স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: স্বামীর কারণে তাঁর রাজনৈতিক মহলে প্রবেশ৷ আর স্বামী সৌমিত্র খাঁ’র অনুপস্থিতি বেহুলার মতো পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি৷ বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সৌমিত্র খাঁ-র স্ত্রী সুজাতা খাঁ৷ তাঁর লক্ষ ছিল একটাই, যেভাবে হোক না কেন জেতাতে হবে স্বামীকে৷ আর ট্রেন্ড যা বলছে তা তিনি সেটা করে দেখিয়েছেন।

লোকসভার গণনা চলছে৷ ট্রেন্ড অনুযায়ী বিষ্ণুপুরের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী শ্যামল সাঁতরাকে পিছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী সৌমিত্র খাঁ৷ স্বামীর জয়ে খুশিতে আত্মহারা স্ত্রী সুজাতা খাঁ৷ তিনি সংবাদমাধ্যের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘‘গোটা পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতবর্ষ জুড়ে একটাই নাম মোদী ঝড়৷ বিষ্ণুপুরে প্রার্থী না থাকায় ভারতবর্ষে বিজেপির জন্য সব থেকে কঠিন আসন ছিল৷ তাই এটা ভেবে ভালো লাগছে এই আসনে আমরা এতো ভালোভাবে জিততে চলেছি৷ শুধু তাই নয়, এই আসনটা আমরা মোদীজীকে উপহার দিতে চলেছি৷ তাই বিজেপির ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে আজ আমি খুবই গর্বিত৷’’

বিজেপি নেত্রী সুজাতা খাঁ-এর মতে ভোটের এই লড়াইটা তৃণমূল বনাম বিজেপি ছিল না৷ লড়াইটা ছিল ধর্ম বনাম অধর্ম৷ জনগণ অর্থাৎ যারা আমাদের ভগবান তারা ধর্মের পক্ষে রায় দিয়েছে৷ বেহুলা লক্ষীন্দর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অর্ধাঙ্গিনী মানেই তো স্বামীর সুখে পাশে থাক কি না থাক বিপদের সময় থেকো৷ আর আমি এটাই মনে করেছিলাম, স্বামীর সব থেকে বিপদের দিনে নিজের কাঁধে সবথেকে কঠিন দায়িত্বটা তুলে নেব৷’’

প্রচার প্রসঙ্গে বলেন, সাতটি বিধানসভায় সকাল ছয়টা থেকে রাত দুটো পর্যন্ত প্রচার করে গিয়েছি৷ সেই সময় বিরোধীদের অনেক সন্ত্রাসের মুখে পড়েব আমি প্রচার চালিয়ে গিয়েছিলাম৷ তারই সুফল আজ আমি পাচ্ছি৷ আজকের ফলাফল বিরোধীদের মুখে থাপ্পর মারা জবাব৷ আসল কথা হল এই থাপ্পরটা জনসাধারণ মেরেছে৷ আমার মনে হয় না ২০১৯-এর পর তৃণমূল কংগ্রেস এই থাপ্পরের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে৷ এককথায় বলতে গেলে ২০১৯ তৃণমূল ফিনিস, আর ২০১৯ ওরা বুঝবে বিজেপি কি জিনিষ৷

বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সৌমিত্র খাঁ জেলায় ঢুকতে পারেননি৷ তাই তাঁর অনুপস্থিতিতে স্ত্রী সুজাতা খাঁ প্রচারের ময়দানে নেমেছিলেন৷