নয়াদিল্লি: বুথ ফেরৎ সমীক্ষাতে গেরুয়া ঝড়ের আভাস৷ ফের দিল্লির মসনদে বসতে চলেছেন নরেন্দ্র মোদী৷ লক্ষ্যনীয় এবারও উত্তর ভারতের ভালো ফলের উপর ভর করেই দেশের নিয়ন্ত্রণ নেবে বিজেপি৷ তবে উলটো ছবি, দক্ষিণ ভারতের৷ দ্রাবিড়ভূমে গেরুয়া শিবিরের আসন জয়ের ক্ষেত্রে দেখা যাবে পাঁচ বছর আগের প্রতিফলন৷

সমীক্ষার ফলেই আভাস, অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে তামিলনাড়ু, কেরালা থেকে তেলেঙ্গানা, পন্ডিচেরি৷ দক্ষিণী সব রাজ্যেই ব্যর্থতার মুখ দেখবে গেরুয়া শিবির৷ তবে পদ্ম পাপড়ি মেলতে পারে কর্নাটকে৷ কংগ্রেস ও জেডিএস জোটের রাজ্যে এবার অধিকাংশই যেতে পারে গেরুয়া শিবিরের ঝুলিতে৷

ইন্ডিয়া টুডে ও এক্সিস মাই ইন্ডিয়া সমীক্ষায় ইঙ্গিত, ২৫ আসন বিশিষ্ট অন্ধ্রপ্রদেশে এবার ভালো আসন পাবে জগনমোহনের ওয়াইএসআর কংগ্রেস৷ তারা পেতে পারে ১৮ থেকে ২০টি আসন৷ চন্দ্রবাবুর টিডিপি সেখানে থাকবে অনেকটাই পিছনে৷ বিরোধী শিবিরের অন্যতম এই দলের হাতে থাকতে পারে ৪ থেকে ৬টি আসন৷ মোদী-শাহ জুটির শত চেষ্টাতেও এরাজ্যে বিজেপির খাতা খোলার সম্ভাবনা কম৷

১৭ আসনের তেলেঙ্গানাতে অবশ্য ১ থেকে ৩টি আসন পেতে পারে বিজেপি৷ টিআরএস পেতে পারে ১০ থেকে ১৩ আসন৷ কংগ্রেস মেরেকেটে পেতে পারে ১টি আসন৷ ২০১৪র ফলাফলের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যাবে অবিভক্ত অন্ধ্রের ৪২ আসনের মধ্যে বিজেপি জিতেছিল মাত্র ৩টি লোকসভা৷ ফলে গত পাঁচ বছরে সবকি সাথ – সবকা বিকাশ মনে দাগ কাটেনি অন্ধ্রবাসীর৷

আরেক দক্ষিণী রাজ্য কেরালাতেও আশাপ্রদ ফল করতে পারবে না গেরুয়া শিবির৷ বুথ ফেরৎ সব সমীক্ষার প্রবণতা তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে৷ ইন্ডিয়া টুডে ও এক্সিস মাই ইন্ডিয়া সমীক্ষায় প্রকাশ কেরালায় মাত্র ১টি আসন পকটস্থ করতে পারবে পদ্ম শিবির৷ ২০ আসনের দেশের একেবারে দক্ষিণের রাজ্যে ভালো ফল করবে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ৷ তারা পেতে পারে ১৫ থেকে ১৬টি আসন৷ বামাদের এলডিএফের আসন সংখ্যা কমে নামতে পারে ৩ থেকে ৫টি আসনে৷ ২০১৪ সালে কেরালায় পদ্ম ফোটেনি৷ সেই তুলনায় সমীক্ষা রিপোর্ট মিললে একটি আসন পেয়ে খাতা খুলবে গেরুয়া দলটি৷

জয়ললিতার মৃত্যুর পর তামিল ভোটের আশায় এআইএডিএমকে-র সঙ্গে জোট বাঁধে বিজেপি৷ লক্ষ্য ছিল আঞ্চলিক শক্তির হাত ধরেই তামিলনাড়ুতে দলের আসনসংখ্যা যতটা সম্ভব বাড়িয়ে নেওয়া৷ কিন্তু ইন্ডিয়া টুডে ও এক্সিস মাই ইন্ডিয়া সমীক্ষার ইঙ্গিত, সেগুড়ি বালি৷ এবার তামিলনাড়ুতে ভালো ফল করবে ডিএমকে ও কংগ্রেস জোট৷ তারা পেতে পারে ৩৪ থেকে ৩৮ আসন৷ এআইএডিএমকে-বিজেপি জোট খুব জোড় পেতে পারে চারটি আসন৷ ২০১৪ সালে মোদী ঝড়ের মাঝেও তামিলনাড়ুতে বিজেপি পেয়েছিল মাত্র ১টি আসন৷

আরও পড়ুন: অন্তত ৩৫০ আসনে NDA-কে এগিয়ে রাখছে ‘টুডে’জ চাণক্য’র সমীক্ষা

কেন্দ্র শাসিত পণ্ডিচেরির ফলাফল এবারও হতাশ করবে বিজেপিকে৷ এলআর কংগ্রেসের থেকে ওই আসন ছিনিয়ে নিতে পারে রাহুলের কংগ্রেস৷

দক্ষিণী সব রাজ্যে পরাজয়ের প্রবণতা থাকলেও ব্যাতিক্রম কর্নাট৷ গেরুয়া পতাকা উড্ডীন থাকবেএরাজ্যে৷ এক বছর আগেই এরাজ্যে বহু টানাপোড়েনের পর কংগ্রেস-জেডিএল জোট ক্ষমতায় এলেও তার প্রভাব পড়বে না লোকসভা ভোটে৷ সমীক্ষা বলছে, ২৮ আসনের কর্নাটকে বিজেপি পেতে পারে ২১ থেকে ২৫ আসন৷ কংগ্রেস ৯ থেকে নেমে পাতে পারে ৩-৬টি আসন৷ ২০১৪ সালে কর্নাটকে বিজেপি পেয়েছিল ১৭টি আসন৷

সমীক্ষার ফলাফলের প্রবণতায় স্পষ্ট দেশের উত্তরে মোদী শাহ জুটির বিজেপির উপর মানুষ আস্থা রাখছেন৷ কিন্তু দক্ষিণে কংগ্রেস বা আঞ্চলিক দলের উপরই ভরসা রাখছেন ভোটাররা৷ ফলে এবারও হিন্দি বলয়ের অন্তর্গত, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, উত্তরাখণ্ড, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশর অধিকাংশ আসন জিতেই দিল্লি দখল করতে চলেছে বিজেপি৷

উত্তরের থেকে কেন আলাদা দক্ষিণের প্রবণতা, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি দ্রাবিড়ভূমে আঞ্চলিক দলের ভিত্তি অটুট৷ তা নড়াতে পারেনি বিজেপি৷ আগে থেকেই কংগ্রেসের শিকড় শক্ত৷ অন্যদিকে, দ্রাবিড়দের অনেকেই মনে করে বিজেপি মূল উত্তর ভারতের হিন্দি ভাষাভাষীর দল৷ তাদের ভালো-মন্দকেই বেশি গুরুত্ব দেয়৷ দক্ষিণীদের স্বকীয়তা বজায় রাখতে মরিয়া তার৷ এই কারণেই সমীক্ষার প্রবণতা অনুযাই সর্বভারতী বা দেশের গত পাঁচ বছরের শাসক দল হলেও দক্ষিণ ভারতের বেশিরভাগ রাজ্যেই আশানুরূপ ফল হবে না বিজেপির৷