দেবময় ঘোষ, কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ বুধবার বিজেপি-তে যোগদান করেছেন৷ তৃণমূল থেকে ইতিমধ্যেই বহিষ্কৃতও হয়েছেন তিনি৷ বিজেপিতে যোগ দিয়েই তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেছেন সৌমিত্র৷

তিনি বলেছেন, ‘‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বৈরাচারী মনোভাব কায়েম করার চেষ্টা করছে। আর সেজন্যেই তৃণমূল ছেড়েছি৷’’পালটা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘‘নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্যই গুরুর পথ অনুসরণ করলেন শিষ্য৷’’ এখানে সৌমিত্রর গুরু যে মুকুল রায়, তা আর বুঝতে বাকি থাকে না৷

রাজ্য বিজেপি সূত্রে খবর, বিজেপিতে এমনিতেই আসতে চাননি সৌমিত্র৷ তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি অভিষেককে রাজনীতির ময়দানে পালটা আক্রমণ শানাতে রাজ্য বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি হতে চেয়েছিলেন৷ কিন্তু রাজ্যে বিজেপি নেতৃত্ব তাঁর এই আবেদন মেনে নেয়নি৷ তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হয়, বিজেপি একটি সাংগঠনিক দল৷ এখানে এই ভাবে কোনও একটি মোর্চার সভাপতির পদে বসা যায় না৷

এরপর কিছুটা সময় নেন সৌমিত্র৷ চার-পাঁচ দিনের মাথায় তিনি বুধবার দিল্লিতে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন৷ Kolkata24x7 – এর পক্ষে সৌমিত্রকে যোগাযোগ করে এই প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন৷ তিনি বলেন, ‘‘আমার সঙ্গে এমন কোনও কথাই হয়নি৷’’

তৃণমূলের বাঁকুড়ার পর্যবেক্ষক অভিষেক৷ তাঁর সঙ্গে সৌমিত্রর সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছিল৷ বুধবার অভিষেক সৌমিত্রে বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ করে বলেছেন, ‘‘সাংসদ তহবিলের সাড়ে সাত কোটি টাকা কোথায় খরচ হল? দম থাকলে তার হিসেব নিজের সংসদীয় এলাকার মানুষকে জানাক (সৌমিত্র)৷’’ বিষ্ণুপুর থেকে দলীয় প্রার্থীকে জিতিয়ে আনাই আগ্রাধিকার অভিষেকের কাছে৷ তবে, অভিষেক মনে করেন, ভোটের বাজারে জমানাত বাজিয়াপ্ত হবে সৌমিত্রর৷ অন্যদিকে, এখানেই শেষ নয় সৌমিত্র অভিযোগ করেন, বাংলাতে একমাত্র পিসি-ভাইপোর কথাই চলে। কারোর কথা বাংলাতে শোনা হয় না। এমনকি পুলিশকে দিয়ে ভয় দেখানোর মতো মারাত্মক অভিযোগ করেছেন সদ্য দল ছাড়া এই সাংসদ।

বুধবার দিল্লিতে মুকুল রায়ের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন সৌমিত্র খাঁ। দীর্ঘক্ষণ দুজনের মধ্যে বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে যোগ দেন সৌমিত্র। বিজেপিতে যোগদানের পরেই সৌমিত্র এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকারে তৃণমূল যুব সভাপতির বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন।