ফাইল ছবি

নয়াদিল্লিঃ  জল্পনার অবসান। বিজেপিতেই যোগ দিচ্ছেন কলকাতার প্রাক্তন মহানাগরিক শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। বিকেল সাড়ে চারটের সময় দিল্লির বিজেপি সফর দফতরে তাঁরা জার্সি বদলাচ্ছেন বলে জানা যাচ্ছে। বিজেপিতে যোগদানের আগে অবশ্য দফায় দফায় বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন শোভন এবং বৈশাখী। শুধু তাই নয়, রাজ্য নেতৃত্বের কাছ থেকে সবুজ সঙ্কেত পাওয়ার পরেই যোগদানের বিষয়ে কথাবার্তা পাকা হয় বলে সূত্রে জানা গিয়েছে।

মঙ্গলবার বিজেপিতে যোগদানের বিষয়ে সবুজ সঙ্কেত পায় শোভন এবং বৈশাখী। এরপর মঙ্গলবার রাতেই ১০টা ৪০-এ দিল্লির বিমান ধরেন কলকাতার প্রাক্তন মহানাগরিক এবং তাঁর খুব কাছের বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়।

উল্লেখ্য, গত একবছর ধরে তৃণমূলের সঙ্গে ক্রমশ দূরত্ব তৈরি হয়েছিল শোভন চট্টোপাধ্যায়ের। এমনকি খোদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে কাতার মেয়র ও রাজ্যের মন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। এমনকি গত কয়েক বছর ধরে স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গেও দূরত্ব বেড়েছে শোভনের। বর্তমানে গোলপার্কের বাড়িতেই থাকেন শোভন চট্টোপাধ্যায়।

জানা যায় একদিকে যখন তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে শোভনের অন্যদিকে গোপনে তাঁর সঙ্গে যোগযোগ করে বিজেপি নেতৃত্ব। জানা যায়, এই বিষয়ে কিছুটা সবুজ সঙ্কেত দেন শোভন-বৈশাখীও। যদিও সেই আভাস পেয়ে তাঁর বাড়ি তড়িঘড়ি ছুটে যান তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। মূলত তাঁকে দলে ফেরাতেই শোভনের সঙ্গে পার্থের সাক্ষাৎ ছিল।

কিন্তু হঠাত করেই মঙ্গলবার মেয়র-মন্ত্রীত্বর পর বিধানসভার ফিশারিজ স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেন তৃণমূল বিধায়ক ও প্রাক্তন মহানাগরিক শোভন চট্টোপাধ্যায়৷ মঙ্গলবার বিকেলে ফ্যাক্স করে বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দেন তিনি। গত বছর নভেম্বর মাসে মেয়র ও মন্ত্রী পদ ছাড়ার পর শোভন চট্টোপাধ্যায়কে বিধানসভার মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ দফতরের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছিল।

জানুয়ারি মাসে তাঁকে এই পদে বসানো হলেও একটিও বৈঠকে যোগ দেননি তিনি। সম্প্রতি শোভন চট্টোপাধ্যায়কে ফোন করে স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকে যোগ দিতে বলেন স্পিকার। সৌজন্য বিনিময় করে শোভন চট্টোপাধ্যায় কথা দেন পরবর্তী বৈঠক থেকে বিধানসভায় আসবেন তিনি। এরপরই আচমকা ইস্তফাপত্র পাঠান শোভন চট্টোপাধ্যায়৷ বিজেপিতে যোগদানের বিষয়ে সবুজ সঙ্কেত পাওয়ার পরেই ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন কলকাতার প্রাক্তন মহানাগরিক।