কলকাতা: করোনাভাইরাস মোকাবিলায় রবিবার দেশজুড়ে ‘জনতা কার্ফু’র ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ করোনাভাইরাস নামক মারণ ভাইরাসের মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর একদিনের ‘জনতা কার্ফু’-কে অনেকে হাস্যকর বললেও মো্দীর জনতা কার্ফু’র প্রচারে এগিয়ে এলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়৷ কিছুকক্ষণ আগেই নিজের টুইটারে মোদীর জনতা কার্ফু নিয়ে পোস্ট করেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক তথা বিবিসিআই প্রেসিডেন্ট৷

সারাবিশ্বে থাবা বসিয়েছে মারণ করোনাভাইরাস৷ এই প্রতিবেদন লেখার সময় বিশ্বে মৃত্যের সংখ্যা ১২, ৭৭৭ জন৷ আক্রান্তের সংখ্যা ২ লক্ষ ৯৭ হাজার ৪৫৮জন৷ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ ইতালি৷ ইতিমধ্যেই ইতালিকে মারা গিয়েছেন ৪,৮২৫ জন৷ মৃত্যুর দিকে চিনকেও ছাপিয়ে গিয়েছে ইতালি৷ একদিনে ইতালিতে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় আটশোর কাছাকাছি৷

ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩১৫জন৷ এঁদের মধ্যে মারা গিয়েছেন পাঁচ জন৷ আগামী সপ্তাহ থেকে এই মারণ ভাইরাস ভারতে বেশি করে ছড়াতে পারে এই আশঙ্কায় রবিবার অর্থাৎ ২২ মার্চ দেশ জুড়ে ‘জনতা কার্ফু’র কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী৷ বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় জাতীয় উদ্যেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, ‘আমি দেশবাসীর কাছে আবেদন করব রবিবার দেশজুড়ে জনতা কার্ফু পালন করতে৷ জরুরি পরিষেবা ছাড়া বাড়ি থেকে কেউ বের হবেন না৷ রবিবার সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত আমরা জনতা কার্ফু পালন করব৷ অর্থাৎ বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে কেই বের হবেন না৷’

প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা মত শনিবার রাত থেকে অচল হতে চলেছে দেশ৷ এদিন রাত ১০টা থেকে বাতিল করা হয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলা প্যালেঞ্জার ট্রেন৷ এছাড়া রবিবার ভোর ৪টে থেকে বন্ধ হয়ে যাবে দেশের মেল ও এক্সপ্রেসের চাকা৷ রাত ১০টা পর্যন্ত থাকবে এই সব ট্রেন৷ তবে শহর ও শহরতলির কিছু ট্রেন চলবে বলে জানা গিয়েছে৷ পরিবহণের পাশাপাশি বন্ধ থাকবে দোকানপাট ও বাজার৷

কিন্তু একদিনের এই জনতা কার্ফুতে কি করোনার মতো মারণ ভাইরাসের প্রকোপ রদ করা যায়? এই প্রশ্নের উত্তরে জনতা কার্ফুকে ‘গিমক’ অ্যাখ্যা দিয়েছেন অনেকেই৷ কারণ রবিবার এমনিতেই বাড়ির বাইরে লোকজন কম বের হয়৷ সুতরাং এদিন জনতা কার্ফু করে প্রধানমন্ত্রী ঠিক কী করতে চাইছেন তা বুঝে উঠতে পারছেন না অনেকেই৷ তবে মোদীর সমর্থনে এগিয়েছেন দেশের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক৷ টুইটারে জনতা কার্ফুর সমর্থনে বার্তা দেন সৌরভ৷