নটিংহ্যাম: বৃষ্টিতে চলতি বিশ্বকাপের চারটি ম্যাচ ইতিমধ্যেই পরিত্যক্ত হয়েছে৷ দৈর্ঘ্য ছোট হয়েছে আরও একটি ম্যাচের৷ লিগের মোটে ১৮টি ম্যাচ অতিবাহিত হয়েছে৷ এখন টুর্নামেন্টের দীর্ঘ পথচলা বাকি৷ স্বাভাবিকভাবেই আশঙ্কা করা হচ্ছে আরও কিছু ম্যাচে প্রভাব ফেলতে পারে বৃষ্টি৷ এই অবস্থায় আয়োজক ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডকে বৃষ্টির হাত থেকে ম্যাচ বাঁচাতে উপায় বাতলে দিলেন টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়৷

এই মুহূর্তে আইসিসি প্যানেলের ধারাভাষ্যকার হিসাবে ইংল্যান্ডে বিশব্কাপের আসরে উপস্থিত রয়েছেন সৌরভ৷ এমন বর্ষার মরশুমেও ম্যাচ আয়োজনের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে সৌরভের৷ ক্রিকেট ছাড়ার পর প্রশাসনে আসা সৌরভ এখন ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েসন অফ বেঙ্গলের সভাপতি৷ তার তত্ত্ববধানে বৃষ্টির চোখরাঙানি উপেক্ষা করে একাধিক ম্যাচ সফলভাবে আয়োজন করেছে ইডেন৷ সেই অভিজ্ঞতা থেকেই সৌরভ গোটা মাঠ ঢাকার পরামর্শ দিলেন ইসিবি’কে৷

আসলে ম্যাচের সময় বৃষ্টি হলে কারও কিছু করার থাকে না৷ তবে চলতি বিশ্বকাপে একাধিক ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব হয়নি ভিজে আউটফিল্ডের জন্য৷ ভারত-নিউজিল্যান্ড ম্যাচের কথাই ধরা যাক৷ বৃষ্টি থামার পর দৈর্ঘ্য ছোট করে ম্যাচ আয়োজনের জন্য ঘণ্টা তিনেক সময় পাওয়া গেলেও আউটফিল্ড খেলার উপযোগী করে তোলা যায়নি৷ এক্ষেত্রে ম্যাচের আগের দিন বৃষ্টি হলেও আউটফিল্ড ঢাকা না থাকায় জল আকটানো সম্ভব হচ্ছে না৷

সৌরভ চাইছেন ইডেনের ঢংয়ে হালকা পলিথিনে ঢেকে দেওয়া হোক গোটা মাঠ৷ শুধু ম্যাচের দিনেই নয়, বৃষ্টির পূর্বাভাষ থাকলে ম্যাচের আগের দু’তিন দিনও মাঠ ঢেকে রাখা উচিত৷ ঠিক যেমনটা করা হয়ে থাকে ইডেন গার্ডেন্সে৷ গোটা মাঠ ঢেকে রেখে বৃষ্টি থামার আধ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে খেলা শুরু করা সম্ভব হয় কলকাতায়৷

কাকলতীয় বিষয় হল, ইডেনসহ ভারতের বেশ কিছু স্টেডিয়ামে গোটা মাঠ ঢেকে রাখা হয় যে পলিথিন কভার দিয়ে, তা আমদানি করা ইংল্যান্ড থেকেই৷ অথচ ইংল্যান্ডেই ব্যবহৃত হচ্ছে না সেই কভার৷ সৌরভ ঠিক সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন৷ তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, নিজেদের দেশে তৈরি পলিথিন কভার ব্যবহার করলে ইংল্যান্ডের স্টেডিয়ামগুলির খুব বেশি কJচ হওয়ার কথা নয়৷ তার জন্য বাড়তি ট্যাক্সও দিতে হবে না তাদের৷

সৌরভের কথায়, ‘ইডেনে যে মাঠ কভার ব্যবহার করা হয়, তা ইংল্যান্ড থেকেই কেনা৷ অর্ধেকেরও কম খরচে এখানে সেটা ব্যবহার করা যায়৷ তার জন্য কোনও ট্যাক্সও দিতে হবে না৷ সুতরাং বিশ্বকাপের সময় মাঠগুলিতে সেগুলি ব্যবহার করাই যায়৷ ভারতে সব ম্যাচই আমরা গোটা মাঠ ঢেকে রাখি৷ তাই বৃষ্টি থামলে ১০ মিনিটের মধ্যেই খেলা শুরুর করা যায়৷ কভারগুলি এতটাই হালকা যে, খুব বেশি লোক এবং সময় লাগে না তা ঢাকা ও তোলার কাজে৷ তাছাড়া সারাদিন ঢাকা থাকলেও ঘাস সুবজ থাকে৷ আগেন ভারি নীল পলিথিনগুলিতে মাঠ ঢাকলে ঘাস বাদামি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকত৷ এক্ষেত্রে সেরকম কোনও সম্ভাবনা নেই৷ ইংল্যান্ড যে রকম যে কোনও সময় বৃষ্টি হয়, তাতে বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে আউটফিল্ড ঢেকে রাখা উচিত৷’