ফাইল: খাগড়াগড় বিস্ফোরণ স্থলে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল

নিখিলেশ রায়চৌধুরী: ঢাকার গুলশন হামলার বেশ কিছু দিন পর কলকাতা 24×7-এই একটি বিশেষ প্রতিবেদনে প্রথম প্রকাশিত হয়, সন্ত্রাসবাদীরা সেখানে যে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছিল তা তৈরি হয়েছিল মুঙ্গেরের বেআইনি অস্ত্র কারখানায়৷ এ কথা জানিয়েছিলেন বাংলাদেশেরই গোয়েন্দাবাহিনীর সন্ত্রাস দমন শাখার প্রধান মনিরুল ইসলাম৷ ফিদায়েঁদের মারণাস্ত্র একে-২২-র গায়ে খোদাই করা ছাপ দেখেই বাংলাদেশের গোয়েন্দারা সে সম্পর্কে নিশ্চিত হন৷ তাঁদের বক্তব্য, সম্ভবত মালদহের আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়েই ওই অস্ত্র বাংলাদেশে ঢোকে৷ সম্প্রতি কলকাতার আশপাশের অঞ্চলে পুলিশ একের পর এক বেআইনি অস্ত্র কারখানার সন্ধান পেয়েছে৷ এই কারখানাগুলি যারা ফেঁদে বসেছিল তাদের অধিকাংশই বিহারের বাসিন্দা৷ প্রথমে এ রকম কারখানার সন্ধান মেলে কলকাতার দক্ষিণ শহরতলির রবীন্দ্রনগরে৷ তার পর বারুইপুর, সোনারপুর, আবারও রবীন্দ্রনগর এবং ক্যানিংয়ে৷ হালে এতগুলি কারখানার হদিশ মেলার কারণটা কি গুলশন হামলারই চেন রিঅ্যাকশন? মুঙ্গেরি অস্ত্র নির্মাতারা কি গ্রেফতারি এড়াতে ইদানীং কলকাতার আশপাশের জনবহুল অঞ্চলকেই বেছে নিয়েছে?

নিখিলেশ রায়চৌধুরী
নিখিলেশ রায়চৌধুরী

এর আগেও এই ধরনের অস্ত্র কারখানার হদিশ কলকাতা বন্দর এলাকা এবং বিশেষ করে ২৪ পরগনা, হাওড়া ও হুগলির বিভিন্ন জায়গায় মিলেছে৷ কিন্তু এ রকম ব্যাপক হারে ও কলকাতার একেবারে গা ঘেঁসে পর পর এই ধরনের অস্ত্র কারখানা গজিয়ে উঠতে আগে কখনও দেখা যায়নি৷ তাহলে কি বিহারের পর পশ্চিমবঙ্গেও এটাই আপাতত মার্কামারা ক্ষুদ্র ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের পর্যায়ে পৌঁছে গেল? লক্ষণ মোটেই ভালো নয়৷

ঠিকমতো বললে, ২০১৪ সালের খাগড়াগড় বিস্ফোরণ কাণ্ডই প্রথম এ ব্যাপারে চোখ খুলে দেয়৷ তার পরেই এ রাজ্যে ছুটে আসেন এনআইএ-র প্রধান অজিত দোভাল স্বয়ং৷ কিন্তু নাশকতা ও সন্ত্রাসের সঙ্গে ক্রিমিন্যালদের যোগসাজশের ব্যাপারটা যে বাংলায় ক্রমে এতটাই বিরাট গ্যাংগ্রিনের আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে, তা কি খুব অভাবনীয় ছিল?

বোঝা তখনই উচিত ছিল যখন অপহৃত খাদিম কর্তা পার্থ রায় বর্মনের মুক্তিপণের টাকা দাউদের হাওয়ালা চ্যানেলে পৌঁছেছিল আরব দুনিয়ায় আল-কায়েদার অন্যতম পাণ্ডা খালিদ শেখ মহম্মদের হাতে৷ তার পর সেই টাকাতেই ঘটানো হয়েছিল 9/11৷ বোঝা উচিত ছিল তার পরেও, যখন আক্রান্ত হয়েছিলেন মার্কিন তথ্য কেন্দ্রের সামনে প্রহরারত নিরাপত্তারক্ষীরা৷ কিন্তু এ রাজ্যে বহু দিনই প্রশাসনে যাঁরা থাকেন তাঁরা কিছু বুঝেও বোঝেন না, জেনেও জানেন না, ঠেকে শিখেও শেখেন না৷ অতএব ভিন রাজ্য থেকে এসে সেখানকার পুলিশকে এ রাজ্যে লুকিয়ে থাকা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে চুপিসাড়ে অপারেশন চালাতে হয়৷ ঠিক যেমন খলিস্তানি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে তিলজলায় চালিয়েছিল পাঞ্জাব পুলিশ৷ অপারেশন সফল হওয়ার পরই তারা সব কিছু এ রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েছিল৷ জানার পর জ্যোতিবাবু একেবারে খাপ্পা হয়ে গিয়েছিলেন৷ তার পরেও কিন্তু একইভাবে অপারেশন চালিয়েছে অন্য রাজ্যের পুলিশ৷ তার কারণ, যে কোনও কারণেই হোক, বহু দিন যাবৎ তারা এখানকার পুলিশ প্রশাসনের উপর ভরসা করতে পারে না৷ পাছে খবর ফাঁস হয়ে যায়!

খাগড়াগড় কাণ্ডের পর এখনও পর্যন্ত মনে হচ্ছে, এ রাজ্যে প্রশাসন কিছুটা হলেও হুঁশে ফিরেছে৷ না হলে হালে এতগুলি অস্ত্র কারখানা ধরা পড়ত না৷ কিন্তু মুশকিল হল, বহু বছর ধরে এই রাজ্যে ডি-কোম্পানি বেনামে ফলাও কারবার ফেঁদে বসেছে এবং রং-বেরঙের বহু রাজনীতিক থেকে আমলা-অফিসার তাদের আশীর্বাদধন্য৷ এই অবস্থায় তারা যদি বেকায়দায় ফেঁসে পিন ফোটাতে আরম্ভ করে দেয়, তাহলে অনেকেরই সাধের তাসের ঘর ভেঙে পড়বে৷ সুতরাং, দোভালদের যা করার তা যত দ্রুত সম্ভব করতে হবে৷ সীমান্তপারের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের মতো পশ্চিমবাংলার দুষ্কৃতী-সন্ত্রাসী সাপের ডেরাগুলো ভাঙতেও বেশ কিছু মাখনের মধ্যে ছুরি চালানোর মতো অপারেশন দরকার৷ অযথা দেরি করলেই ‘মধ্যবর্তী’রা সমস্ত চিহ্ন লোপাট করে দেবে৷

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ