স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বাংলাকে কোনওদিনই গুরুত্ব দেয়নি গান্ধী পরিবার৷ এরাজ্যের বহু কংগ্রেস কর্মীর এমনই ক্ষোভ ছিল৷ অবশেষে বাংলার পাঁচবারের সাংসদ অধীর চৌধুরীকে লোকসভায় কংগ্রেসের নেতা করে সেই ক্ষোভ অনেকটাই প্রশমিত করলেন সোনিয়া গান্ধী-রাহুল গান্ধীরা৷

লোকসভা নির্বাচনে হারের পর থেকে সংসদে একক বৃহত্তম দল হিসাবে কংগ্রেসের নেতা কে হবেন তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। গত লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে হেরে যাওয়ায় দায়িত্ব নিতে বলা হয় রাহুল গান্ধীকে। কিন্তু দলের খারাপ ফলের পর থেকেই দলের দায়িত্ব থেকে অব্যহতি চেয়ে অনড় তিনি। ফলে শেষ পর্যন্ত অধীর চৌধুরীর উপরই আস্থা রাখলেন সোনিয়া গান্ধী৷

এবার লোকসভা নির্বাচনে গোটা দেশে কংগ্রেসের অনেক রথী-মহারথী হেরে গিয়েছেন। দীর্ঘ দিন ধরে লোকসভায় রয়েছেন, এমন সাংসদের সংখ্যা কংগ্রেস সংসদীয় দলে এ বার হাতে গোনা। সনিয়া গাঁধী নিজে লোকসভায় রয়েছেন ২০ বছর ধরে। অধীর চৌধুরীও রয়েছেন ২০ বছর ধরে। আর রাহুল গাঁধী রয়েছেন ১৫ বছর। ফলে এব্যাপারে কংগ্রেস শীর্ষ নেতারা সমস্ত সিদ্ধান্তভার ছেড়ে দেন সোনিয়া গান্ধীর উপর৷উল্লেখ্য, অধীর তাঁর একক দক্ষতায় প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও এবার কংগ্রেসের গড় ধরে রাখতে পেরেছেন। বহরমপুর থেকে তিনি জয়ী হয়েছেন।

মঙ্গলবার সকালে ১০ জনপথের বাসভবনে অধীর চৌধুরীকে ডেকে পাঠান সোনিয়া গান্ধী। সেই বৈঠকেই অধীরকে এই নতুন দায়িত্বের কথা জানান। বৈঠক সেরে বেরিয়ে লোকসভায় কংগ্রেসের জন্য নির্ধারিত আসনের একেবারে সামনের সারিতে বসেন অধীর।

তবে দুদিন আগেই অধীরের পুরস্কৃত হওয়ার ইঙ্গিক কিছুটা মিলেছিল৷ রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ডাকা সর্বদল বৈঠকে অধীরকেই পাঠিয়েছিলেন সোনিয়া৷ বৈঠক শেষে খোদ মোদী পিঠ চাপড়ে দিয়েছিলেন বহরমপুরের সাংসদের৷ বলেছিলেন ‘অধীরদা বড় যোদ্ধা’। কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সনিয়া গাঁধীও সেই ‘যোদ্ধা’কে স্বীকৃতি দিতে ভুল করলেন না।