কলকাতা: সুপ্রিম কোর্টের রায় সিবিআই কলকাতার নগরপালকে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি পেলেও গ্রেফতার করতে পারবে না৷ কিন্তু প্রশ্ন সারদা তদন্তে রাজ্য সরকারের গঠন করা সিট-এর বাকি সদস্যদের ভবিষ্যৎ কী? সিবিআই কি তাদের জিজ্ঞাসাবাদ, প্রয়োজনে গ্রেফতার করতে পারে? সারদা তদন্তে সিবিাই সক্রিয় হতেই জল্পনা শুরু হয়েছে পুলিশ প্রশাসনের অন্দরে৷

২০১৩ সালে সারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসতেই বাংলাজুড়ে হৈচৈ পড়ে যায়৷ তদন্তে রাজ্য সরকার তৎকালীন বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে সামনে রেখে সিট গঠন করে৷ এই সিটের অন্যতম সদস্য ছিলেন বিধাননগরের সেই সময়ের গোয়েন্দা প্রধান অর্নব ঘোষ ও বিনিত গোয়েলরা৷ এছাড়াও ছিলেন শঙ্কর ভট্টাচার্য, দিলীপ হাজরা, দেবব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও পল্লবকান্তি ঘোষ, প্রভাকর নাথরা৷

আরও পড়ুন: মোদী-শাহের মদতেই চলছে ‘অপারেশন লোটাস’, অডিও ফাঁস করে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর

সারদা তদন্তে সিবিআই এখনও পর্যন্ত সিটের সদস্য শঙ্কর ভট্টাচার্য, দিলীপ হাজরা, দেবব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও পল্লবকান্তি ঘোষের বক্তব্য রেকর্ড করেছে। তদন্তের স্বার্থে বর্তমানে কলকাতার নগরপাল ছাড়াও সিটের বাকি সদস্য বিনীত গোয়েল, অর্ণব ঘোষ, প্রভাকর নাথদের সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারীকরা৷ তারা কী সিবিআইয়ের তলব পেলে আসবেন? প্রশ্ন বিভিন্ন মহলের৷

আরও পড়ুন: কেন্দ্রকে তোপ দেগে রাজ্যে ১০ লক্ষ কর্মসংস্থানের আশ্বাস মমতার

পল্লবকান্তি ঘোষ সহ সিটের অন্যন্য বেশ কয়েকজন সজস্য সিবিআইয়ের ডাক পেয়ে হাজির হয়েছেন জিজ্ঞাসাবাদে৷ কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, রাজীব কুমারকে তদন্তের স্বার্থে বেশ কয়েকবার ডাকা হলেও আসেননি৷ উলটে জিজ্ঞাসাবাদের কারণে তাঁর বাড়িতে অভিযান করলে পুলিশের হেনস্থার শিকার হতে হয় সিবিআই আধিকারীকদের৷ পরে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, শিলং-এ জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবে রাজীব কুমারকে৷ তবে তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না৷

মনে করা হচ্ছে রাজীব কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদের পর সিটের বাকিদেরও ডাকা হতে পারে তদন্তের স্বার্থে৷ সিবিআইয়ের আশা তলব পেলে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হবেন তাঁরা৷ সিটের সদস্য অর্ণব ঘোষ বর্তমানে মালদহের পুলিশ সুপার৷ আগেই সিবিআই তলবের উপরে স্থগিতাদেশ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অর্ণববাবু৷। একই পথের পথিক হন সারদা মামলায় জড়িত নিচু তলার কয়েক জন পুলিশ অফিসারও। শীর্ষ আদালতের গত মঙ্গলবারের নির্দেশ দেখে কলকাতা হাইকোর্ট সেই স্থগিতাদেশ নিয়ে কী রায় দেয় সেদিকেই তাকিয়ে সিবিআই৷