কলকাতা: তাঁরই হাতে গড়া বিজেপি যুব মোর্চার সব জেলা কমিটি বাতিল করেছেন দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। দিলীপের সেই সিদ্ধান্তে ‘অপমানিত’ সৌমিত্র খাঁ অষ্টমীর সকালেই দলের যুব মোর্চার সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দেবেন বলে স্থির করেন। মহাষ্টমীর সকালেই যুব মোর্চার হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছেড়ে বেরিয়ে যান তিনি। তারই কিছুক্ষণের মধ্যেই ভোলবদল। ফের গ্রুপে যুক্ত হয়ে বললেন, ‘‘তোমাদের ছেড়ে থাকা সম্ভব নয়। তাই ফিরে এলাম।’’

তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে এসে দলে বড় পদ পেয়েছিলেন সৌমিত্র খাঁ। তাঁকে রাজ্য বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি করা হয়েছিল। আগামী বছরেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে ডান-বাম সব দলই সংগঠন মজবুত করার কাজে কোমরবেঁধে মাঠে নেমে পড়েছে।

জেলায়-জেলায় সাংগঠনিক শক্তিবৃদ্ধিতে একধিক কর্মসূচি নিচ্ছে সব দল। পিছিয়ে নেই বিজেপিও। জেলায়-জেলায় দলের যুব মোর্চার নতুন কমিটি তৈরি করেছিলেন সংগঠনের সভাপতি তথা সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। তবে সেই কমিটি নিয়ে আগাগোড়াই একাধিক জেলায় মতানৈক্য তৈরি হয়েছিল।

এমনকী বেশ কয়েকটি জেলা থেকে যুব মোর্চার নতুন কমিটি নিয়ে অসন্তোষের খবর পৌঁছোয় দলের রাজ্য নেতৃত্বের কাছেও। অনেক ক্ষেত্রেই যুব মোর্চার নতুন কমিটিতে সক্রিয় কর্মীরা জায়গা পাননি বলেও অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগ কানে গিয়েছিল বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষেরও।

শেষমেশ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সব জেলায় যুব মোর্চার কমিটি বতিল করে দিলেন বিজেপি রাজ্য সভপতি দিলীপ ঘোষ। অনিবার্য কারণবশত জেলায়-জেলায় তৈরি বিজেপি যুব মোর্চার কমিটি বতিলের ঘোষণা করেছেন দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

দিলীপ ঘোষের সিদ্ধান্তে ‘অপমনিত’ বোধ করেছেন সৌমিত্র খাঁ। শনিবার সকাল ৯.৪০ মিনিট নাগাদ যুব মোর্চার হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সৌমিত্র লেখেন, ‘শুভ মহাষ্টমী। সবাই ভাল থাকবেন। আপনাদের সহযোগিতা পেয়েছি। বিজেপিকে সরকারে আনতেই হবে। আমার অনেক ভুল থাকতে পারে। হয়তো তাতে দলের ক্ষতি হচ্ছিল। আমি ইস্তফা দেব। সবাই ভাল থাকবেন। যুব মোর্চা জিন্দাবাদ, বিজেপি জিন্দাবাদ, মোদীজি জিন্দাবাদ।’’

বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের প্রতি সৌমিত্র খাঁয়ের অভিমানের কথা কানে পৌঁছেছে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বই তাঁকে যুব মোর্চার সভাপতি পদে থেকে যেতে পরামর্শ দিয়েছেন। সেই কারণেই ঘণ্টাখানেকের মধযেই সিদ্ধান্ত বদল করেছেন সৌমিত্র।

শনিবার দুপুরেই যুব মোর্চার গ্রুপে ফের যুক্ত হন তিনি। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হয়ে তিনি লেখেন, ‘‘তোমাদের ছেড়ে থাকা অসম্ভব। তাই ফিরে এলাম। তৃণমূলকে সরাতে সব কিছু ত্যাগ করতে রাজি আছি। জয় শ্রীরাম। জয় মা দুর্গা।”

স্বামীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বস্ত্র ব্যবসাকে অন্যমাত্রা দিয়েছেন।'প্রশ্ন অনেকে'-এ মুখোমুখি দশভূজা স্বর্ণালী কাঞ্জিলাল I