সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : করোনার সময়। ব্যাপক হারে বেড়ে গিয়েছে স্যানিটাইজারের ব্যবসা। শুরু হয়ে গিয়েছে নকল স্যানিটাইজারের ব্যবসাও। নকল স্যানিটাইজারে ভরে গেছে শহর। তা দিয়েই স্যানিটাইজ করা হচ্ছে বাড়ি থেকে শুরু করে গাড়ি ও। নিরাপদ কতটা? উঠছে প্রশ্ন। তিনি নিয়ে এসেছেন আসল ‘স্যানিটাইজার গান’। মারলেন বৃদ্ধাশ্রমের সমস্ত জীবাণু।

রাখী বন্ধন উপলক্ষ্যে এটাই তাঁর উপহার বৃদ্ধাশ্রমের দিদিদের। সুরক্ষার বন্ধনে বাঁধলেন তাঁদের। তিনি সবার জিনা ভাই। আসল নাম অভিষেক। আমেরিকা থেকে ভারতে এমনই মেশিন আমদানি করলেন জিনা ভাই| জীবাণু নাশ করছেন বলে এলাকায় নাম হয়ে গিয়েছে জিনা ভাই। বৃদ্ধাশ্রমের দিদিভাই রাও তাঁকে এই নামেই ডাকছেন। এমন ভাই কোথায় পাওয়া যায়? জিনা ভাই দিলেন ‘অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল প্রটেকশন ইলেকট্রোস্ট্যাটিক ফগ গান ৩৬০ ডিগ্রী’। যা দিচ্ছে তিন মাস জীবাণুমুক্ত থাকবার সার্টিফিকেট। ভারতে প্রথম এই ব্যয়বহুল স্যানিটাইজার দিয়ে পুরো বৃদ্ধাশ্রম জীবানুমুক্ত হল। রাখী বন্ধনের বন্ধন রক্ষা করার এই অটুট বন্ধনটাই উপহার দিলেন সবার জিনা ভাই ওরফে অভিষেক।

রাখির প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে ঘরে ঘরে। ভাই-বোনের এই চিরন্তন উত্‍সব বহু বছর ধরে চলে আসছে। ইতিহাসে বারবার রাখির উল্লেখ পাওয়া যায়। পুরাণেও রাখির শুরু কী ভাবে হল সেই বিষয়ে একাধিক গল্প আছে। পুরাণ বলছে একবার দেবতা ও রাক্ষসদের যুদ্ধে দেবতারা তখন প্রায় পরাজয়ের মুখে, দেবরাজ ইন্দ্র তখন তাঁর গুরু বৃহস্পতির সাহায্য চান। বৃহস্পতির পরামর্শ মতো শ্রাবণ পূর্ণিমায় ইন্দ্রের স্ত্রী সচী একটি মন্ত্রপূত রাখির ইন্দ্রের হাতে বেঁধে দেন। তারপরই যুদ্ধে জয়লাভ করেন দেবতারা। আরও বলা হয় যে যমের অমরত্বের প্রার্থনা করে তাঁর বোন যমুনা তাঁর হাতে একটি রাখি পরিয়ে দেন। এরপরই যমরাজ কথা দেন যে যাঁর হাতে তাঁর বোন হাতে রাখি পরিয়ে দেবেন, তাকে তিনি স্বয়ং রক্ষা করবেন। মহাভারতেও রাখির উল্লেখ পাওয়া যায়। রাজসূয় যজ্ঞের সময় শিশুপালকে হত্যার পরে কৃষ্ণের একটি আঙুল কেটে রক্ত পরতে থাকে। দ্রৌপদী তখন নিজের শাড়ি ছিড়ে ক্ষতস্থানে বেঁধে দেন। এর পরিবর্তে কৃষ্ণ তাঁকে সবরকম বিপদে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দেন।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ