স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর বান্ধবী অধ্যাপিকা বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিজেপিতে যোগদানের রাস্তা অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। মঙ্গলবার রাতেই দুজনে দিল্লির বিমান ধরেছেন বলে শোনা গিয়েছে। বুধবারই দিল্লিতে বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নেবেন, তাও প্রায় নিশ্চিত। এই পরিস্থিতিতে ২০২০ সালে কলকাতা পুরসভার নির্বাচনে শোভন চট্টোপাধ্যায় কী বিজেপির মেয়র পদপ্রার্থী ? রাজ্য রাজনীতিতে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।

২০২০ সালে ‘ছোট লালবাড়ি’ বা কলকাতা পুরসভার নির্বাচন। ২০২১ সালে মহাগুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ছোট লালবাড়ির নির্বাচন ততোধিক গুরুত্বপূর্ণ। সেই নির্বাচনে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে বিজেপি শোভন চট্টোপাধ্যায়কে সামনে রেখেই এগোতে চায় – এমন জল্পনা তৈরি হয়েছে।

রাজ্য বিজেপি সূত্রে খবর, পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের সবুজ সংকেতের পরই দলে নেওয়া হয়েছে শোভন চট্টোপাধ্যায়কে। রাজ্যের দুই পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় এবং অরবিন্দ মেনন শোভনের ব্যাপারে পার্টিকে রিপোর্ট সদর্থক দিয়েছেন। তবে, বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের কিছু দাবী নিয়ে পার্টি ভাবতে সময় নিয়েছে। শেষে ভেবেচিন্তেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শোভনকে তৃণমূলে ফেরাতে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং কলকাতার বর্তমান মেয়র ফিরহাদ হাকিম স্বয়ং চেষ্টা করেছিলেন। বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় ও চেষ্টার ত্রুটি রাখেননি। কিন্তু কাজ হয়নি। দিল্লিতে বিজেপির পথেই চলেছেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র।

শুধু প্রাক্তন মেয়রই নন, কলকাতা পুরসভার অন্যতম পুরোনো কাউন্সিলর হলেন শোভন। বেহালা এলাকায় তাঁর জনপ্রিয়তা প্রশ্নাতীত। তবে, শুধু তাই নয়, শোভন মুখ্য মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ সময়ের ছায়াসঙ্গী ছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করেননি, তখনও শোভন ছিলেন তাঁর ছায়াসঙ্গী। যুব কংগ্রেসের একজন প্রতিনিধি হয়ে জাপানে গিয়েছিলেন শোভন। খবর পান তাঁর ‘মমতাদি’ তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করেছেন। সোনা যায় জাপান থেকে এসে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন শোভন।

ছোট লালবাড়ির এই পুরোনো ঘোড়াকেই এবার পুর নির্বাচনে রথের সারথি করবে চাইছে বিজেপি – রাজ্য রাজনীতিতে অন্তত সেই জল্পনায় শুরু হয়েছে। যদিও রাজ্য বিজেপির নেতারা কিছু বলছেন না।