স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: প্রায় তিন বছর ধরে ফ্রিজারে মৃত মায়ের দেহ রেখে সংরক্ষণ করত ছেলে৷ দেহতে যাতে পচন না ধরে তার জন্য ব্যবহার করা হত দেহ সংরক্ষণের রাসায়নিক৷

রবিনসন স্ট্রিটের ছায়া দেখা গেল বেহালায় জেমস লং সরণীতে৷ ২৫ নম্বর জেমস লং সরণীতে মৃত মাকে সংরক্ষণ করে রেখেছিল ছেলে শুভব্রত মজুমদার৷ ওই বাড়িতে ছেলের সঙ্গে থাকতেন বাবা গোপাল মজুমদারও৷ তাঁকে বলা হয়েছিল মা বেঁচে উঠবেন৷ তাই দেহ রাখা হয়েছে৷

পুলিশের অনুমান প্রায় ৩ বছর ধরে শুভব্রতের টার্গেট ছিল মায়ের পেনশন৷ মৃত মায়ের টিপসই দিয়ে পেনশন তুলতেন শুভব্রত৷ জীবিতকালে ৫০ হাজার টাকা পেনশন পেতেন মা৷ পেনশন ফর্ম দিয়ে টাকা তোলা হত৷ জমা দেওয়া হত লাইফ সার্টিফিকেটও৷ তবে এই দুবছরে ব্যাঙ্কের তরফ থেকে পরিদর্শনে কেন কোনও আধিকারিক আসেননি, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন৷

তদন্তে জানা গিয়েছে ২০১৫ সালের ৭ই এপ্রিল শুভব্রতর মায়ের মৃত্যু হয়৷ জেরায় শুভব্রত জানিয়েছে মায়ের প্রতি ভালবাসা থেকেই দেহ সংরক্ষণ করেছে সে৷ তবে বিষয়টি মিথ্যা বলে মনে করছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা৷ তাদের অনুমান মায়ের টাকা পেতেই এই কীর্তি ছেলের৷

ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন হোমিসাইড শাখার গোয়েন্দারা৷ উদ্ধার হয়েছে দেহ সংরক্ষণের রাসায়নিক৷ দেহের ময়াতদন্ত করা হবে বলে জানা গিয়েছে৷ শুভব্রত লেদার টেকনোলজি নিয়ে পড়াশুনা করেছিল৷ মেধাবী ছাত্র ছিল বলে প্রতিবেশী সূত্রে খবর৷ ফলে দেহ সংরক্ষণের কৌশল জানত শুভব্রত৷ দেহে যাতে পচন না ধরে তার জন্য বের করে নেওয়া হয় ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদন্ত্র, যকৃৎ, পাকস্থলী৷ এরপর ফ্রিজারে দেহটিকে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়৷ এভাবেই চলছিল প্রায় দুবছর ধরে৷

কোনও গন্ধ না পাওয়ায় প্রতিবেশীদেরও সন্দেহ হয়নি বলে মনে করছে পুলিশ৷