দেবময় ঘোষ, কলকাতা: শুরু করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নাম করে। তারপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, কার্যকরী সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডা, রাজ্যের পর্যবেক্ষক অরবিন্দ মেনন, শিবপ্রকাশ এবং সাধারণ সম্পাদক অরুণ সিং এবং অবশ্যই প্রতি মুহূর্তেই রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের নাম করেছেন শোভন চট্টোপাধ্যায়।

রাজ্য বিজেপির সদর দফতর ৬ নম্বর মুরলিধর সেন লেনে প্রথমবার সাংবাদিক সম্মেলন করতে এসে মুকুল রায়ের নাম একবারের জন্যও মুখে আনলেন না কলকাতার প্রাক্তন মেয়র। দিলীপ ঘোষকে বারবার ‘দিলীপ দা’ বলে সম্মোধন করলেন। কিন্তু, তৃণমূল কংগ্রেসে তাঁর এক সময়ের সহযোগী মুকুল রায় যেন আড়ালেই থেকে গেলেন। রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে ইঙ্গিত দিলেন যে তাঁর নির্দেশ মোতাবেক কাজ করতে চান।

২০১৭ সালের ৩ নভেম্বর বিজেপিতে আসেন মুকুল রায়। বিজেপিতে আসে মুকুল বলেছিলেন, দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বেই কাজ করবে চান। পরবর্তী কালে মুকুল দিলীপের ব্যক্তিগত সম্পর্কে ওঠা-পড়া লেগেই ছিল। কিন্তু বিজেপির দলীয় অনুশাসন তাকে মাত্রাছাড়া হতে দেয়নি। মুকুলের হাত ধরে বিজেপিতে যোগদান করেছেন অনেক ‘মুকুল-ঘনিষ্ঠ ‘রা। দলকে না জানিয়ে সেইসব যোগদান নিয়ে কম অশান্তি হয়নি। দিলীপ-গোষ্ঠী নানা ব্যাপারেই মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেছে।

অন্তর্দলীয় বৈঠকেও দিলীপ-মুকুল কথা কাটাকাটি হয়েছে বলে শোনা গিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে দিলীপ ঘোষের সম্পর্কের রসায়ন কি রকম হবে। শোভন কি তাঁর ‘দিলীপ দা’ ঘনিষ্ঠ হয়েই থাকবেন, নাকি পুরোনো বন্ধু (বা সহকর্মী) মুকুল রায়ের দিকেই যাবেন। রাজ্য বিজেপির অন্দরে একটি সূত্রের খবর, ‘দেবশ্রী রায়’ ইস্যুতে মুকুল রায়ের উপর ক্ষুব্ধ শোভন। যদিও মুকুল রায় ইতিমধ্যেই ঘনিষ্ট মহলে বলেছেন, ১৪ অগস্ট দেবশ্রীর দিল্লি বিজেপি দফতরে গমনের ব্যাপারে তিনি কিছুই জানতেন না। এই ব্যাপারে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের মতামত জানতে ফোন করা হলেও ফোন বেজে গিয়েছে।

ঘনিষ্ট মহলে মুকুল রায় কিছুদিন আগেই বলেছিলেন, শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বিজেপিতে যোগদানের শুরু থেকেই তিনি রয়েছেন। দিল্লির নেতাদের সঙ্গে শোভনের গোপন বৈঠক থেকে শুরু করে যোগদানের আগে পর্যন্ত মুকুল ছিলেন। কিন্তু, ১৪ অগস্ট, বুধবারই যে শোভন চট্টোপাধ্যায় বিজেপিতে যোগ দেবেন তা আগাম জানতেন না স্বয়ং মুকুল রায়ও। মঙ্গলবার, ১৩ অগস্ট রাতে, দিল্লি থেকে ফোন পান মুকুল। তাঁকে তড়িঘড়ি দিল্লি আসতে বলা হয়। রাতেই দিল্লির বিমান ধরেন তিনি। অরবিন্দ মেনন মুকুলকে ফোনে জানান, শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিতে যোগদান করবেন। দিল্লির ৬এ দীনদিয়াল উপাধ্যায় মার্গে বিজেপির কেন্দ্রীয় সদর দফতরে গিয়ে মুকুল শোভন-বৈশাখীর দেখা পান। শোনা গিয়েছে, মুকুল শোভনকে প্রশ্ন করেন, কেন তাঁকে একবার জানান হলো না। যদিও বিষয়টা অভিমানের পর্যায়ে গোড়ায় নি। যোগদানের সময় শোভন-মুকুল পরস্পরকে জড়িয়ে ধরেন।

ওই ছবি দেখে কলকাতায় রাজ্য বিজেপির সদর দফতরে অনেকেই বলেছেন, “পিকচার অভি বাকি হায় …।” কিন্তু, শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বন্ধু অধ্যাপিকা বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, মুকুল রায়কে যথেষ্ট শ্রদ্ধা করেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। হয়তো সাংবাদিক সম্মেলনে নাম নিতে ভুলে গিয়েছেন। যেমন তিনি সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বিএল সন্তোষের নাম নিতেও ভুলে গিয়েছেন।