স্টাফ রিপোর্টার, জলপাইগুড়িঃ দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় উত্তরবঙ্গে ভালো করেছে বিজেপি। উত্তরবঙ্গের কোনও লোকসভা আসনেই কার্যত খাতা খুলতে পারেনি শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের এমন ফলাফলের পর গতকাল শনিবার জরুরি বৈঠক ডাকেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যেখানে দলের এমন ফলাফলের কারণ পর্যালোচনা করা হয়। দলের এহেন ফলাফলের পর শাস্তির কোপ হিসাবে একাধিক জেলার তৃণমূল সভাধিপতিকে সরিয়ে দেওয়া হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমুল জেলা সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তীও।

গতকাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেই আজ রবিবার সোজা জলপাইগুড়ি জেলা তৃনমুল সভাপতি জেলা কার্যালয়ে চলে আসেন সৌরভ। জেলায় তৃণমূলের এমন খারাপ পরিস্থিতি কেন? তা নিয়ে দলের অন্যান্য নেতা কর্মীদের সঙ্গে পর্যালোচনায় বসেন। পরে সাংবাদিকদের মুখামুখি হয়ে সৌরভ বলেন, বিজেপি জলপাইগুড়ি লোকসভা আসনে জিতে নিজেদের বিরাট কিছু দাদা ভাবতে শুরু করেছে। বিজেপির জয়ের পর মদ্যপ অবস্থায় বিজেপি থেকে তৃণমূল অফিস,কর্মীদের বাড়িতে হামলা করা হচ্ছে।

এরপরেই হুঁশিয়ারির সুরে সৌরভ বলেন, আমরা ধৈর্য ধরে বসে আছি। বিজেপি যেন আমাদের কর্মীদের রাস্তায় নামতে বাধ্য না করে। তাহলে তার দায় বিজেপির উপরেই যাবে।

 

উল্লেখ্য রাজ্যে পালাবদলের পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বদলা নয়, বদল চাই। নেত্রীর সেই স্লোগান আরও একবার সৌরভ চক্রবর্তীর মুখে। তিনি বলেন, রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর আমরা কোনও বিজেপির কার্য্যালয়ে হামলা চালাইনি। কিন্ত জলপাইগুড়ি, ময়নাগুড়ি, রাজগঞ্জ,মালবাজারে বিজেপি তাদের অফিস,কর্মীদের উপর হামলা করছে। এক্ষেত্রে আমাদের দুর্বল ভাবলে বিজেপি সবথেকে বড় ভুল করবে বলে হুঁশিয়ারি।

অন্যদিকে সৌরভ আরও বলেন, বামেদের ভোটেই এভাবে তৃণমূলের হার হয়েছে। আমরা সমস্ত দিক পর্যালোচনা করে দেখছি। তবে আগামিদিনে বুথ স্তরে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। আর এজন্যে বুথের নেতাদের জায়গা দেওয়া হবে। কিছু দলীয় পোস্ট পালটানো হবে। যোগ্য নেতাদের দলীয় পোস্ট দিয়ে জায়গা দেওয়া হবে।

এদিন জেলা সভাপতি ময়নাগুড়িও যান। কর্মী,পার্টির শাখা অফিস পরিদর্শন করে কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। জপলাইগুড়ি জুড়ে সোমবার থেকে বিভিন্ন ব্লকে মিটিং ও মিছিল করা হবে বলেও তিনি জানান।