কলকাতা: আমফানে কলকাতা সহ রাজ্যের একাধিক জায়গায় বিপুল ক্ষতি হয়েছে। বহু বড় বড় গাছ পড়ে গিয়েছে কলকাতা শহর জুড়ে। প্রায় ৭২ ঘণ্টা কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত শহরের একটা বড় অংশ বিদ্যুৎহীন। রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন মানুষ।

এই অবস্থায় কলকাতার পুরসভার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। পুরসভার দায়িত্বের অভাব ছিল বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তাঁর মতে, আগে থেকে অনেক কিছু বোঝা উচিৎ ছিল। সেই মত ব্যবস্থা নেওয়াও উচিৎ ছিল।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ৮৬ সালের বন্যা দেখেছি, ১৯৯৯-এর ঝড় দেখেছি, আয়লাও দেখেছি। আমি আমার অভিজ্ঞতা দিয়ে পর্যালোচনা করেছিলাম।’ তবে সেই অভিজ্ঞতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি তিনি মেলাতে পারছেন না বলেই দাবি প্রাক্তন তৃণমূল নেতার। তাঁর কথায়, তিনি আশা করেছিলেন যে আরও ভালো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মেয়র ফিরহাদ হাকিমের নাম না করে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘মানুষের বিশ্বাসলে হালকা ভাবে নেওয়া উচিৎ নয়। যিনি মেয়র তাঁকে সব দায়িত্বই নিতে হবে। কে রাস্তা, কে ট্রান্সপোর্ট, কে বিদ্যুৎ, তা দেখলে চলবে না। তিনি মনে করেন, গেট গুলো যদি খুলে দেওয়া হত, তাহলে এভাবে শহরে জল জমত না। পাশাপাশি পাম্পিং স্টেশন গুলো চালু করা উচিৎ ছিল বলেও মনে করেন তিনি। বলেন, ‘পুরসভা হয়তো গুরুত্ব বুঝতে পারেনি।’ গাছ কাটার ক্ষেত্রেও আরও বেশি পরিকল্পনা মাফিক কাজ করা উচিৎ ছিল বলে মনে করেন তিনি।

অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে কলকাতা পুরসভার পুর কমিশনারের পদ সামলানো খলিল আহমেদকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও মুখ খোলেন তিনি। বলেন, ‘উনি খুবই এফিশিয়েন্ট ছিলেন। একাধিক পদে আগে দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। তাঁকে কেন এভাবে সরিয়ে দেওয়া হল জানিনা।

আমফানের তাণ্ডবের পরই শুক্রবার সন্ধেয় কলকাতার পুর কমিশনার বদলের নির্দেশিকা জারি করে নবান্ন। অনেকের মতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতেই কমিশনার বদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবান্ন।

রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, অন্তত সাতদিন সময় লাগবে মহানগরের স্বাভাবিক অবস্থা ফেরাতে।

আয়লা, ফণী, বুলবুলের সময়েও এই রকম বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হয়নি কলকাতাকে। শহর জুড়ে অন্তত সাড়ে পাঁচ হাজার গাছ পড়ে গিয়েছে প্রবল ঝড়ে। শুক্রবার রাত পর্যন্ত খবর, এখনও বেশিরভাগ জায়গায় তা সরানো যায়নি। বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ ও টেলিযোগাযোগ। ইন্টারনেট পরিষেবাও ভেঙে পড়েছে।