হলদিয়াঃ সম্পত্তি বিবাদের জেরে শনিবার রাতে বাবার গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে পুড়িয়ে খুন করল ছেলে। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার গেঁওখালির বেতকুন্ডু গ্রামে। স্থানীয় মহিষাদল থানার পুলিশ অভিযুক্ত ছেলে ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে।

জানা গিয়েছে, মৃত ওই বাবার নাম হরিপদ মল্লিক(৭২)। তাঁর সঙ্গে বড় ছেলে নারায়ণ মল্লিকের দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিবাদ চলছিল। এর জেরে বড় ছেলে নারায়ণ দীর্ঘদিন ধরে বাবার বাস্তুভিটে ছেড়ে পাশের গ্রাম গোপালচকে নিজের পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। অন্য়দিকে নারায়ণবাবু তার অন্য় দুই মেজো ছেলে, ছোটো ছেলে ও তাঁদের পরিবারকে নিয়ে বাস্তুভিটে বেতকুন্ডুতেই বসবাস করতো।

দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন হরিপদবাবু। শনিবারও তিনি আর পাঁচটা দিনের মতো রাতের খাবার খেয়ে জানালা খুলে ঘুমিয়ে পড়েন। আর এই সুযোগ বুঝে বড় ছেলে নারায়ণ রাত্রি প্রায় ১০টা নাগাদ এসে জানালা দিয়ে বাবার গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে মারে বলে অভিযোগ। সঙ্গে সঙ্গে হরিপদবাবুর পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা দেখতে পেয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ততক্ষণে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বাবা হরিপদ মল্লিকের। আর এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।

স্থানীয় মহিষাদল থানায় ঘটনার খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে মহিষাদল থানায় নিয়ে আসে এবং ময়না তদন্তের জন্য পাঠায়। এদিন পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছতেই অভিযুক্ত বড় ছেলেকে গ্রেফতারের দাবিতে সরব হন এলাকাবাসীরা। এরপর পুলিশ অভিযুক্ত বড় ছেলে ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। তবে কী কারণে এই জমি বিবাদ বাবা-ছেলের মধ্যে? তার উত্তরে এলাকাবাসীদের দাবি, গত বেশকয়েক বছর আগে হরিপদ বাবুর সমস্ত সম্পত্তি তিনি তাঁর মেজ ছেলে ও ছোট ছেলেকে হস্তান্তর করেন। কিন্তু তা থেকে বঞ্চিত থাকে বড় ছেলে। আর এই থেকেই মূলত হরিপদ বাবুর সঙ্গে সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ শুরু হয় বড় ছেলে নারায়ণের।

বাবার সঙ্গে বিবাদের জেরে পাশের গ্রাম গোপালচকে বসবাস করতে শুরু করে অভিযুক্ত বড় ছেলে নারায়ণ। কিন্তু এরপরও বাবার সঙ্গে প্রায়ই সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ চলত বলে দাবি এলাকাবাসীদের। আর এই সম্পত্তি আক্রোশের জেরেই বাবাকে বড় ছেলে নারায়ন জীবন্ত পুড়িয়ে খুন করেছে বলে মত স্থানীয়দের। শুক্রবার রাতের এই খুনের ঘটনায় মহিষাদল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্ত বড় ছেলে নারায়ণ ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার তাদের হলদিয়া মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে। অন্য়দিকে হরিপদবাবুর মৃতদেহ উদ্ধার করে নিয়ে আসে পুলিশ। সমগ্র ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানান মহিষাদল থানার ওসি পার্থ বিশ্বাস।