বালুরঘাট: উন্নয়ন থেকে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ ৫২টা বছর দূরে সরে রয়েছে। যে কারণেই এই রাজ্যে যতটা উন্নয়ন হওয়ার ছিল তা হয়নি। এতগুলি বছর ধরে কেন্দ্র ও রাজ্যে প্রতিবারই আলাদা আলাদা সরকার হয়েছে। আজ যদি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একই সুতোয় বাঁধা থাকতো তাহলে এখানে প্রকৃত উন্নয়ন ঘটতো।

একুশের বিধানসভা ভোটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন এবারই প্রথম সেই সুযোগ এসেছে কেন্দ্র ও রাজ্যকে একসুতোয় গাঁথার। শনিবার দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে এই মন্তব্যই করলেন বিজেপির বিষ্ণুপুরের সাংসদ তথা যুবমোর্চার সভাপতি সৌমিত্র খাঁ।

এদিন বালুরঘাটে দলীয় কর্মী সমর্থকদের সাথে নিয়ে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে জনসংযোগ সারলেন। শহরের রাস্তায় পায়ে হেঁটে পথচারী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর চিঠি সরাসরি তাঁদের হাতে তুলির দেন।

করোনা আবহের মধ্যেও কেন এই জনসংযোগ? সে সম্পর্কে তিনি জানিয়েছেন যে চিন থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস অতিসহজে একদিনে দূর হবে না। এই রাজ্যে প্রতিদিন যে ভাবে বেকার যুবক যুবতীদের সংখ্যা বাড়ছে সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে নতুন বাংলা গড়ার সময় এসেছে।

সেই নতুন বাংলা গড়ার লক্ষ্যেই এভাবে মানুষের কাছে তাঁদের পৌঁছানো। যার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নে ক্ষেত্রে রাজ্যের অসহযোগিতার কথা সরাসরি সকলের সামনে তুলে ধরছেন।

পাশাপাশি বাংলায় বিজেপির সঙ্গে কংগ্রেস হাত মিলিয়েছে বলে তৃণমূলের সাংসদ ডেরেক ওব্রায়েনের অভিযোগকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন পাগলে কি না বলে আর ছাগলে কি না খায়। তৃণমূলের ডেরেক ব্রায়েনের কোনোদিন মাটিতেই পা পড়ে নাই।

এমনকি মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ভাইপোও কোনোদিন রাস্তায় নামেন নাই। ডেরেক ব্রায়েন সব সময় আপার-ক্লাশের সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করে এসেছেন। সুতরাং উনি কি বললেন আর কি না বললেন তাতে বিজেপির কোনকিছু যায় আসে না। ভারতীয় জনতা পার্টি এবার মানুষের উন্নতির জন্য পশ্চিমবঙ্গে সরকার গড়বে বলে বিষ্ণুপুরের এই সাংসদ দাবি করেছেন।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কর্মসূচিতে বালুরঘাটে এদিন সকাল থেকে ব্যাপক সারা পাচ্ছেন বলেও তিনি জানিয়েছেন। বিজেপি সাংসদের কটাক্ষ ও অভিযোগের পাল্টা মন্তব্য করেছেন বিধায়ক তথা তৃণমূলের দক্ষিণ দিনাজপুরের সভাপতি গৌতম দাস পাল্টা মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেন একজন সাংসদ হয়েও সৌমিত্র খাঁ যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোর অর্থ বোঝেন না। কেন্দ্রে যে দল ক্ষমতায় থাকবে। শুধুমাত্র তারাই রাজ্যে সরকারে থাকলে উন্নয়ন হবে নচেৎ নয়। বিজেপি সাংসদের এই ধরণের কথা একেবারেই সংবিধানের বিপক্ষ ও গণতন্ত্র বিরোধী বলেও মন্তব্য করেছেন তৃণমূল বিধায়ক।

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।