সুশান্ত মণ্ডল: তিনি এখনও টিম ইন্ডিয়ার জার্সি গায়ে মাঠে নামার স্বপ্ন দেখেন! স্বপ্ন দেখেন ইংল্যান্ডের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলার৷ কিন্তু দু-দু’টি বিশ্বকাপের নায়কের বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন প্রায় ক্ষীণ৷ তবুও আশা ছাড়ছেন না যুবরাজ সিং৷ রঞ্জি ট্রফিতে ফর্মে না-থাকা ‘পঞ্জাব দ্য পুত্তর’ বাংলার বিরুদ্ধে ব্যাট হাতে নামার আগে তাই মহারাজের সান্নিধ্যে৷

২০০৭ দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টি-২০ বিশ্বকাপ জয় হোক, ২০১১ ওয়ান ডে বিশ্বকাপ৷ যুবরাজের ব্যাটেই বিশ্বজয়ের পথ মসৃণ হয়েছিল টিম ধোনির৷ কিন্তু বিরাটের বিশ্বকাপের দলে ঠাঁই পাওয়া কঠিন পঞ্জাবের বাঁ-হাতির৷ দেশের হয়ে শেষ খেলেছেন ৩০ জুন, ২০১৭৷ ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে ভারতীয় দলের জার্সিতে শেষবার দেখা গিয়েছিল যুবিকে৷

কিন্তু হাল ছাড়ার পাত্র নন যুবরাজ৷ ভারতীয় দলে ফেরার লক্ষ্যে পঞ্জাবের হয়ে এখনও ব্যাট হাতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি৷ রঞ্জি ট্রফির শেষ চারটি ম্যাচ খেলেছেন ৩৭ বছরের বাঁ-হাতি৷ কিন্তু রানের দেখা নেই যুবির ব্যাটে৷ শেষ পাঁচটি ইনিংসে তাঁর সর্বোচ্চ স্কোর ৪১৷ বাংলার বিরুদ্ধে ব্যাট হাতে মাঠে নামার আগে তাই মহারাজের দ্বারস্থ যুবরাজ৷ মঙ্গলবার বাংলার বোলারদের বিরুদ্ধে ব্যাট করতে নামবেন ২০১১ বিশ্বকাপের ‘ম্যান অফ দ্য’ টুর্নামেন্ট৷

সল্টলেকের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মাঠে বাংলা-পঞ্জাব রঞ্জি ম্যাচে সোমবার প্রথম দিনের শেষে সৌরভ গঙ্গোপ্যাধায়ের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটাতে দেখা গেল যুবরাজকে৷ মাঠের মাঝে গিয়ে সৌরভের সঙ্গে একান্তে কথা বলতে দেখা গেল টিম ইন্ডিয়ার বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যানকে৷ প্রিয় মহারাজের নেতৃত্বেই জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছিল যুবির৷ বাকিটা ইতিহাস৷ দেশের হয়ে ৪০টি টেস্ট, ৩০৪টি ওয়ান ডে এবং ৪৮টি টি-২০ ম্যাচ খেলেছেন৷

পঞ্জাবের বিরুদ্ধে সোমবার টস জিতে প্রথম ব্যাটিং করে ১৮৭ রানে গুটিয়ে যায় বাংলা৷ পছন্দের পিচেও ব্যর্থ বাংলার ব্যাটসম্যানরা৷ সুদীপ চট্টোপাধ্যায় ও শ্রীবৎসব গোস্বামী ছাড়া কেউ রান পাননি৷ দিল্লির বিরুদ্ধে চতুর্থ ইনিংসে ৩২২ রান তাড়া করা বাংলা ব্যাটিংয়ের বেহাল দশা দেখা যায় এদিন৷ শুরু থেকেই উইকেট হারাতে থাকে বাংলা৷ মাত্র ৫৩ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা বঙ্গ ইনিংসকে ভদ্রস্থ স্কোরে পৌঁছে দেয় সুদীপ ও শ্রীবৎসের লড়াকু ব্যাটিং৷ দু’জনেই হাফ-সেঞ্চুরি করলেও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ৷ দীর্ঘক্ষণ ব্যাটিংয়ের পরেও ব্যক্তিগত ৫২ রানে উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে আসেন সুদীপ৷ ১৪২ বলের ইনিংসে মাত্র ৩টি বাউন্ডারি মারেন বাংলার এই বাঁ-হাতি৷ ষষ্ঠ উইকেটে ৬৫ রান যোগ করার পর বিনয় চৌধুরির বলে উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে আসেন সুদীপ৷

আর এক বাঁ-হাতি শ্রীবৎসও হাফ-সেঞ্চুরির পর প্যাভিলিয়নের রাস্তা ধরেন৷ বাংলা ইনিংসের সর্বোচ্চ স্কোর অবশ্য তাঁরই৷ ৫৭ রান করে আউট শ্রীবৎস৷ চারটি বাউন্ডারি ও একটি ওভার বাউন্ডারি মারেন তিনি৷ শেষ দিকে প্রদীপ্ত প্রামাণিক ও অশোদ দিন্দার ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে দেড়শোর গণ্ডি টপকায় বাংলা৷ প্রদীপ্ত ২৯ বলে ১৯ এবং দিন্দা ১৫ বলে ১৮ রান করেন৷ পঞ্জাবের হয়ে সর্বাধিক উইকেট বিনয়ের ঝুলিতে৷ ৬২ রান দিয়ে ৬টি উইকেট তুলে নেন অমৃতসরের বাঁ-হাতি স্পিনার৷

রান তাড়া করতে নেমে দিনের শেষে প্রথম দিনের শেষে ২ উইকেটে ৪৭ রান তুলেছে পঞ্জাব৷ ব্যক্তিগত ৩৬ রানে ক্রিজে রয়েছেন শুভমন গিল৷ স্বপ্নের ফর্মে থাকা নাইটদের ডানহাতি ব্যাটসম্যানকে এদিন ব্রিবত করতে পারেননি বাংলার বোলাররা৷ তামিলনাডুর বিরুদ্ধে ২৬৮ এবং হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে ১৪৮ রানের ইনিংস খেলেছেন শুভমন৷ বাংলার বিরুদ্ধে শুভমনের সঙ্গে বড় ইনিংস খেলতে চান যুবিও৷