স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: আড়ালে-আবডালে কানাকানি চলছিলই৷ নিজে মুখেই শোভন চট্টোপাধ্যায় বললেন, ‘‘অভিষেক আমার ছোট্ট ভাই …৷’’

তবে প্রাক্তন মেয়রের মুখে এই চারটে শব্দ একগুচ্ছ নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে৷ বুধবার সংবাদ মাধ্যমকে শোভন বলেছিলেন, পুরো বিষয়টিতে শোভনকে scapegoat (বাংলায় যাকে বলে বলির পাঁঠা) করা হচ্ছে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে৷ কিন্তু, প্রশ্ন উঠেছে শোভন-কাণ্ডে আসল খেলোয়ার কে? বৃহস্পতিবার হাসিমুখে অভিষেকের নাম করে বিতর্কের আঁচে হাওয়া দিয়েছেন শোভন৷

আরও পড়ুন: পরবর্তী মেয়রের জন্য নিজের ওয়ার্ড ছাড়তে রাজি শোভন

রাজনৈতিক মহলে যে প্রশ্নগুলি ঘোরাফেরা করছে তা হল, শোভন চট্টোপাধ্যায় কাজে অমনোযোগী, বিষয়টা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নতুন নয়৷ মাঝে মাঝেই স্নেহের কাননকে ঠোকা দিয়ে দিদি বলেছেন, ‘‘প্রেম করবি না কাজ করবি?’’ কিন্তু তাতেও চাকরি যায়নি শোভনের৷ কিন্তু হঠাৎ এমনকী হল যে মমতার বিষ নজরে চলে গেলেন শোভন৷

অনেকেই বলছেন, শোভনের শেষের শুরু অনেকদিন আগেই করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো অভিষেক৷ যা ছিল সময়ের অপেক্ষা এবার তাই করে দিলেন মমতা৷ বৈশাখীকে ইস্যু বানিয়ে মহাগুরুত্বপূর্ণ লোকসভা ভোটের আগে কলকাতা এবং দক্ষিণ২৪পরগণার ভোটকে একজোট করতে শোভনকে তাড়াতেই হতো৷

আরও পড়ুন: শোভন-রত্নার ‘থ্রিলার স্টোরি’ রসদ জোগাচ্ছে টলিপাড়ায়

অন্য একটি মতামত বলছে, ফিরহাদ (ববি) হাকিমের মেয়র হওয়াও চিত্রনাট্যের মতো সাজানো ছিল৷ সংখ্যালঘু একজন নেতাকে কলকাতার মেয়র বানিয়ে ইতিমধ্যেই নজির গড়েছেন তিনি৷ স্বাধীনতার পর প্রথম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মেয়র হিসেবে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর চেয়ারে বসবেন ববি৷ রাজ্যে মুসলমান ভোটের দিকে বিজেপি হাত বাড়িয়েছিল৷ তা কিছুটা হলেও সামাল দেওয়া যাবে৷

বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মালনে শোভনকে প্রশ্ন করা হয়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চাপ ছিল? দারর্শনিক হাসি মুখে শোভনের জবাব, ‘‘ অভিষেক আমার ছোট ভাই৷ দলের যুবর সভাপতি৷ হলের সাংসদ৷ দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছে৷ এ সম্পর্কে আমি কোনও মন্তব্য করব না৷’’ মন্তব্য না করেও যেন অনকে কথাই বলে গেলেন শোভন৷

আরও পড়ুন: ববি হাকিম মেয়র হওয়াতে অশান্তির সিঁদুরে মেঘ দেখছে RSS