সৌরভের শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রতিবেদন

সুমন ভট্টাচার্য : বাঙালির গর্ব সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় কেন বার বার অসুস্থ হচ্ছেন? সত্যিই কি তাঁর উপর কোনও চাপ রয়েছে?

লিখলেন– সুমন ভট্টাচার্য

৭ জানুয়ারি হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার ঠিক ২০ দিনের মাথায় আবার ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের সভাপতিকে বুধবার কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর এই প্রশ্নটা মাথায় এল। একজন নিছক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ভক্ত হিসেবেই আরও অনেকের মতো আমিও প্রাক্তন ভারত অধিনায়কের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন। এবং সেই পরিপ্রেক্ষিতে কেন দেবী শেঠির মতো ভারত-বিখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ সব সৌরভ অনুরাগীদের আশ্বস্ত করে যাওয়ার পরেও তিন সপ্তাহের মধ্যে ‘প্রিন্স অব ক্যালকাটা’ হাসপাতালে, তাই নিয়ে চিন্তা তৈরি হয়েছে। এর আগেরবার সৌরভ যখন অসুস্থ হয়ে দক্ষিণ কলকাতার উডল্যান্ডস হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন, তখন খোদ দেবী শেঠি এই বাঙালি ‘আইকন’-এর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে আস্বস্ত করেছিলেন। দেবী শেঠির বক্তব্য ছিল, সৌরভের যা শারীরিক অবস্থা তাতে তিনি অনায়াসে বিমান চালানোর মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজও করতে পারবেন।

তাহলে কেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বুধবার ফের হাসপাতালে? প্রথমবার যখন তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, সেই সময় তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন শিলিগুড়ির মেয়র এবং সিপিএম নেতা অশোক ভট্টাচার্য।

সিপিএমের প্রাক্তন মন্ত্রী বহুদিন ধরেই বেহালার ‘যুবরাজ’-এর বিশেষ ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। সৌরভকে দেখে বেরিয়ে এসে তিনি সাংবাদিকদের কাছে পরিষ্কার বলেছিলেন, প্রাক্তন ভারত অধিনায়কের উপরে ‘মানসিক চাপ’ রয়েছে। এবং সেই চাপ রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার চাপ। তিনি, মানে অশোক ভট্টাচার্য, ব্যক্তিগত শুভানুধ্যায়ী হিসেবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতিকে পরামর্শ দিয়েছেন, রাজনীতিতে যোগ না দেওয়ার জন্য। অশোক ভট্টাচার্যর ইঙ্গিতটা পরিষ্কার ছিল বিজেপির দিকে। অর্থাৎ তিনি বলতে চেয়েছিলেন, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে সৌরভ যাতে পশ্চিমবঙ্গের ‘মুখ’ হয়ে ওঠেন, এবং ভোটে গেরুয়া শিবিরের হয়ে প্রচার করেন, সেই নিয়ে প্রাক্তন ভারত অধিনায়কের উপর চাপ রয়েছে।

অশোক ভট্টাচার্য পরিষ্কার ভাবে এটা বলার কয়েক দিনের মধ্যেই রাজ্যের বর্তমান মন্ত্রী এবং বিশিষ্ট নাট্যকার ব্রাত্য বসুও একই ইঙ্গিত দেন। তিনিও বলেছিলেন, যেহেতু সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি, তাই তাঁর উপরে কেন্দ্রের শাসক দলের চাপ রয়েছে।

সিপিএম এবং তৃণমূল, যেহেতু রাজনৈতিক ভাবে বিজেপির বিরোধী এবং দীর্ঘদিন ধরেই এই জল্পনা রয়েছে, যে গেরুয়া শিবির সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে পশ্চিমবঙ্গে ‘মুখ’ করে তুলে নির্বাচন লড়তে চায়, তাই তাঁরা যে এই বিষয়ে খোঁচা দেবেন, সেটা বলাই বাহুল্য। কিন্তু অশোক ভট্টাচার্য কিংবা ব্রাত্য বসুর বক্তব্য আলাদা গুরুত্ব পেয়ে যায় যখন উডল্যান্ডস থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তিন সপ্তাহ কাটতে না কাটতেই শারীরিক অশ্বস্তির কারণেই বোর্ড সভাপতিকে ফের কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এবং হাসপাতালের বাইরে এসে যতই জগমোহন ডালমিয়ার মেয়ে ও সিএবি কর্তা অভিষেক ডালমিয়ার দিদি বৈশালী ডালমিয়া বলুন যে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের কোনও সমস্যা নেই, আমাদের মতো সৌরভ-ভক্তদের আশঙ্কার নিরসন হয় না। বরং বাড়ে। কারণ, ইতিমধ্যেই তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া বালির বিধায়ক বৈশালী ডালমিয়া বিজেপির দিকে যেতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা। তাই বৈশালী ‘প্রিন্স অব ক্যালকাটা’-র উপর কোনও মানসিক চাপ থাকার ‘জল্পনা’ রটলে সেটাকে যে অস্বীকার করতে চাইবেন, তা সহজেই অনুমান করে নেওয়া যায়।

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের সভাপতি হওয়ার সময় থেকে তাঁর সঙ্গে বিজেপির যোগাযোগ হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা। কারণ, সেই সময়ে তাঁকে ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বোচ্চ পদ পেতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সাহায্য করেছিলেন বলে মনে করা হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সৌরভের নির্বাচনের সময়ই অমিত শাহের পুত্র জয় শাহ-ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সচিব পদে আসীন হন। তারপর থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেহেতু ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের সভাপতি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেখা হয়েছে, তাই সৌরভ এই রাজ্যে বিজেপির ‘মুখ্যমন্ত্রীর মুখ’ হয়ে উঠতে পারেন, এই রাজনৈতিক জল্পনা গত কয়েক মাসে একেবারে পল্লবিত হয়েছে।

একজন ক্রিকেট ‘আইকন’, সফল ক্রিকেট প্রশাসক থেকে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় রাজনীতিতে পা রাখার ঝুঁকিটা নেবেন কি না, গত কয়েক মাস ধরেই সেটা অন্যতম চর্চার বিষয়। এই চর্চা রাজনৈতিক জল্পনার মধ্যেই পর পর দু’বার সৌরভের অসুস্থ হওয়া, প্রথমবার স্টেইন বসানো এবং তাঁর এই অসুস্থতার পেছনে ‘মানসিক’ চাপ রয়েছে বলে অশোক ভট্টাচার্যের মন্তব্য আমাদের অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি করে দিয়েছে। সত্যিই কি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় মানসিক চাপ নিতে পারছেন না বলে বার বার অসুস্থ হয়ে পড়ছেন? কোনও রাজনৈতিক চাপেই কি বাঙালির গর্ব সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় হৃদপিন্ডের ধমনীতে এত সমস্যা দেখা দিয়েছে?

বুধবার বিকেলে সৌরভের ফের অ্যাপোলোতে ভর্তি হওয়া আমাদের, তাঁর ভক্ত বাঙালিদের, ‘মহারাজ’ ভক্ত ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে অনেক প্রশ্ন তৈরি করে দিয়েছে। এবং সেটা ক্ষমতার অলিন্দে এমন কোনও কিছু কি হচ্ছে, যা সৌরভকে চাপে রাখতে পারে? সংশয় তা নিয়েই।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।