স্টাফ রিপোর্টার , কলকাতা : দক্ষিণবঙ্গের ভাগ্যে যেন বৃষ্টি নেই। খালি বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি আর ভাদ্রের পচা গরম। এমন আবহাওয়াই চলবে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে। এমনটাই জানাচ্ছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। এর কারণ দুর্বল মৌসুমি বায়ু যা দক্ষিণবঙ্গের বর্ষার বৃষ্টিকে দমিয়ে রেখেছে বলা যেতেই পারে।

সম্প্রতি আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা জানিয়েছিলেন, বঙ্গোপসাগরে নতুন করে নিম্নচাপ তৈরি হবে। হয়েওছে। কিন্তু সমস্যা অন্য স্থানে। জানা যাচ্ছে মৌসুমী অক্ষরেখা উত্তরদিকে সরে যায় ফলে সমস্ত বৃষ্টি হচ্ছে উত্তরে। এদিকে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছে বঙ্গোপসাগরে। এমন আবহাওয়ার জেরে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প ঢুকছে দক্ষিণবঙ্গে। বাড়ছে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি। বৃষ্টি? না , তার দেখা কার্যত নেই।

হাওয়া অফিসের নয়া তথ্য আবার জানাচ্ছে, অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে তৈরি হওয়া ঘূর্ণাবর্তের সঙ্গে মেশার চেষ্টা করছে পূর্ববর্তী নিম্নচাপটি। নিজের শক্তি বৃদ্ধির চেষ্টা করছে। এর জেরে মৌসুমী অক্ষরেখা দক্ষিণবঙ্গের দিকে কিছুটা সরছে। কিন্তু তা পুরোটাও নয়। এদিকে আবার দক্ষিণ গুজরাত থেকে উত্তর কর্নাটক পর্যন্ত একটি অক্ষরেখাও তৈরি হয়েছে। এই তিন পরিস্থিতির জেরে গাঙ্গেয় বঙ্গে একটা ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। যদিও ১৯ তারিখ পর্যন্ত কোনও বিশেষ সতর্কতা দেয়নি হাওয়া অফিস। বৃষ্টি হলেও তা হবে পশ্চিমের জেলায়। তাই দক্ষিণের ভরসা সেই বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিই।

এদিকে আবার তেলেঙ্গানাতেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। তার কারণ অবশ্য ওই তিন সিস্টেম। ভারী বৃষ্টিতে ভাসতে পারে অসম, মেঘালয়-সহ উত্তর-পূর্বের বিভিন্ন রাজ্যে। নিম্নচাপের প্রভাবে ওডিশা, বিহারে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। এদিকে বুধবার উত্তরবঙ্গের হিমালয় সংলগ্ন তিন জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস মিলছে। সেই তালিকায় রয়েছে জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে। বৃষ্টির পরিমাণ হতে পারে ৭০ থেকে ২০০ মিলিমিটার। ভারী বৃষ্টি হতে পারে দার্জিলিং, কালিম্পং,-এ। বৃষ্টির পরিমাণ হতে পারে ৭০ থেকে ১১০ মিলিমিটার। উত্তর দিনাদপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির হতে পারে।

এমনিতেই ভারী বৃষ্টি চলছে উত্তরবঙ্গ জুড়ে। গত সপ্তাহের শেষ থেকেই সেখানে চলছে এই বৃষ্টি। আগামী আরও দিন কয়েক ভারী বৃষ্টি উত্তরের জেলাগুলিতে হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে বলে জানাচ্ছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।