সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: গ্রহরত্নের বিজ্ঞাপন করে ফের বিতর্কের মুখে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। তবে এবারের বিতর্কে যেন বাঙালির সেন্টিমেন্ট একটু বেশি জড়িয়ে রয়েছে। স্টিল বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে ওই সংস্থার গ্রহরত্ন মগজাস্ত্রের থেকেও বেশি কার্যকরী।

এখানেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। নেটিজেনদের দাবি, যে চরিত্র সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের কেরিয়ারকে অন্যমাত্রা দিয়েছিল, যে চরিত্র তাঁকে আট থেকে আশি প্রত্যেকের গ্রহণযোগ্য করে তুলেছিল সেই ফেলুদার চরিত্রের অন্যতম অস্ত্র মগজাস্ত্র কখনই একটা গ্রহ-রত্নের মতো কুসংস্কারের কাছে ছোট হয়ে যেতে পারে না। অনেকে ওই বিজ্ঞাপনের ছবি শেয়ার করে এও লিখছেন যে, ‘মস্তিষ্ককে অকেজো করে তাহলে এখন গ্রহ রত্ন নিয়েই থাকলে দিন ভালো যাবে।’ সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্ব কেন এমন বিজ্ঞাপন করলেন তা নিয়েও নেটিজেন অবাক।

তাঞ্জন বসু নামে এক ব্যক্তি যেমন সম্পূর্ণ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অভিনেতার বিরুদ্ধে। তাঁর মনে হয়েছে, “সৌমিত্র চ্যাটার্জি কিসের বিজ্ঞাপন করবেন তা ওনার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়৷ কিচ্ছু বলার নেই। কিন্তু মগজাস্ত্র শব্দটির ব্যবহারে রাজি না হলেই পারতেন।”

সম্প্রতি ফেলুদা পঞ্চাশ নামে একটি তথ্যচিত্র মুক্তি পেয়েছে। সেই ছবির প্রযোজক শ্রীপর্ণা মিত্র তাঁর ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, “এই ব্যাপারে আমার একটাই বক্তব্য এই ধরণের স্টিল অ্যাডের কপি কিন্তু সবসময় অভিনেতাকে দেখিয়ে শুট করা হয়না। ওনাকে হয়তো জাস্ট কিছু গ্রহরত্ন হাতে পড়ে বসে ছবিটা তুলতে হবে এই নির্দেশই দেওয়া হয়েছিল। উনি হয়তো জানতেনই না বিজ্ঞাপনের ফাইনাল লুকটা এইভাবে আসবে। ওনার মত একজন বর্ষীয়ান অভিনেতাকে শুধুমাত্র এই কারণে সারাদিন ধরে হেনস্থা করার কোনো কারণ দেখিনা।” একইসঙ্গে তিনি এও লিখেছেন, “এই বিজ্ঞাপনের স্ক্রিপ্ট রাইটার, কপি রাইটার ও পরিচালককে আমি অবশ্যই বলতে পারি ফেলুদা ও তার মগজাস্ত্র আমাদের কাছে সংস্কারের মত। সেই সংস্কারে আঘাতটা না হানলেই পারতেন।”

এর আগে ধনযন্ত্র নামে এমনই এক গ্রহ রত্নের বিজ্ঞাপন করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু সেবারে কোনও বাঙালি আবেগ ছিল না। এবারে বিজ্ঞাপন যেন আবেগপ্রবণ বাঙালির আবেগে আঘাত দিয়েছে। তাই প্রতিবাদের সুরে ডিজিটাল বাঙালি বলছে, ‘মগজস্ত্র ব্যবহার এমন একজন করতেন যিনি আদ্যন্ত যুক্তিবাদী। যিনি ভন্ডামির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন বরাবর, তা সোনার কেল্লার মিথ্যে ডঃ হাজরা হোক কিম্বা গোসাইপুরের আত্মারাম। যিনি জটায়ুর সাথে নিউমেরোলজিস্টের কাছে গেলেও তাতে বিশ্বাস করেননি৷ যাকে সিধুজ্যাঠা শিখিয়েছিল, মনের জানলা খোলা রাখতে৷ সেই লোকটি ব্যবহার করা মগজাস্ত্রের সাথে আঙটির তুলনা।