স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ভার্চুয়াল জনসভায় অমিত শাহ মিথ্যে ভাষণ দিয়েছেন বলে দাবি করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র। তাঁর কথায়,”বাংলার মানুষের জন্য দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে রাজ্যের জন্য কিছু ঘোষণা হবে ভেবেছিলাম, কিন্তু এত অসত্য ভাষণ আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে শুনিনি।”

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বললেন, “যখন সারা দেশ করোনা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে তখন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হঠাৎ দীর্ঘ অন্তর্ধান পর্ব থেকে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসে ২০২১ সালে এ রাজ্যে ক্ষমতায় আসার, তাঁর স্বপ্নের কথা শুনিয়ে গেলেন।”

সোমেন মিত্র বলেন, “পরিযায়ী শ্রমিকরা রাস্তায় দুর্ঘটনা এবং অনাহারে মারা গেছেন। ঘরে ফিরে আসার পরে তাঁদের হাতে কোন কাজ নেই। জনতা কারফিউ, মোমবাতি জ্বালানো , থালা বাজানো আপনাদের কাছে সাফল্য হতে পারে কিন্তু বাংলার মানুষ কেন্দ্রের কাছে সাহায্য চান, সেটা আপনারা দিচ্ছেন না। যখন সমীক্ষা বলছে দেশের ঘোষিত করোনা রোগীর সংখ্যার চাইতে সঠিক সংখ্যা কোথাও কোথাও ১০০ থেকে ২০০ শতাংশের বেশি , তখন আপনার এই নির্বাচনী ভাষণ মানুষ প্রত্যাখ্যান করবেন। যখন আমফান ঝড়ে বিধ্বস্ত মানুষগুলো ভাঙা ছাদের তলা থেকে প্রধানমন্ত্রীর শুধু হেলিকপ্টার দেখলেন, তখন আপনার এই ভাষণ গরিবের কানে পৌঁছবে না। তাঁরা সম্মানের জীবন চান সেটা দিন, বক্তৃতা পরে শুনব।

মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের জনতার উদ্দেশে দিল্লি থেকে অনলাইনে ভাষণ দিয়েছেন অমিত শাহ। ভার্চুয়াল এই সভার নাম দেওয়া হয় ‘জনসংবাদ র‌্যালি’। সফটওয়্যারের মাধ্যমে রাজ্যের দু’ হাজার নেতাকর্মীকে যুক্ত করা হয়। ‘জনসংবাদ র‌্যালি’ থেকে এ রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পক্ষে সওয়াল করলেন অমিত শাহ। নিজের বক্তৃতায় রাজ্যের শাসকদলকে নিশানা করেছেন অমিত। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। আয়ুষ্মান ভারত-সহ নানা প্রকল্পের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্য সরকার অসহযোগিতা করছে বলেও অভিযোগ তাঁর। সেইসঙ্গে দুর্নীতির অভিযোগেও তৃণমূলকে বিঁধেছেন তিনি।

গত ৬ বছরে কেন্দ্রীয় সরকারের কাজের হিসাব দিয়েছেন অমিত শাহ। সেইসঙ্গে রাজ্য সরকারের থেকেও গত ১০ বছরের কাজের হিসাব চেয়েছেন অমিত শাহ। অমিতের ভাষণ শোনার পর কটাক্ষের সুরে সোমেন মিত্র বলেন, “যে দলের মিছিল মিটিংয়ে বাঙালি নেতা-কর্মীর সংখ্যা নেহাত নগণ্য তাঁরা বাংলার জয়ের অলীক স্বপ্ন দেখছে।” এদিন নিজের ভাষণে রামকৃষ্ণ, বিবেকান্নন্দ, রাজা রামমোহন, প্রণবানন্দজী, শ্যামপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বটুকেশ্বর দত্তর মতো বাংলার মনীষীদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

এব্যাপারে সোমেন মিত্র বলেন, “বাংলা সম্পর্কে তাঁর যে কোন ধারণাই নেই, সেটা প্রমাণ হল, ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব এবং স্বামী বিবেকানন্দের সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান শুনে। তিনি বললেন, ঠাকুর আর স্বামীজী নাকি হিন্দু ধর্ম পুনরুদ্ধার করেছেন! এই উভয় মহাপুরুষের শিক্ষার ভিত্তি যে সর্বধর্মের সমন্বয় সেই ন্যূনতম জ্ঞানটুকটুও যাঁদের নেই, বাংলার মানুষ তাঁদের ভরসা করবেন কি করে ?”

এরপরই তোপ দেগে সোমেন বলেন, “মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বাংলার মানুষ যে আপনাদের মতো গিমিক সর্বস্ব মানুষকে কখনও পছন্দ করেন না সেটাই আপনি জানেন না। যেটুকু দল ভাঙিয়ে লাফালাফি করছেন সেটা আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর ‘রিটার্ন গিফটের’ জন্য। যেমন নারদ মামলায় টিএমসি সাংসদদের সিবিআই তদন্তের জন্য অনুমতি এখনও স্পিকার দেননি, সারদা মামলায় প্রভাবশালীদের গ্রেফতারি আটকে রেখেছেন , প্রধানমন্ত্রী এবং আপনার সঙ্গে দেখা করার পরেই রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে তদন্ত লাল ফিতেতে বাঁধা পড়েছে।”

প্রদেশ সভাপতির কথায়, “অমিত শাহ বললেন, বাংলার সরকার তাঁরা ভাঙবেন না কারণ বিজেপি নাকি কোনভাবেই পিছনের দরজা দিয়ে সরকার গড়ে না! জিতেই সরকার বানায়। কর্ণাটক , মেঘালয়, মনিপুর, গোয়া ,অরুণাচল প্রদেশ এবং অধুনা করোনা আবহে মধ্যেপ্রদেশ– কোন রাজ্যে আপনাদের সংখ্যা গরিষ্ঠতা ছিল ? এই অসত্য কথা শুধু প্রচার আর মিডিয়ার জোরে বাংলার মানুষকে খাইয়ে দেবেন, বাংলার মানুষ কে কি এতই বোকা ভাবেন ?”

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ