নিউইয়র্ক : চুম্বন থেকে রোগ সংক্রমণের তত্ত্ব নতুন নয়৷ ছড়াতে পারে হার্পিস ভাইরাস৷ প্রমাণ আছে এইচআইভি সংক্রমণেরও৷ গবেষণায় ও দেখা গিয়েছে, ক্যান্সার হওয়ার জন্য দায়ী হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস সংক্রমণও সম্ভব চুম্বন থেকে৷ এমনকি করোনার মতো মারণ ভাইরাসও ছড়াতে পারে চুম্বনের মাধ্যমে। সেই কারণে একাধিক দেশ ইতিমধ্যে চুম্বনের উপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

কিন্তু চুম্বন তো এমন একটা জীবনের অঙ্গ তাকে অগ্রাহ্য করা যায় না। অথচ তার নেতিবাচক প্রভাব দুশ্চিন্তার কারণ৷ ফলে চুম্বন প্রক্রিয়ায় জীবাণু সংক্রমণ ঠেকানোর কৌশল বের করতে মাথা ঘামাতে নেমে পড়েছে বিশ্বজুড়ে একদল চিকিৎসক বিজ্ঞানীরা৷ সকলেই খুঁজছেন এমন জীবাণুনাশক ওরাল মাউথওয়াস৷

যার সাহায্যে মুখের ভিতরে থাকা সংক্রামক ব্যাধির জীবাণু নষ্ট করা সম্ভব৷ আংশিক ভাবে কিছুটা এগিয়েছেন অনেকেই৷ তবে, হার্পিস-এইচআইভি- হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসকে কাবু করার মতো রাসায়নিকের খোঁজ মিলছিল না৷

এবার সেই অসাধ্য সাধনে নতুন দিশা দেখাচ্ছে অশ্বিন মার্কো নামে এক ভারতীয় তরুণী চিকিৎসক বিজ্ঞানী৷ জৈব্য রাসায়নিকের সঙ্গে অজৈব্য রাসায়নিক মিশিয়ে তিনি একটি বিশেষ ধরনের মাউথ ওয়াশ তৈরি করেছেন৷

কাজে লেগেছে কিছু জনপ্রিয় ফল থেকে নিষ্কাশিত রসও৷ ফলগুলো হল, বেদানা আর জাম৷ প্রাথমিক পরীক্ষায় এটায় যথেষ্ট ভালো ফল মিলেছে৷ অশ্বিন মার্কো অবশ্য জানিয়েছেন, চূড়ান্ত কিছু বলার এখনও সময় আসেনি৷যদিও প্রাথমিক ফলাফল যথেষ্টই উৎসাহব্যাঞ্জক৷ ইতিমধ্যে এই গবেষণার কিছু অংশ প্রকাশিত হয়েছে পাবমেড নামে গবেষণা পত্রিকাতে৷

বেদানা আর জাম খেলে তা স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো তা বহুদিন ধরে আমাদের জানা৷ এমনকি ওই দু’টি ফল খাওয়ার পর মুখটাও তাজা লাগে৷ কিন্ত্ত এই দু’টি ফলের রসের প্রভাবে ভাইরাস নষ্ট হয় তা জানা ছিল না৷

বস্টন ইউনিভার্সিটিতে গবেষণারত অশ্বিন মার্কোর দলবল দাঁত ও মুখ গহ্বরের সংক্রমণ নিয়ে গবেষণা করছিলেন৷ সেই গবেষণা করার সময় প্রথম ধাপে একটি বিশেষ সফটওয়্যার তৈরি করেন৷ জিআইএস (জিয়োগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সিস্টেম) নির্ভর ওই সফটওয়্যার৷

এর সাহায্যে কোনও বিশেষ অঞ্চলে কী কী রোগের চিকিৎসার পরিকাঠামোগত ঘাটতি ও রোগের প্রকোপ রয়েছে তা চিহ্নিত করা সম্ভব৷ সমীক্ষকরা মোবাইলে এই সফটওয়্যার অ্যাপ ডাউনলোড করে সমীক্ষা চালাতে পারবেন৷ তথ্য সংগ্রহ হওয়ার পর এই বিশেষ সফটওয়্যার নির্দিষ্ট ফলাফল ও সুপারিশ করতে সক্ষম৷

গবেষকরা এর সাহায্যে দেখিয়েছেন, দাঁতের চিকিৎসার পরিকাঠামো কম রয়েছে দক্ষিণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওই অঞ্চলে৷ সেই কাজ করতে গিয়েই নজরে আসে ওই অঞ্চলের মানুষমাড়িতে ও মুখের ভিতরে সংক্রমণে নাজেহাল৷ এরপরই গবেষকরা শুরু করেন মুখের ভিতর ও মাড়ির সমস্ত রকমের জীবাণু সংক্রমণ নাশ করতে সক্ষম এমন একটি বিশেষ মাউথ ওয়াস তৈরি চেষ্টা শুরু হয়৷

খুঁজতে খুঁজতে সলিউশন এক্স রাসায়নিকের খোঁজ পান ভারত ও চিনের প্রাচীন পুঁথিতে৷ সকলের প্রিয় বেদানা আর জাম-এর মধ্যেই নজরে এল এমন এক বিশেষ রাসায়নিক যা কঠিনতম ভাইরাসকেও কাবু করতে সক্ষম৷

তবে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে আরও সময় লাগবে বলেই জানিয়েছেন বস্টন ইউনিভার্সির গবেষরা৷ তবে গবেষকদের আশ্বাস, অচিরেই মারণ ভাইরাসের সংক্রমণের ভয় না পেয়ে নিশ্চিন্তে চুম্বন করতে পারবেন৷ শুধুমাত্র চুম্বনের আগে ওই বিশেষ মাউথ ওয়াসের প্রয়োগ৷

তবে করোনার বিষয় কিছু জানা যায়নি।

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা