বেশ কিছুদিন আগে খুন হন নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস৷ তারপরেই আচমকা গৃহবধূ থেকে রাজনীতির উঠোনে চলে এসেছেন তাঁর স্ত্রী রুপালি৷ রাণাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তিনি৷ কোলে তাঁর ছোট্ট দেড় বছরের ছেলে৷ উপায় নেই, তাই ছেলে কোলে নিয়েই চলছে ভোট প্রচার৷ পাচ্ছেন সহানুভূতি৷

যদি জিততে পারেন তাহলে সংসদে গিয়ে কী ভূমিকা রাখবেন? সেই নিয়ে চলছে চর্চা৷ ইতিমধ্যেই নদিয়ার তাবড় দুই তৃণমূল নেত্রী রাজনীতির অ-আ ক-খ পাঠ পড়াচ্ছেন রুপালিকে৷ একজন চাকদহ বিধানসভার বিধায়ক তথা মন্ত্রী রত্না ঘোষ৷ অন্যজন নদিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি রিক্তা কুণ্ডু৷ সবমিলে খানিকটা আত্মবিশ্বাসী রুপালি বিশ্বাস৷ কথা বললেন www.kolkata24x7.com-এর প্রতিনিধি নিবেদিতা দে-র সঙ্গে৷

Kolkata 24×7-রাজনীতির ময়দানে একেবারেই আনকোরা, নির্বাচনে জিতলে সাংসদ হয়ে প্রথম কী করবেন?

রুপালি বিশ্বাস- মানুষের চাওয়া-পাওয়াকে গুরুত্ব দেব৷ মানুষের দাবিগুলিকে আমি পার্লামেন্টে তুলে ধরতে চাই৷ আমার স্বামীর অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করব৷ কারণ আমার স্বামী বেঁচে থাকাকালীন আমি দেখেছি প্রতিদিন তিনি কিভাবে মানুষের সমস্যার সমাধান করেছেন৷ প্রতিদিন আমার বাড়িতে প্রচুর মানুষে আসতেন বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে৷ তাই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে দিয়েই আমি আমার স্বামীকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই৷ সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে যে গুরুদায়িত্ব দিয়েছেন তার মর্যাদা রাখব৷ তাঁর উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাব৷

Kolkata 24×7- আপনার লোকসভা কেন্দ্রের অনেকটা অংশ জুড়ে রয়েছে মতুয়ারা, আপনার স্বামীও মতুয়া নেতা ছিলেন৷ তো মতুয়াদের নিয়ে কোনও আলাদা ভাবনা?
রুপালি বিশ্বাস- আমার স্বামী সত্যজিৎ বিশ্বাস মতুয়া নেতা ছিলেন৷ মতুয়া সমাজে তাঁর একটা আলাদা সম্মান ছিল৷ তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে লড়াই করেছেন৷ আর আমি আগেই বলেছি আমার রাজনৈতিক কর্মযজ্ঞের মধ্যে দিয়ে সত্যজিৎ বেঁচে থাকবে মানুষের মধ্যে৷ মানুষ তাঁকে স্মরণ করবে৷ তাই জন্যই এই গুরুদায়িত্ব আমি মাথায় নিয়েছি৷ ওর অকালে মৃত্যু আমি মেনে নিতে পারি না৷ সর্বোপরি আমি মতুয়া পরিবারের বৌ৷ তাই মতুয়ারা আমাকে ভোট দিয়ে জিতিয়ে আনলে তাদের জন্য যা করণীয় সবটাই করব৷

Kolkata 24×7- আপনার একটি পুত্র সন্তান রয়েছে, কিন্তু ভোটে জিতে সাংসদ হলে আপনাকে বেশিরভাগ সময়টাই দিল্লিতে কাটাতে হবে৷ সেক্ষেত্রে কীভাবে সামলাবেন সবটা?
রুপালি বিশ্বাস- যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে৷ তাই আমিও সবটা সামলে চলব৷ আর এখন তো মহিলারা অনেক এগিয়ে৷ পুরুষদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলছেন মহিলারা৷ আমারও সমস্যা হবে না৷ তাছাড়া স্বামী মারা যাওয়ার পর ছোট ছেলেকে নিয়ে যে কঠিন সময় আমি কাটিয়ে উঠেছি, আর সেটা যখন পেরেছি এটাও পারব৷ তাছাড়া আমার পরিবার সঙ্গে রয়েছে৷ স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী রয়েছেন৷ নদিয়ার সমস্ত দলীয় নেতা-নেত্রীরা ভীষণভাবে আমাকে সাহায্য করছেন৷ তাই আমার চিন্তা কি!

Kolkata 24×7- সবে বাবাকে হারিয়েছে ছোট্ট জিৎ, এখন ভোটের প্রচারের জন্য মাকেও সারাদিন কাছে পাচ্ছে না সে, বিষয়টাকে কিভাবে ম্যানেজ করছেন?
রুপালি বিশ্বাস- যেহেতু জিৎ খুব ছোট, তাই একটু সমস্যা তো হচ্ছেই৷ প্রথম প্রথম তো ছেলেকে নিয়েই প্রচারে বেরিয়েছি৷ কিন্তু কদিন পর এত গরমে রোদ্দুরে ওর শরীর খারাপ হয়ে যায়৷ তাই এখন বাড়িতে রেখেই বেরোচ্ছি৷ আমার মা এসে রয়েছেন৷ সেই দেখভাল করছেন জিতের৷ কখনও আমার দিদিও আসেন৷ কারণ প্রচার সেরে আমার বাড়ি ফিরতে রাত হয়ে যায়৷ আর টানা এতটা সময় জিৎ থাকতে চায় না, খুব বায়না করে৷ আমার দিদি আসে ওকে সামলায়৷

Kolkata 24×7- প্রখর রোদে কিভাবে প্রচার চালাচ্ছেন?
রুপালি বিশ্বাস- খুব গরম পড়েছে কদিন যাবৎ৷ তবে ভোট কিন্তু গরমেই হয়৷ আর আমি গ্রামবাংলার মানুষ গরম সহ্য করার ক্ষমতা রয়েছে৷ তবে রোদে ঘুরে ঘুরে ট্যান পড়ে গিয়েছে৷ মানুষের আশীর্বাদে ভোটে জিতে আসলে এসব দুঃখ তুচ্ছ মনে হবে৷ তাই এখন পুরো কনসেন্ট্রেশনটাই প্রচারে৷

Kolkata 24×7- আপনার প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের কি বলবেন?
রুপালি বিশ্বাস- শুভেচ্ছা থাকল লড়াইয়ের ময়দানে৷ এর আগে কখনও এরকম লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা নেই আমার৷ তবে আমার আত্মবিশ্বাস, মনের জোর সাংঘাতিক৷ আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার সঙ্গে রয়েছেন, তাঁর উন্নয়ন রয়েছে৷ আমি জিতছি এটুকু আত্মবিশ্বাস রয়েছে আমার৷