নয়াদিল্লিঃ  ‘দলত্যাগী’ সাংসদ সৌমিত্র খাঁ এর নামে বড়জোড়া থানায় চাকরি দেওয়ার নাম করে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করলেন এক তৃণমূল কর্মী। সম্পর্কে তিনি সৌমিত্র খাঁয়ের পিসতুতো ভাই প্রশান্ত মণ্ডল বলে দাবি করেছেন৷ তিনি শুক্রবার বাঁকুড়ার বড়জোড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। আর এই অভিযোগ পুলিশের একাংশের ষড়যন্ত্র বলে দাবি করলেন সৌমিত্র।

এই মুহূর্তে দিল্লিতে বিজেপির ন্যাশানাল কনভেনশনে রয়েছেন সৌমিত্র খাঁ। সেখানেই সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে সৌমিত্র অভিযোগ করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ভাইকে আমার বিরুদ্ধে ফাঁসানো হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই এই কাজ করা হচ্ছে বলেও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেন তিনি। শুধু তাই নয়, ভাইকে এরপর মার্ডার করে দেওয়া হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তৃণমূলের এই বহিস্কৃত সাংসদ।

তিনি বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেন, বাঁকুড়া জেলার আইপিএস, এসপি এবং বড়জোড়া থানার ওসি এই ষড়যন্ত্র করেছেন। না থেমেই এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের এই প্রাক্তন সাংসদ বিস্ফোরক অভিযোগ করেন, ষড়যন্ত্র করে আমার ভাইকে মার্ডার করে সেই দোষ আমার ঘাড়েই চাপানোর চেষ্টা চলছে। পুরো বিষয়টি সাইবাড়ি হত্যাকান্ডের সঙ্গেও তুলনা করেন বিষ্ণুপুরের এই সাংসদ।

সৌমিত্র খাঁ আরও বলেন, ভাইকে হুঁশিয়ারি দিয়ে চাপ দিয়ে এই অভিযোগ করানো হয়েছে। বড় গেম প্ল্যান বলেও মন্তব্য তাঁর। কারণ এর পিছনে বড়বড় আইপিএসরা জড়িত রয়েছে বলেও বিস্ফোরক দাবি করেন এই বিজেপি নেতা। অন্যদিকে, মামলাকারী অর্থাৎ ভাই প্রশান্ত মন্ডলের কাছে তাই সৌমিত্রবাবু আবেদন করে বলেছেন যে, ভাই লোকসভাটা লড়তে দে। একই সঙ্গে তৃণমূলকে দম থাকলে রাজনীতিক ভাবে লড়াই করুক। এমনকি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও তিনি লড়তে চান বলে মন্তব্য করেছেন।

প্রসঙ্গত, বড়জোড়ার মালিয়াড়া গ্রামের বাসিন্দা প্রশান্ত মণ্ডলকে চাকরি করে দেওয়ার নাম করে সৌমিত্র খাঁ বেশ কিছু টাকা নেন বলে অভিযোগ। যদিও ঐ ব্যক্তি চাকরি পাননি। পরে শুক্রবার সম্পর্কিত দাদা অর্থাৎ সৌমিত্র খাঁর বিরুদ্ধে বড়জোড়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন বলে জানা গিয়েছে৷

অভিযোগকারী প্রশান্ত মণ্ডল ঠিক কি কারণে এই সাংসদের নামে থানায় অভিযোগ করলেন তা সংবাদমাধ্যমকে বলতে অস্বীকার করেছেন। তৃণমূল নেতা সুখেন বিদ বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। একটা কেন ওনার নামে আরো অভিযোগ শুনতে পাবেন।

যদিও বিজেপির তরফে সৌমিত্র খাঁয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই এই কাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। স্থানীয় বিজেপি নেতা অরূপ দে বলেন, ‘তৃণমূলের দুর্নীতি, নোংরামির কারণে সৌমিত্র খাঁ আমাদের দলে এসেছেন। তাই বিজেপি ও সাংসদের ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই এই চক্রান্ত’৷