স্টাফ রিপোর্টার, পাঁশকুড়া : ‘কোর্টের রায় এখনও ঠিক মতন খুঁটিয়ে দেখিনি, তাই পুজোমণ্ডপে এসে দু-কলি চন্ডী পাঠ করতে পারলাম না। তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী।’ পঞ্চমীর সকালে দুর্গাপুজোর উদ্বোধনের এসে এমনই মন্তব্য করলেন পরিবেশ ও কারিগরি মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ার মেচগ্রাম সমাজ শিক্ষা কেন্দ্র ও ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে রক্তদান শিবির ও চারাগাছ বিতরন করে শারদোৎসবের শুরু হয়েছিল খুঁটি পুজোর মধ্য দিয়ে। দেখতে দেখতে পূজোর দোরগোড়ায় হাজির আমরা সকলেই ,আনন্দে উৎফুল্ল আমাদের মন, তবু যেন ভাঙা আয়নার মতো টুকরো হয়ে ঘরের কোনে পড়ে রয়েছে আমাদের আবেগি মন।

ইতিমধ্যেই হাইকোর্টের রায় কিছুটা হলেও মন ভেঙেছে পুজো উদ্যোক্তাদের। তারই মধ্যে বুধবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়ার মেচোগ্রাম সমাজ শিক্ষা কেন্দ্র ও ব্যবসায়ি সমিতির দুর্গা পূজার উদ্বোধন করেন রাজ্যের জল সম্পদ মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র, পাঁশকুড়ার বিধায়ক ফিরোজা বিবি,পৌরসভার চেয়ারম্যান নন্দকুমার মিশ্র সহ নেতৃত্বরা।

এদিন মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র পুজো উদ্বোধন করতে এসে বলেন, ” পুজোর যখন জামা কাপড় সমস্ত কিছু কেনা হয়ে গিয়েছে তখনই বাংলাকে ছোট করার জন্য কিছু ব্যক্তির উঠে পড়ে লেগেছে। বাংলার চালিকাশক্তি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে আটকে রাখতে পারবে না।

আমাদের মুখ্যমন্ত্রী ইমামদের ভাতা দেন, ব্রাহ্মণদের ভাতা দেন মোয়াজ্জেম ভাতা ও দেন। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী কোনও ধর্ম জাতি ভেদাভেদ করেননি। যখন হাজার হাজার লোক নবান্ন অভিযান করেছিল তখন মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়নি। যখন রামলালা পুজো হচ্ছিল রাম মন্দিরে তখন মনে হয় মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়নি।

তখন মনে হয় কোভির পরিস্থিতি ছিল না। কোর্টের রায় ভালো করে পড়িনি আর পুরো রায় না পড়ে দুকলি চণ্ডীপাঠ করতে পারবো না।এর জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী।”

এদিন তিনি পুজো মন্ডপের ফিতা কেটে মণ্ডপ ও মূর্তির উদ্বোধন করেন। পুজো কমেটি উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, সরকারের সমস্ত গাইডলাইন মেনে পুজো হচ্ছে।

প্রতিদিন মন্ডপ স্যানিটাইজার সহ দর্শনার্থীদেরও স্যানিটাইজার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও ৫ মিটারের মধ্যে কাউকেই মন্ডপের ভিতর ঢুকতে দেওয়া হবে না। কোর্টের রায়ের কপি মন্ডপের আগে রেখে দেওয়া হবে।

জেলবন্দি তথাকথিত অপরাধীদের আলোর জগতে ফিরিয়ে এনে নজির স্থাপন করেছেন। মুখোমুখি নৃত্যশিল্পী অলোকানন্দা রায়।