রায়পুর: পরিবেশ বাঁচানোর লক্ষ্যে আরও এক ধাপ৷ ছত্তিশগড়ের একটি ক্যাফেতে শুরু হতে চলেছে নয়া প্রকল্প৷ ক্যাফে কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে তারা এই প্রকল্প খুব দ্রুত শুরু করতে চলেছে৷ কি এই প্রকল্প?

ছত্তিশগড়ে অম্বিকাপুরে চালু হয়েছে গারবেজ ক্যাফে বা আবর্জনা ক্যাফে৷ এই ক্যাফের লক্ষ্যে গোটা শহরকে আবর্জনা মুক্ত করা৷ এই উদ্যোগ নিয়েছে অম্বিকাপুর পুরসভা৷ তাদের এই নয়া পদক্ষেপ শহরকে আবর্জনা মুক্ত করতে সাহায্য করবে, আশা স্থানীয় বাসিন্দাদের৷ অম্বিকাপুর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন বা এএমসি জানাচ্ছে দেশে এই প্রথম গারবেজ ক্যাফে তৈরি হতে চলেছে৷

এতে প্লাস্টিক বর্জ্য কুড়িয়ে আনার বিনিময়ে বিনামূল্যে খাবার পাবেন দরিদ্ররা৷ তবে একটা ছোট্ট শর্ত দিয়েছে অম্বিকাপুর পুরসভা৷ তারা জানাচ্ছে কুড়িয়ে আনা প্লাস্টিক বর্জ্যের পরিমাণ এক কেজি হতে হবে৷ তবেই মিলবে ভরপেট খাবার৷ যদি আধ কিলোগ্রাম প্লাস্টিক নিয়ে আসা হয়, তবে মিলবে সকালের জলখাবার৷

অম্বিকাপুর পুরসভার কঠিন বর্জ্য বিভাগ থেকে এই উদ্যোগের ব্যাপারে আশা প্রকাশ করা হয়েছে৷ তারা বলছেন সফল হবে এই প্রকল্প৷ কারণ এতে উপকৃত হচ্ছেন দরিদ্ররা, তেমনই প্লাস্টিকের হাত থেকে পরিবেশ বাঁচানোর এর থেকে ভালো উপায় আর নেই৷

সংবাদসংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাতকারে অম্বিকাপুরের মেয়র এই ইস্যুতে বলেন গারবেজ ক্যাফের মত প্রয়াস দেশের প্রতিটি প্রান্তে নেওয়া উচিত৷ দরিদ্রদের মুখে খাবার যোগান দেওয়ার মত কাজ করবে এই গারবেজ ক্যাফে৷ উলটোদিকে পরিবেশ রক্ষা পাবে প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে৷

তবে এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে বিজেপি৷ তাদের মতে এই ধরণের পদক্ষেপ রাজনৈতিক গিমিক ছাড়া আর কিছুই নয়৷ অম্বিকানগর এমনিতেই পরিস্কার পরিচ্ছন্ন শহর৷ সেখানে প্লাস্টিক বর্জ্য খুঁজে পাওয়া দুস্কর৷ তাই দরিদ্রদের খাবার খাওয়ানোর নাম করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে শাসক দল৷

আরও পড়ুন : মাত্র ১৮০ টাকায় গ্যাস সিলিন্ডার দিতে পারে নয়া মোদী সরকার

তবে দমছেন না অম্বিকানগর পুরসভার মেয়র৷ তাঁর মতে এই প্রকল্প গোটা দেশে নজির হয়ে থাকবে৷ ওই প্লাস্টিক বর্জ্যগুলিকে পুনর্নবীকরণ করা হবে৷ ওই ক্যাফের জন্য ৬ লক্ষ টাকা বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে৷ সাধারণত কোনও প্লাস্টিক কুড়ানি এক কেজি প্লাস্টিক দিয়ে ২০ টাকা পায়৷ সেখানে সারাদিনের খাবার পাবে তারা৷ এতে গোটা পরিবারের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার সুযোগ থাকবে তাদের কাছে৷ অন্নচিন্তা না থাকলে, অন্য কাজেও যোগ দিয়ে টাকা উপার্জনের সুযোগ থাকবে তাঁদের কাছে৷

বিরোধীরা যাই বলুন, শহরের বাসিন্দারা কিন্তু বেশ খুশি পুরসভার এই উদ্যোগে৷ শহরকে আরও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে গড়ে তুলতে এই উদ্যোগ যে নজিরবিহীন, এককথায় স্বীকার করছেন সবাই৷