স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: মুকুল রায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হচ্ছেন বলে বিজেপির অন্দরে তো বটেই রাজনৈতিক মহলেও জল্পনা চলছে। কিন্তু আপাতত সেই সম্ভাবনা দূর অস্ত বলে বাংলার একটি বহুল প্রচারিত সংবাদপত্র দাবি করেছে। এমনকি, ওই সংবাদপত্রের দাবি, তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে মে মাসের শেষে এবং জুনের প্রথমে বৈঠকও করেছেন মুকুল রায়।

ওই সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এখনই মুকুল রায়কে কোনও বড় পদে বসাতে রাজি নয়। তার একটি বড় কারণ, তাঁর বিরুদ্ধে ঝুলে থাকা সিবিআই মামলা। সিবিআই প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব দফতরের মধ্যে পড়ে। ফলে সিবিআই অভিযুক্ত মুকুলকে মন্ত্রিত্ব দেওয়া মোদী সরকারের পক্ষে সেটা চাপের। একই কারণে দলে তাঁকে কোনও বড় পদ দেওয়া হলেও, রাজ্য বিজেপির নীচের তলা থেকেও প্রশ্ন উঠতে পারে।

এ দিকে রাজ্য বিজেপিতেও মুকুল রায়কে সেভাবে কোনও দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। করোনা-আমফান ত্রাণ নিয়ে প্রায় সব দায়িত্বই সামলাচ্ছেন দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, লকেট চট্টোপাধ্যায়রা। পরিস্থিতিতে গেরুয়া শিবিরে কোণঠাসা হয়ে আবার তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন মুকুল।

ওই সংবাদপত্রের একটি সূত্র জানিয়েছে, পুরনো দল তৃণমূলের সঙ্গে মুকুল রায়ের অনেকটাই কথাবার্তা এগিয়েছে। এবিষয়ে তাঁরা মুকুল রায়ের প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছিল। কিন্তু মুকুল অবশ্য সরাসরি সবই অস্বীকার করেছেন। তাঁর কথায়, “এই সমস্ত বাজে খবর। ফালতু খবর।”
তবে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বও মুকুলের সঙ্গে যোগাযোগের কথা উড়িয়ে দিয়েছে।

দুই পক্ষই একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগের কথা এখনও পর্যন্ত নস্যাৎ করলেও তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে কয়েকটি বিষয় দেখা যাচ্ছে। যেমন রাজ্যে করোনা মোকাবিলায় বিজেপির অন্য নেতারা যে ভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ভূমিকা নিয়েছে। মুকুল রায় সে পথে হাঁটেন নি। তিনি অনেকটাই সেফ খেলেছেন। মুকুল রায় তাঁর বক্তৃতায় শুধুমাত্র নরেন্দ্র মোদী তথা কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকার প্রশংসাতেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রেখেছেন।

প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে দিল্লিতে অমিত শাহর সঙ্গে বৈঠক হয়েছে মুকুল রায়ের। তাঁর সঙ্গে দিল্লিতে গিয়েছিলেন সল্টলেকের প্রাক্তন মেয়র তথা বিধায়ক সব্যসাচী দত্ত।

শনিবার কলকাতায় ফিরে তিনি দাবি করেন, “দিল্লিতে অমিত শাহের সঙ্গে আমার আলোচনা হয়েছে। সেখানে রাজ্যের আসন্ন নির্বাচনই ছিল মূল আলোচ্য। দল এই নির্বাচনকে খুব গুরুত্ব দিচ্ছে। বিজেপি খুব ভাল ফল করবে বলে অমিতজি আশাবাদী।”

মন্ত্রিত্ব বা দলে পদ পাওয়া সম্পর্কে মুকুল রায় বলেছেন, “ও সব নিয়ে কোনও কথাই হয়নি। করোনা পরিস্থিতিতে এখন এ সব আলোচনার সময় নয়। তাছাড়া এই পরিস্থিতির জন্যই এখনই মন্ত্রিসভায় রদবদলের কথা ভাবা হচ্ছে না।”

প্রশ্ন অনেক: তৃতীয় পর্ব