অভিষেক কোলে: প্রেসিডেন্ট বক্সে বসে খেলা দেখেন বেশ কিছুক্ষণ। দিনের মতো খেলা শেষ হওয়া মাত্র গোটা দল সাজঘরে ফেরার আগেই কোচ সাইরাজকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে ঢুকে পড়েন সৌরভ। সোজা চলে যান পিচের উপর। খুঁটিয়ে দেখেন বাইশ গজ। মাঠ থেকে ফিরে ঢুকে পড়েন বাংলার ড্রেসিং রুমে।

ক্রিকেটাররা তখন নির্বাক শ্রোতা। মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনছেন প্রত্যেকেই। বক্তা অন্য কেউ নন, স্বয়ং সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। পাশে চুপচাপ দাঁড়িয়ে কোচ সাইরাজ ও মেন্টর অরুণ লাল। আসলে প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে বহুবার বাংলা দলকে টেনে তুলেছেন মহারাজ নিজে। কঠিন সময়ে মনোজদের মনোবল বাড়াতে অতীতের সেই নজির তুলে ধরলেন দাদা। বুঝিয়ে দিলেন এমন অবস্থায় মাথা ঠান্ডা রেখে বাংলা ক্রিকেটারদের ঠিক করা দরকার। শামি-দিন্দাদের কার্যত নির্দেশের ভঙ্গিতে বাতলে দেন ঠিক কোন জায়গায় বল রাখা উচিত।

সৌরভের পেপ টকে উদ্দীপ্ত দেখাল বাংলা ক্রিকেটারদের। লড়াকু হাফ সেঞ্চুরি করা অনুষ্টুপ মজুমদারের কথাতেও ধরা পড়ল ইতিবাচক সুর। নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে খুশি না হলেও অনুষ্টুপ জানালেন, কেরল যদি ছোটখাটো লিডও নেয়, তবে দ্বিতীয় দফায় বড় রান করে শেষ ইনিংসে কেরলকে বেকায়দায় ফেলার ক্ষমতা আছে বাংলার। আবশ্য তার জন্য শামি-দিন্দার উপর অনেক কিছু নির্ভর করছে বলে মনে করেন এই অভিজ্ঞ মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান।

মেন্টর অরুণ লাল মাঠ ছাড়ার সময় জানান, বাংলা ব্যাটসম্যানদের প্রয়োগ কৌশলে কোথাও একটা খামতি ছিল। সেকারণেই অফসাইডে সাতজন ফিল্ডার সাজিয়ে কেরলের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে আউট হয় তারা। যদিও মনোজদের মধ্যে চেষ্টায় ত্রুটি দেখেননি লাল’জি। দলের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান সুদীপের ফর্ম নিয়ে চিন্তিত হলেও এই পরিস্থিতি থেকেও যে ম্যাচে ফিরতে পারে বাংলা, সেই বিশ্বাস এখনও বজায় রয়েছে প্রাক্তন তারকার।