কলকাতা:  দমদম লোকসভা কেন্দ্র একসময়ের সিপিএমের শক্ত ঘাঁটি হিসাবেই পরিচিত ছিল। আর তা সিপিএমের কাছ ছিনিয়ে নেন সৌগত রায়। এরপর থেকে এই লোকসভা কেন্দ্র থেকে টানা তিনবারের সাংসদ হয়েছেন তৃণমূলের এই বর্ষীয়ান নেতা। কিন্তু এবার আর নয়। আগামী লোকসভা নির্বাচনে আর লড়তে চান না সৌগত রায়। দমদম কেন্দ্র থেকে লোকসভায় জেতা তৃণমূলের এই সাংসদ দলীয় কর্মীদের এক সংবর্ধনায় যোগ দেন। সেখানেই এমনটাই মন্তব্য করেছেন বর্ষীয়ান এই নেতা। মূলত বয়সজনিত কারণে আর ভোটে লড়াই করতে চান না বলে ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন তৃণমূল অধ্যাপক সাংসদ।

বাংলা এক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর মোতাবেক সৌগতবাবু জানিয়েছেন, আগামী লোকসভা ভোটে তাঁর বয়স ৭৭ পার হয়ে যাবে। এই বয়সে তাঁর পক্ষে আর ভোটের লড়াইয়ে থাকা সম্ভব হবে না। স্বেচ্ছায় তাঁর সংসদীয় জীবনে ইতি টানতে চান তিনি। যদিও বিরোধী আসনে থাকতে হবে, তবুও দমদমবাসীর জন্য যথাসাধ্য উন্নয়নের কাজ তিনি করবেন বলেই জানিয়েছেন। যদিও তাঁর এই মন্তব্যের পরেই রাজনৈতিকমহলে শুরু হয়েছে একাধিক জল্পনা। হঠাত কেন রাজনৈতিক জীবন থেকে সরে দাঁড়াতে চাইছেন তিনি? কিন্তু সমস্ত জল্পনা খারিজ করে দিয়েছেন খোদ সৌগত রায় নিজেই।

দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের সঙ্গে রয়েছেন দমদম লোকসভা কেন্দ্রের এই সাংসদ। দলের খারাপ সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছেন। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে লড়াই হোক কিংবা যে কোনও আলোচনায় যেভাবে বক্তব্য রেখেছেন সৌগতবাবু তাতে যথেষ্ট নজর কেড়েছেন তিনি। তাঁর বাংলায় বা ইংরেজিতে বক্তব্য পেশের দক্ষতা বিরোধীদেরও তারিফ পেয়েছে। সেখানে দাঁড়িয়ে এভাবে সংসদীয় রাজনীতি ছেড়ে সৌগতবাবুর চলে যাওয়াটা বড় ক্ষতি হবে বলেই মনে করছে তৃণমূলের একাংশ।

ওই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর মোতাবেক দমদম থেকে তাঁকে জেতাতে পানিহাটির মানুষ যে সমর্থন জানিয়েছেন তাঁর জন্যে তিনি কৃতজ্ঞ বলে । সৌগতবাবু বলেন, ২০০৯ সালে প্রথমবার মাত্র ২০ হাজার ভোটে তিনি দমদম কেন্দ্রে জিতেছিলেন। সেই সময় পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্র একাই ১৫ হাজার ভোটে তাঁকে এগিয়ে দিয়েছিল। তাই ওই বিধানসভার নির্বাচকমণ্ডলীর কাছে তাঁর বিশেষ কৃতজ্ঞতা রয়েছে বলে অকপটে স্বীকার করেছেন সৌগতবাবু। তৃতীয় দফায় জেতার পর তাঁর দায়িত্ব অনেকগুণ বেড়ে গিয়েছে। আর সেই দায়িত্ব তিনি পালন করলেও ভোটে যে আর লড়বেন না তা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দমদম লোকসভা কেন্দ্রের এই সাংসদ।