চেন্নাই : তিনি জননেতা ছিলেন৷ এমন উচ্চতায় নিজেকে নিয়ে গিয়েছিলেন, যে পরিবারের প্রত্যেকের সঙ্গে সব সম্পর্কের উর্দ্ধে উঠে নেতা হিসেবেই রয়ে গিয়েছিলেন এম করুণানিধি৷ ছোট ছেলে এম কে স্ট্যালিনও তাঁর বাবাকে ডাকতেন থালাইভার বা নেতা বলেই৷ তাঁর সেই নেতা চলে গিয়েছেন৷ এতটাই দূরে যে আর কোনও নামেই সাড়া দেবেন না তিনি৷

নিজের বাবাকে উদ্দেশ্য করে তাই এবার চিঠি লিখলেন করুণানিধির ছোট ছেলে এম কে স্ট্যালিন৷ চিঠিতে তাঁর প্রশ্ন বাবার কাছে৷ ‘থালাইভার, আপনাকে কি শেষ বারের মতো আপ্পা বলে ডাকতে পারি?’ এই প্রশ্ন নাড়িয়ে দিয়েছে তামাম তামিলের মন৷ সেই চিঠি ট্যুইট করে প্রকাশ করেছেন স্ট্যালিন৷

গোটা তামিলনাড়ু এখন শোকে আচ্ছন্ন৷ তারই মাঝে নিজের বাবাকে লেখা ডিএমকে কার্যকরী প্রধানের এই চিঠি করুণানিধির না থাকাটা আরও প্রকট করে তুলছে৷ স্ট্যালিন নিজের চিঠিতে লিখেছেন, তাঁর বাবা সবসময় বলতেন, তিনি বিশ্রাম নিতে চান না। তিনি চান বিশ্রাম নিজেই ‘বিশ্রাম’ নিক। বহু বছর আগের সেই কথা তুলে ধরে স্ট্যালিন বলেছেন তামিল জনজাতির প্রতি আপনার সব কাজ কি শেষ হয়ে গিয়েছে যে আপনি চলে গেলেন?

চিঠিতে একটা কবিতা লিখেছেন স্ট্যালিন৷ নিজের বাবাকে হারানোর কষ্ট তুলে ধরেছেন সেখানে৷ রয়েছে বাবার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা, বোন কানিমোঝির কথা, নিজের বাবাকে বারবার অসুস্থ হতে দেখার যন্ত্রণার কথা৷

তিনি লিখেছেন জীবনের বেশিরভাগ সময়েই আপনাকে বাবা বলে ডাকিনি, ডেকেছি থালাইভার বলে৷ শেষ বারের মত কি আপনাকে আপ্পা বলে ডাকতে পারি? কেন কাউকে কিছু না জানিয়ে চলে গেলেন তাঁর প্রিয় আপ্পা, সেই প্রশ্ন করেছেন তিনি৷

এরআগে, বুধবার সকালেই মাদ্রাজ হাইকোর্ট জানিয়ে দেয় মেরিনা বিচেই সমাধিস্থ হবেন করুণানিধি। তাঁর আগেও পেরিয়ার, আন্না দুরাই, এমজিআর প্রমুখ দ্রাবিড়িয় নেতাদের সমাধিস্থ করা হয়৷ আগুনের সংস্পর্শেও আনা হয় নি তাঁদের৷ চন্দনকাঠ এবং গোলাপ জলে সমাধি সাজানো হয়৷ দ্রাবিড়িয় বিশেষজ্ঞদের মতে নেতাদের সমাধি দেওয়া হয় তাঁদের অমর করার জন্য অর্থাৎ মনের মণিকোঠায় চিরস্থায়ী জায়গা দেওয়া হয় এই সমাধির মধ্যে দিয়েই৷

করুণানিধি চাইতেন মেন্টর আন্না দুরাইয়ের সমাধির পাশেই যেন তাঁর স্থান হয়৷

অন্যদিকে, গতকাল সন্ধ্যেবেলাই তামিলনাড়ু সরকার জানিয়ে দিয়েছিল, মেরিনা বিচে এম করুণানিধিকে সমাধিস্থ করা যাবে না৷ এরপরই ডিএমকে সমর্থকরা পথে নামতে শুরু করেন৷ প্রতিবাদে পথ অবরোধ করেন৷