কলকাতা: কয়েক মাসের ব্যবধানে ফের সংবাদ শিরোনামে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। মঙ্গলবার তৃণমূলের মহসাচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে শোভনের বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎ ঘিরে ফের নয়া জল্পনা শুরু। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, শীঘ্রই ‘ঘরওয়াপসি’ হতে চলেছে একদা দিদি-ঘনিষ্ঠ কাননের। তবে সূত্রের দাবি, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে নাকি শোভনের তৃণমূলে ফেরা নিয়ে কয়েকটি শর্ত দিয়েছেন বৈশাখী। রত্না চট্টোপাধ্যায় তৃণমূলে থাকলে নাকি শোভনের দলে ফেরা সম্ভব নয়, বৈশাখীকে দিয়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে নাকি এমনই বার্তা পাঠিয়েছেন শোভন। আর তা নিয়েই এবার মুখ খুললেন শোভন চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়। রত্নার সাফ জবাব,‘আমাকে দলে পদ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শোভনবাবুর উপর আমার দলে থাকা নির্ভর করে না।’ একইসঙ্গে রত্নার কটাক্ষ, ‘শোভন চট্টোপাধ্যায় এখনও ঘোরের মধ্যে রয়েছেন। এখনও তাঁর ঘোর কাটেনি। মানসিক স্থিরতা আসেনি শোভনবাবুর।’

মঙ্গলবার হঠাৎই তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। দুজনের মধ্যে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে আলোচনা চলে। কিছুদিন ধরেই শোভনের তৃণমূলে ফেরা নিয়ে জোর গুঞ্জন তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ বলছে শোভনের ‘ঘরওয়াপসি’ নাকি এখন সময়ের অপেক্ষা। আবার অন্য অংশের মতে জল মাপছেন শোভন। ঘাসফুল শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বের ইঙ্গিতপূর্ণ পদক্ষেপের অপেক্ষা করছেন একদা তৃণমূলের শীর্ষ নেতা শোভন চট্টোপাধ্যায়। বৈশাখীর সঙ্গে বৈঠকের পর পার্থের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, ‘শোভন কবে দলে ফিরবেন তা শোভনই জানেন।’

এদিকে, শোভনের তৃণমূলে ফেরার জল্পনা বাড়তেই মুখ খুলেছেন তাঁর স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে নাকি বৈশাখী জানিয়েছেন, রত্নার সঙ্গে একমঞ্চে রাজনীতি করা শোভনের পক্ষে সম্ভব নয়। রত্নার এই দাবিকেই তুলোধনা করেছেন শোভন চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী রত্না। তিনি বলেন, ‘শোভন চট্টোপাধ্যায় বোধ হয় এখনও ঘোরের মধ্যে রয়েছেন। যদি মনে করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ব্ল্যাকমেল করে দলে ঢুকবেন, তবে তিনি ভুল ভেবেছেন। এখনও উনি মানসিক স্থিরতা পাননি।’

শোভনের তৃণমূলে ফেরা নিয়ে রত্নার আরও কটাক্ষ, ‘শোভনবাবুর মঞ্চ সাজিয়ে ঘোষণা করা উচিত, তিনি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন। আমি তার পর আমার সিদ্ধান্ত জানাব। তৃণমূলে থাকব না যাব ঠিক করব।’

বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই একাধিক বিষয়ে বিজেপি রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল শোভন-বৈশাখীর। এর আগে দ্বন্দ্ব মেটাতে একবার নিজেরাই উদ্যোগী হন তাঁরা। দিল্লিতে মুকুল রায়ের বাড়িতে যান শোভন-বৈশাখী। কোন কোন বিষয়ে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দ্বিমত তৈরি হচ্ছে মুকুলকে তা স্পষ্ট জানান শোভন। মুকুল রায়ও দ্বন্দ্ব কাটাতে তৎপর হন। এরপর রাজ্য বিজেপির নেতাদের সঙ্গেও শোভন-বৈশাখীকে নিয়ে কথা হয় মুকুল রায়ের।

তারপরেও জট কাটেনি। ক্রমেই বিজেপির সঙ্গে দূরত্ব আরও বাড়তে থাকে শোভন-বৈশাখীর। শেষমেশ মঙ্গলবার বৈশাখীর পার্থ-দরবার। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনার পর তাঁর মত নিয়েই তৃণমূল মহাসচিবের বাড়িতে যান বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈশাখীর সঙ্গে আলোচনার পর শোভনের তৃণমূলে ফেরা নিয়ে জল্পনা বাড়ান পার্থ চট্টোপাধ্যায় নিজেই। এদিন তৃণমূল মহাসচিব জানান, শোভনের তৃণমূলে ফেরা তাঁর নিজের উপরেই নির্ভর করছে।