিক পরিবেশেই এই গাছ ভালো জন্মায়। তবে এই গাছ মাঝারি এবং বড় ফ্লাওয়ারপটে বাড়ির ব্যালকনিতে খুব সহজেই রাখা সম্ভব। পারিজাত গাছ বেড়ে উঠতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত সূর্যের আলো। এই ফুলের মাঝখানের অংশ গেরুয়া রঙের এবং পাপড়ির অংশ সাদা।

এই প্রসঙ্গে উত্তরপ্রদেশের নয়ডার সেক্টর ১৮-এর একটি নার্সারির মালিকের বক্তব্যে উঠে এসেছে, “সাধারণত দু’রকম কারণে পারিজাত গাছ কেনা হয়। প্রথমত, ওষুধ প্রস্তুত করতে দ্বিতীয়ত, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে। তবে মোদী জি’র অযোধ্যায় এই গাছ রোপণের পর থেকে চাহিদা এবং বিক্রি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। শেষ দু’দিনে ৬০টির বেশি গাছ বিকরি হয়েছে। এছাড়াও এই গাছের বিষয়ে জানার আগ্রহ অনেক বেশি মানুষের মধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে”।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও