সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: গরম পড়লে এতদিন শীতপ্রেমিদের মন খারাপ করত। এবারে ঠিক উলটো ঘটনা ঘটছে। দক্ষিণবঙ্গের শীতপ্রেমীদের এবার চাহিদা বেশটি করে গরম পড়ুক। সৌজন্যে করোনা ভাইরাস। আশা গরম পড়লে তবেই না নিপাত যাবে করোনা। আলোচনায় তাই চৈত্র সেলের মতোই চৈত্রের গরমও।

করোনা ভাইরাস নিয়ে অনেকেই অনেক নিদান দিচ্ছেন। একটি সূত্রে এমনও দাবি করা হচ্ছে যে, যেখানকার আবহাওয়ায় গরমের পরিমাণ বেশি। আবহাওয়ায় আর্দ্রতার পরিমাণ প্রচুর বেশি থাকে সেই সমস্ত অঞ্চলে এই ভাইরাস প্রভাব ফেলতে পারে না।

ভারত এই তালিকায় অবশ্যই রয়েছে,কারণ গ্রীষ্মপ্রধান দেশ। সেখানে মার্চ – এপ্রিলে গরম বাড়বে এমনটাই আশা করে মানুষ। মার্চ মাসের ১৫ তারিখেও শীতল হাওয়ায় চিন্তায় পড়েছিল দক্ষিণবঙ্গবাসী। বিশেষত যারা শীত পছন্দ করেন তারা অন্যান্য বছর শীত বিদায় নিলে বেজায় অখুশি হতেন এবার এই রবিবারেও যখন বাতাসে স্পষ্ট শীতল ভাব তখনই তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। অনেকের মনেই প্রশ্ন কেন এখনও ঠাণ্ডা? বলছেন, ‘এবার গরমটা পড়লেই পারে।’

হাওয়া অফিস অবশ্য কিছুটা হলেও স্বস্তির খবর শুনিয়েছে। তারা জানিয়েছেন, এবার ধীরে ধীরে গরম বাড়বে। এমনটাই জানাচ্ছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। মার্চ মাসের অর্ধেক কেটে গেলেও আবহাওয়ার অদ্ভুত চরিত্রে এখনও রাতে পাখা না চালালেও চলে যাচ্ছে। সেই অবস্থার অবশেষে পরিবর্তন হতে চলেছে শহরে।

গরমের আভাস এবার কিছুটা হলেও মালুম হবে বলে জানাচ্ছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। আজ সোমবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২২.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এখনও স্বাভাবিক। অপরদিকে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এখনও স্বাভাবিকের নীচে রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় তা ছিল ৩১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে দুই ডিগ্রি কম। এবার এই অবস্থার পরিবর্তন হবে। আর্দ্রতার পরিবর্তন হবে। অর্থাৎ ঘাম দিয়ে গরম বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন যেমন তাপমাত্রা ২২ থেকে ৩২ এর মধ্যে ঘোরাফেরা করছে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই তা দুই থেকে তিন ডিগ্রি বাড়তে পারে বলে জানাচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা।

তবে এটাতো সাময়িক চিত্র। এবারে গরমের সার্বিক চিত্র কেমন হতে পারে রাজ্যে? আলিপুর আবহাওয়া দফতরের অধিকর্তা গণেশ কুমার দাস জানিয়েছেন, ‘মার্চ থেকে মে অর্থাৎ গরমের সময়ে দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের কাছেই থাকবে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা খুব বেশি হলে ০.৫ ডিগ্রী বেশি থাকবে।

০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম হলেও হতে পারে কিন্তু এর চেয়ে খুব বেশি হওয়ার সম্ভাবনা কম।’ একইসঙ্গে আবহাওয়াবিদ জানাচ্ছেন, ‘এই বছরে উত্তরবঙ্গের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে ০.৫ থেকে এক ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকতে পারে। যা অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি উষ্ণ।’