তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: দীর্ঘদিন পর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এক দিনের জন্য বাঁকুড়ায় ঢোকার অনুমতি পেয়ে জেলাশাসকের দফতরে এসে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সৌমিত্র খাঁ। একই সঙ্গে এদিন দলের বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী ডাঃ সুভাষ সরকারও মনোনয়নপত্র জমা দেন।

কয়েক হাজার কর্মী সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে এদিন শহরের হিন্দু হাই স্কুল মাঠ থেকে মিছিল করে সস্ত্রীক সৌমিত্র খাঁ ও ডাঃ সুভাষ সরকার জেলাশাসকের দফতরের দিকে রওনা হন। জেলাশাসকের দফতরে ঢোকার আগেই কর্তব্যরত নিরাপত্তারক্ষীরা মিছিলের পথ আটকালে দু’জন করে প্রস্তাবক ও সমর্থক নিয়ে সৌমিত্র খাঁ ও ডাঃ সুভাষ সরকার জেলাশাসকের দফতরে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। সৌমিত্র খাঁ বাঁকুড়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক তথা বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ‘রিটার্নিং অফিসার’ অসীম কুমার বিশ্বাসের কাছে ও ডাঃ সুভাষ সরকার জেলাশাসক তথা জেলা মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক ডাঃ উমাশঙ্কর এসের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

বিষ্ণুপুরের ‘বিদায়ী’ তৃণমূল সাংসদ ও এবারে বিজেপির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আসরে নামা সৌমিত্র খাঁ বাঁকুড়ায় পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। সকলেই তাদের প্রিয় ‘দাদা’কে একবার ছুঁতে চায়। ‘দাদা’ ও ‘মোদী’ স্লোগানে সরগরম হয়ে যায় পুরো এলাকা। এদিন যেকোন ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছিল।

এদিন জেলাশাসকের দফতরে মনোনয়নপত্র জমা দিতে ঢোকার আগে ও বেরোনোর পর স্ত্রী সুজাতা খাঁকে পাশে নিয়ে বিজেপি প্রার্থী সৌমিত্র খাঁ অভিযোগ করেন, তাঁর লোকসভা কেন্দ্রের অধীন বর্ধমানের খণ্ডঘোষ থেকে আসা সমর্থক বোঝাই কয়েকটি গাড়ি শাসক দল আটকে দিয়েছে। তৃণমূল যুব সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে তাঁকে ‘হরিদাস ভাইপো’ সম্বোধন করে সৌমিত্র খাঁ বলেন, কখনো আমাকে বালি চোর বলা হচ্ছে, আবার গতকাল এখানে এসে উনি ‘ধর্ষক’ বলেছেন। একের পর এক মিথ্যা মামলায় তাকে ফাঁসানো হচ্ছে দাবি করে বিজেপি প্রার্থী এদিন প্রশ্ন তোলেন ‘কালীঘাটের ব্যানার্জ্জী পরিবারের ১৩১২ কোটি টাকার সম্পত্তি হয় কি করে?’

একই সঙ্গে ঐ পরিবারটি পুরোটিই ‘ধর্ষক’ বলেও এদিন তিনি উল্টে অভিযোগ করেন। আপনি এলাকায় প্রচারে থাকতে পারছেননা, ভোট প্রচারে কি কোথাও খামতি থেকে যাচ্ছে? সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে সৌমিত্র খাঁ বলেন, পাঁচ বছর কাজ করে এক মাস প্রচারে থাকতে না পারাটা কোন সমস্যা হবেনা। দলের দশ হাজার যুব কর্মী, কর্মকর্তা ও তার স্ত্রী সুজাতা খাঁ-এর যৌথ প্রচারে তিনি খুশি বলে জানান। একই সঙ্গে বিষ্ণুপুরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ততাই প্রমাণ করছে তিনি জিতছেন বলে এদিন জানান।

অন্যদিকে, বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী ডাঃ সুভাষ সরকার নিজের জয়ের ব্যাপারে ২০০ শতাংশ আশাবাদী জানিয়ে বলেন, এখন ‘মার্জিন’ কতোটা হবে সেটা নিয়েই আমরা ভাবছি। বিষ্ণুপুরের দলের প্রার্থী সৌমিত্র খাঁ ও তিনি এক সঙ্গে মনোনয়নপত্র জমা দিতে না আসার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ডাঃ সুভাষ সরকার বলেন, জ্যোতিষীর রাশির বিচার অনুযায়ী তিনি দুপুর দু’টোকে বেছে নিয়েছিলেন। তাই একসাথে আসা হয়নি বলে তিনি জানান।