স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: শোভন চট্টোপাধ্যায়কে ডিভোর্স না দেওয়ার ব্যাপারে এবার অনড় হলেন তাঁর স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়৷ বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে প্রাক্তন মেয়র-মন্ত্রীর বিজেপিতে যোগদানের পরই তাঁর স্ত্রীর জেদ আরও বেড়ে গিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে৷

বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরই তৃণমূলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়৷ তিনি বলেছিলেন, রত্নার সঙ্গে ডিভোর্স করার জন্য মমতাই তাঁকে পরামর্শ দিয়েছিলেন৷ একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শোভন বলেছিলেন, রত্না আমার সঙ্গে কত বড় বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানানোর পরে তিনিই আমাকে বলেছিলেন— ‘তুই এখনই বাড়ি ছাড়, রত্নার মতো মেয়ের সঙ্গে তুই ঘর করতে পারবি না, তুই ওই বাড়িতে থাকলে খুন হয়ে যাবি, তোকে আমি অন্য বাড়ির ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। ক্যাবিনেটের সামনে তিনি এ সব কথা বলেছিলেন।’

শোভন চট্টোপাধ্যায়ের এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন রত্না চট্টোপাধ্যায়৷ উল্টে তাঁর অভিযোগ, “বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরামর্শেই তাঁকে ডিভোর্স নোটিস পাঠান শোভন। রত্না বলেন, আমাকে বোঝানোর চেষ্টা হয়েছিল, দু’জন মিউচুয়াল ডিভোর্স করে নিলে ইডি-সিবিআইয়ের হাত থেকে বাঁচা যাবে। পরে শোভন চট্টোপাধ্যায় আমাকে বলেন, সব মিটে গেলে ফের রেজিস্ট্রি করে নেব। এখন বলছেন, মমতাদি ডিভোর্স দিতে বলেছেন! মমতাদির নামে মিথ্যে কথা বলছেন। আমার নামে মিথ্যে কথা বলছেন।” রত্নার সাফ কথা, বৈশাখী কেন, “ওর পরও যদি কোনও মহিলা শোভন চট্টোপাধ্যায়ের জীবনে আসে তাও আমি ডিভোর্স দেব না৷ “

আরও পড়ুন : নিরাপত্তার কারণে রাতারাতি বদল হচ্ছে দিলীপ ঘোষের বাসভবন

উল্লেখ্য, নারদাকাণ্ডে শোভনের নাম জড়ানোয় পর থেকেই রত্নার সঙ্গে তাঁর দূরত্ব আরও বাড়তে থাকে। ২০১৭র ১৬ নভেম্বর স্ত্রী রত্নার বিরুদ্ধে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করেছিলেন তৎকালীন তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা শোভন চট্টোপাধ্যায়৷ স্ত্রী রত্নাদেবীর বিরুদ্ধে পারিবারিক হিংসা এবং নিষ্ঠুরতার একাধিক অভিযোগ এনেছেন শোভন। এরপরই শুরু হয় কাদা ছোড়াছুড়ি। বিতর্কের ঝড় ওঠে। আর এই ঘটনার সঙ্গেই উঠে আসে শোভন ঘনিষ্ঠ অধ্যাপিকা বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও। শোনা যায়, বৈশাখীর সঙ্গে বন্ধুত্বের জন্যই নাকি স্ত্রীয়ের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হয়েছে কলকাতার মেয়রের। পরবর্তীকালে গুরুতর এই অভিযোগে পুরোটাই সবুজ সঙ্কেত দেন রত্না চট্টোপাধ্যায়ও।

বৈশাখী সেইসময় বলেছিলেন, নারদাকাণ্ডে ইডির জেরার জন্য ফাইল গোছাতে বসতেন, তখনই তিনি রেগে যেতেন। বৈশাখী জানাচ্ছেন, এ সময় “শোভনদা চেঁচিয়ে বলতেন, রত্না তুমি আমার এ কী ক্ষতি করে দিলে!” তাঁর দাবি ছিল, “রত্না চ্যাটার্জির লালসার জন্যই শোভন’দা আজ সমস্যায়৷” এখন রত্নার বক্তব্য, “উচ্চাকাঙ্খা, লোভ, লালসার জন্যই বৈশাখী শোভনকে সিঁড়ির মতো ব্যবহার করছে৷ “