সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : সারাবিশ্ব কাঁপছে করোনা আতঙ্কে। পশ্চিমবঙ্গেও থাবা বসিয়েছে ভাইরাস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখনও বলতে পারেনি এই ভাইরাস মারার অস্ত্র। বাঙালি কিছু না পেলে নিজের পথ তৈরি করে নেয়। এখানে সেই পথও বন্ধ। বদ্ধ জীবনে থাকাই করোনা থেকে রক্ষার আসল অস্ত্র। এমন সময়ে মুখে ক্ষণিকের হাসি দিতে পারে মিষ্টি। সেটাই চেষ্টা করেছে শহরের এক নামজাদা মিষ্টির দোকান। বানিয়ে ফেলেছে করোনা মিষ্টি ও কেক।

পিঙ্ক বলের টেস্ট, কখনও বিশ্বকাপ ফুটবল বা বিশ্বকাপ ক্রিকেট এসব সময়েই বিশেষ মিষ্টি তৈরি করতে দেখা যায়। কখনও নির্বাচনের ফলাফলের আনন্দ প্রকাশ করতে তৈরি হয় বিশেষ মিষ্টি। কিন্তু এখন করোনা কাল। রাস্তায় লোক নেই, পাড়ায় নেই আড্ডা, মনে নেই শান্তি, সদা বিরাজমান করোনা চিন্তা। গ্রাস করে রয়েছে আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা। এমন দিনে মিষ্টি , কেক? আনন্দ দেবে কী? হিন্দুস্তান সুইটসের করোনা মিষ্টি নির্মাতারা জানাচ্ছেন নতুন এই মিষ্টি তৈরির উদ্দেশ্য কোনও সেলিব্রেশন নয়। শুধু এই দুঃসময়কে বার্তা দেওয়া যে, শত দুঃখ , ভয়েও মিষ্টি প্রিয় বাঙালি মিষ্টি সময়কে খুঁজে নেয়। সে যেভাবেই হোক। মাধ্যমে হতে পারে এই মিষ্টিও। সম্পূর্ণ সামাজিক কর্তব্য ছিল এই মিষ্টি তৈরিতে। এমনটাই জানাচ্ছেন বিক্রেতারা। করোনা সন্দেশের স্বাদ মানুষকে খুশি করবে বলে আশা তাঁদের। কলকাতা শহরের প্রসিদ্ধ এই মিষ্টির দোকান হিন্দুস্তান সুইটসের কর্ণধার রবীন পাল বলেন, ‘গোটা দেশে আলোড়ন ফেলে দেওয়া করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক এখন সর্বত্র। তাই এই আতঙ্কের আবহে সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে তৈরি করা হয়েছে এই বিশেষ করোনা সন্দেশ ও কেক করা হয়েছে।’করোনা জন্য একঘেয়ে লকডাউনে একটু হলেও খুশির রেশ দিতে পারে করোনা মিষ্টি।’ বাজারে আসার পর থেকে ভালোই বিক্রি হচ্ছে এই ‘বিশেষ’ মিষ্টি।

প্রসঙ্গত, দেশজুড়ে ২১ দিনের লকডাউনে বন্ধ ছিল রাজ্যের সমস্ত মিষ্টির দোকান। কিন্তু দুধ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় ২৯ মার্চ হঠাৎ সিদ্ধান্ত হয় এবার থেকে খোলা থাকবে পশ্চিমবঙ্গের মিষ্টির দোকানগুলো। তবে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। এরপর থেকেই দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকছে কলকাতা মিষ্টির দোকানগুলো। এমন সময়ে অভিনব মিষ্টি পেয়ে খুশি কলকাতার বাঙালিরা। দেদারসে বিক্রি হচ্ছে এসব মিষ্টি। মাত্র ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই শো-কেস ফাঁকা। শুধু করোনা সন্দেশই নয়, পাশেই রাখা রয়েছে করোনা কেকও।

এছাড়া দক্ষিণ কলকাতার আরও একটি দোকান যাদবপুর সুইটস। তারাও এক নতুন মিষ্টি বানিয়ে নাম দিয়েছে ‘অ্যান্টি করোনা সুইট’। সেখানে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে মিষ্টি। মিষ্টি খাইয়ে তো বটেই, এমনকি মিষ্টির প্যাকেটেও করোনা সম্পর্কে সচেতনতার বার্তা প্রচার করা হচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে।