শিবপ্রিয় দাশগুপ্ত : রাজারহাট গোপালপুর বিধানসভায় এবার গানে আর কবিতায় ভোটের লড়াই। গানে বলছি কারণ বাংলা গানের একটা অন্যতম ধারা কীর্তন। সেই কীর্তনকেই এই লারে-লাপ্পার যুগে যিনি আবার মূলস্রোতে ফিরিয়ে এনেছেন সেই অদিতি মুন্সী এবার রাজারহাট গোপালপুর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী। কবিতা বলার কারণ সংবাদ মাধ্যমে সুবক্তা ও কথায় কথায় ছন্দের জাদুতে যিনি নিজের রাজনৈতিক বক্তব্য তুলে ধরেন সেই শমীক ভট্টাচার্য এবার রাজারহাট গোপালপুরের বিজেপি প্রার্থী। তুলনায় বাম ব্যথা সিপিএম প্রার্থী শুভজিৎ দাশগুপ্ত কিন্তু সুর ও ছন্দের ধারেকাছে না গিয়ে সোজাসাপ্টা মানুষের দৈনন্দিন চাহিদার কথা মানুষের সামনে প্রচারে তুলে ধরছেন।

২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে এই বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি-র শমীক ভট্টাচার্য এগিয়ে ছিলেন মাত্র ৭৪৩ ভোটে। ২০১১ এবং ২০১৬ -র বিধানসভা নির্বাচনে রাজারহাট গোপালপুর বিধানসভা তৃণমূলের দখলেই ছিল। তবে তৃণমূল এই বিধানসভা কেন্দ্রটিতে ২০১১ থেকে টানা জিতে আসলেও বিজেপি রাজারহাট গোপালপুর বিধানসভায় তাদের ভোট বাড়িয়ে চলেছে সমানে। কমেছে বামেদের ভোট। তৃণমূলের ভোটও সামান্য কমেছে।
তবে এবার এই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, তাঁদের জনসমর্থন বহুগুণ বেড়েছে। তবে ভোট কমলেও এবার রাজারহাট গোপালপুর বিধানসভা কেন্দ্রে সংযুক্ত মোর্চা সমর্থিত সিপিএম প্রার্থী শুভজিৎ দাশগুপ্ত-র আশা মানুষ তৃণমূল ও বিজেপিকে খারিজ করবে। কেননা নতুন প্রজন্মের ভাটাররা চান কাজ, সবার মুখে ভাত। এটাই কিন্তু সংযুক্ত মোর্চার এবারের নির্বাচনের প্রধান দাবি।

আসলে রাজারহাট গোপালপুরে কী হবে? সেটা নিয়ে আশাবাদী অদিতি মুন্সী ও শমীক ভট্টাচার্য। অদিতি প্রচার করতে এসে বলছেন, “মানুষকে সম্মান দিতে হবে। মানুষের উন্নয়নের রাজনীতি করতে হবে। আমি রাজনীতিকে প্রতিযোগিতা বলে ভাবি না। আমি যে উন্নয়নের কথা বলছি সেটা করে দেখিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

শমীক ভট্টাচার্য প্রচারে হাতিয়ার করছেন শঙ্খ ঘোষের কবিতাকে। অদিতিকে রুখতে শমীক বলছেন, “তোমারও তো শ্রান্ত হল মুঠি। অন্যায় হবে না নাও ছুটি”। বামেরা বলছে, “মানুষ দুটো দলকেই ছুটি দেবে”।

মানুষ কী বলছেন? মানুষ কাজের জন্য সংযুক্ত মোর্চার ওপর ভরসা রাখছেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য চাইছে সংযুক্ত মোর্চাকে। মানুষে মানুষে সংঘাত নিবারণে বিজেপি বিরোধিতার সুর শোনা যাচ্ছে ভোটারদের গলায়। তৃণমূলকে তুলনায় কম চাইছেন এই কেন্দ্রের ভোটাররা। তবে ২০১১ , ২০১৬ পর পর দুটো বিধানসভা নির্বাচনেই তৃণমূল রাজারহাট গোপালপুর বিধানসভায় জিতেছে।তৃণমূল বলছে, “আমাদের সংগঠন এই কেন্দ্রে মজবুত। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের ওপর ভর করেই আমরা রাজারহাট গোপালপুরে জিতছি। তবে রাজারহাট গোপালপুর কার সেটা জানা যাবে ২ মে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.