কলকাতা: ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই গোলের জন্য ছটফটানি৷ কামব্যাকের জন্য কতটা মরিয়া ছিলেন, প্রথম মিনিট থেকেই চোরা গতিতে বুঝিয়ে দিলেন বারবার৷

ম্যাচ শুরুর চার মিনিটেই সোলো রানে সনি ঝড়৷ বাঁ-পায়ের বুলেট গতির শট পোস্টের উপর দিয়ে বল উড়ে না গেলে বাগানের পক্ষে স্কোরলাইন তখনই ১-০ হয়ে যায়৷ পরে ফ্রি-কিকে বাগানের ত্রাতা হাইতিয়ান ম্যাজিসিয়ন৷ সেটাও প্রথমার্ধের ৪২ মিনিটে৷ সনির ফ্রি-কিকেই পিছিয়ে পড়া বাগান যেন তেলখাওয়া নতুন ইঞ্জিন৷ স্কোরলাইন ১-১ রেখে মাঠ ছাড়ে বাগান৷

গোল পেতেই বাগান ব্যাক অন ট্র্যাক, আর হাফ ছাড়লেন সনি৷ গ্যালারির দিকে ছুটে গিয়ে দুই হাত জড়ো করে বুকের কাছে এনে ফ্যানেদের দিকে চেয়ে রইলেন৷ সেলিব্রেশনের বদলে এ যেন ক্ষমা চেয়ে চাওয়া৷ শেষবারের মতো এবারও চোট-আঘাতে ম্যাসিশিয়ন জর্জরিত৷ ফলে ক্লাবের হয়ে অনেকটা সময়ই খেলার মধ্যে নেই হাইতিয়ান৷ দলের বিপদের সনিকে ছাডা়ই নামতে হয়েছে৷

সমর্থকরা তাই দ্বিধাবিভক্ত৷ কেউ সনির পক্ষে কেউ সমালোচনায়৷ চোটে জর্জরিত সনির খেলায় পুরনো ধার নেই দুর্নামে গলা মিলিয়েছেন অনেকে৷ পিছনে অনেক সমর্থকই বলছেন, এত চোট পেলে মরশুম ভর ভরসা কি হওয়া যায়? শেষবার দলের লিগ হাতছাডা়য় সনির না খেলতে পারাকেও অনেকে কারণ হিসেবে দুষেছেন৷

এবারও ভিলেন হওয়ার দরজার দাঁড়িয়েছিলন৷ লিগের মাঝপথে সনির চোট এবারও সমর্থকদের মধ্যে পুরনো স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছিল৷ সবুজ ঘাসে নেমে এদিন অবশ্য দুরন্ত ফ্রি-কিকে সমালোচকদের চুপ করিয়ে দিলেন৷ বাগান জনতার হৃদয়ে আজও যে তিনি ঝড় তুলতে পারেন বুঝিয়ে দিলেন এক শটেই৷

গোল পেতেই তাই মাঠে নামতে না পারায় যন্ত্রণায় প্রলেপ৷ মরশুমের অর্ধেক সময় খেলতে না পেরে সমর্থকদের আশাহত করার জন্যই যেন গোল করে আজ ক্ষমাপ্রার্থী বাগানের প্রাণভোমরা৷