স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: অসুস্থ অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়৷ গত বুধবার সকালে বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকে ভরতি করা হয়েছে৷ বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল৷ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন৷

বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নিজের ট্যুইটার হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘‘বিখ্যাত অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় অসুস্থ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ওনার দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।’’ অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্য়া নিয়ে বুধবার সকালে বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে৷ তাঁর শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে৷ চিকিৎসকদের একটি টিম তাঁকে পর্যবেক্ষণে রেখেছে৷

শুধু টুইট করাই নয়, জানা গিয়েছে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে ফোন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পরিবারের কাছ থেকে শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন তিনি।

জানা গিয়েছে, আইসিইউতে ভরতি রয়েছেন তিনি৷ ৮৪ বছরের সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের বয়সজনিতও কিছু সমস্যা রয়েছে৷ হাসপাতাল সূত্রে খবর, সোডিয়াম-পটাশিয়ামের মাত্রাও কিছুটা কম রয়েছে তাঁর শরীরে৷ সেই বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে৷ কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়েছে৷ আইসিইউতে ভরতি থাকতেও ধীরে ধীরে তার অবস্থার উন্নতি হচ্ছে৷ বৃহস্পতিবার সকালে তিনি প্রাত:রাসও করেছেন৷

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের অভিনীত চরিত্রগুলোর ভিতরে সবথেকে জনপ্রিয় হল ফেলুদা। তিঁনি সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় সোনার কেল্লা এবং জয় বাবা ফেলুনাথ ছবিতে ফেলুদার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। প্রথমে ফেলুদা চরিত্রে তার চেয়েও ভালো কাউকে নেওয়ার ইচ্ছে থাকলেও তার অভিনীত ফেলুদার প্রথম ছবি সোনার কেল্লা বের হওয়ার পর সত্যজিৎ রায় স্বীকার করেন যে, তার চেয়ে ভালো আর কেউ ছবিটি করতে পারতনা।

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় পরিবারের আদি বাড়ি ছিল অধুনা বাংলাদেশের কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কাছে কয়া গ্রামে। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের পিতামহের আমল থেকে চট্টোপাধ্যায় পরিবারের সদস্যরা নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরে থাকতে শুরু করেন। সৌমিত্রর পিসিমা তারা দেবীর সঙ্গে ‘স্যার’ আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের জ্যেষ্ঠ পুত্র কলকাতা হাইকোর্টের জাস্টিস রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বিবাহ হয়। সৌমিত্রর পিতৃদেব কলকাতা হাইকোর্টে ওকালতি করতেন এবং প্রতি সপ্তাহান্তে বাড়ি আসতেন।

সৌমিত্র পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন কৃষ্ণনগরের সেন্ট জন্স বিদ্যালয়ে। তারপর পিতৃদেবের চাকরি বদলের কারণে সৌমিত্রর বিদ্যালয়ও বদল হতে থাকে এবং উনি বিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করেন হাওড়া জিলা স্কুল থেকে। তারপর কলকাতার সিটি কলেজ থেকে প্রথমে আইএসসি এবং পরে বিএ অনার্স (বাংলা) পাস করার পর পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কলেজ অফ আর্টস-এ দু-বছর পড়াশোনা করেন।