সিওল: কোনও দেশ করোনার মোকাবিলা কীভাবে করবে? দেখে মনে হচ্ছে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। এপ্রিল থেকে এই দেশে গড়ে প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছেন ৭৭ জন। আমেরিকাও যদি এভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার মতো ব্যবস্থা নিতে পারত, তবে আমেরিকায় প্রতিদিন গড়ে আক্রান্ত হতেন ৪৮০ জন। (যেহেতু আমেরিকার জনসংখ্যা দক্ষিণ কোরিয়ার তুলনায় প্রায় ছয় গুণ)। তবে ব্যাপারটি তা হয়নি, আমেরিকায় প্রতিদিন গড়ে আক্রান্ত হন ৩৮ হাজার মানুষ। আসুন দেখা যাক কিভাবে করোনা নিয়ন্ত্রণ করল দক্ষিণ কোরিয়া।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট বলছে, দক্ষিণ কোরিয়া এমন একটি মডেল গ্রহণ করেছে যা সোজা, নমনীয় এবং তুলনামূলকভাবে কার্যকর করা সহজ। এই মডেলের জেরে শুধুমাত্র যে মৃত্যুতে লাগাম দেওয়া গেছে তাই না, দেশের অর্থনীতিকেও সচল রাখা সম্ভব হয়েছে।

রিপোর্ট অনুসারে, দক্ষিণ কোরিয়া যেভাবে দেশের মানুষদের করোনা পরীক্ষা করিয়েছে, তা অন্য কোনও দেশ করেনি। একই সঙ্গে এই দেশটির সবসময় ভয়ে থাকত যে, এই বুঝি তাঁদের মডেল ফেল করে করোনা ছড়িয়ে পড়বে। এই ভয়ের জেরে আরও সতর্ক ছিল প্রশাসন। কিন্তু সেটাই শাপে বর হয়েছে। এই ভয় দক্ষিণ কোরিয়াকে জয়ের দিকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার জনসংখ্যা প্রায় ৫.১৬ কোটি। উল্টোদিকে আমেরিকার জনসংখ্যা প্রায় ৩২.৮২ কোটি। অর্থাৎ প্রায় ছয়গুণ বেশি। উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হল, দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনার মোট কেস ২৩ হাজারের চেয়ে কিছুটা বেশি। সেখানে আমেরিকায় সংখ্যাটা ৭৩ লক্ষের বেশি। দক্ষিণ কোরিয়ায় মৃতের সংখ্যা যেখানে প্রায় ৪০০। আমেরিকাতে সংখ্যাটা ২ লক্ষ ছাড়িয়েছে।

দেশে যখন করোনার শুরু হয়েছিল সে সময়ই দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার দেশে প্রস্তুত করোন ভাইরাস টেস্টিং কিটকে অনুমোদন দিয়েছিল। একই সঙ্গে আশেপাশের অঞ্চলে কেউ সংক্রামিত হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছিল । এরপর সংক্রমণের জেরে দেশে মাস্কের ঘাটতি পরায় সে ব্যাপারেও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় সরকার।

দক্ষিণ কোরিয়ার স্বাস্থ্য আধিকারিকরা করোনাকে খুব গুরুত্ব সহকারে দেখেন। দিনে দু’বার ব্রিফিং দেওয়া শুরু হয়। মানুষকে প্রতিনিয়ত এর গুরুত্ব বুঝিয়ে সতর্ক করা হতে থাকে। যার জেরে সকলে মাস্ক পড়তে শুরু করেন। মৃদুভাবে লক্ষণ দেখা দিলেও তাঁদেরকে আইসোলেশনে পাঠানো শুরু হয়। এ সংক্রান্ত চিকিৎসা করানো হয় বিনামূল্যে। এই কারণে দক্ষিণ কোরিয়াকে কখনও কোনও লকডাউন আরোপ করতে হয়নি। ফলে সচল ছিল অর্থনীতি।

এমনকি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রশংসাও করেছে। বলা হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করেছে তা অন্য কেউ করেনি। হু জানিয়েছে, এই ভাইরাসের হাত থেকে বাঁচতে জীবনযাত্রায় পরিবর্তনা আনা জরুরি।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।