শঙ্কর দাস, বালুরঘাট: আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত উত্তরবঙ্গের জেলা গুলির মধ্যে অন্যতম দক্ষিণ দিনাজপুর। গত ২০মে রাতে এই জেলার উপর দিয়েও বয়ে যায় প্রবল বৃষ্টি-সহ বিধ্বংসী আমফান। বৃষ্টি ও ঝড়ের দাপট এতটাই জোরালো ছিল যে প্রচুর বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। নষ্ট হয়েছে কয়েক হাজার হেক্টর জমির ধান-সহ অন্যান্য ফসলও।

কৃষিভবন সূত্রে জানা গিয়েছে জেলায় এবছর মোট আটাত্তর হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। আমফানের ক্ষতির আশংকায় যার মধ্যে মাত্র পঁয়তাল্লিশ শতাংশ জমির ধান কৃষকরা কেটে নিতে সক্ষম হয়েছিলেন। বাকি জমির পাকা ধান মাঠেই পড়ে রয়েছে। আমফানে ঝড়ে ধানগাছ গুলি শুয়ে পড়ার পাশাপাশি জমিতে হাঁটুর উপর জল দাঁড়িয়ে যায়। পঁচে গিয়েছে অধিকাংশ ফসল।

ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নির্ণয় করতে দক্ষিণ বঙ্গের জেলা গুলির মতো দক্ষিণ দিনাজপুরেও রিপোর্ট তৈরির নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। কতগুলি পরিবার আমফানে প্রভাবিত ও কত টাকার ক্ষতি হয়েছে সেব্যাপারে জানতে বুধবার দক্ষিণ দিনাজপুরে এসে প্রশাসনিক বৈঠক করলেন রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী রাজীব বন্দোপাধ্যায়। বালুরঘাটের বালুছায়া সভাকক্ষের এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকরা।

বৈঠক শেষে রাজীব বন্দোপাধ্যায় জানান যে দক্ষিণবঙ্গের মতো না হলেও এই জেলায় আমফানের প্রভাব খুব একটা কম নয়। জেলায় আঠারো হাজারেরও বেশি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত। প্রচুর ধান ও অন্যান্য ফসলের ক্ষতি হয়েছে।  এব্যাপারে জেলা প্রশাসনের তৈরি রিপোর্ট নিয়ে তিনি জেলাশাসক ও বিডিওদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির আধিকারিকদের সাথে পর্যালোচনা করেছেন। শীঘ্রই এব্যাপারে অসহায় কৃষক ও পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলেও তিনি এদিন আশ্বাস দিয়েছেন।

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব