কলকাতা: মায়ের পচাগলা দেহ আগলে বসেছিলেন ছেলে৷ পরে দুর্গন্ধ ঢাকতে তা পুড়িয়ে দেওয়া হয়৷ রবিনসন স্ট্রিট-কাণ্ডের ছায়া এবার সল্টলেকের বিই ব্লকে৷ রবিবার প্রবল দুর্গন্ধে ভরে যায় এলাকা। প্রতিবেশীরা খবর দেন পুলিশে। রাতেই পুলিশ গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে।

আরও পড়ুন: রবিনসন স্ট্রিটের পুনরাবৃত্তি! মৃত মাকে তিনদিন আগলে রাখল ছেলে

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে মৃত মহিলা কৃষ্ণা ভট্টাচার্যের ছেলে মৈত্রেয় ভট্টাচার্যকে।
অন্যদিকে, পরিবারের বেশ কয়েকজন আত্মীয়ের দাবি মৈত্রেয় নিজেই নাকি তাদের জানিয়েছিলেন মায়ের মৃত্যুর কথা৷ দেহ ঘরে রয়েছে সেটাও জানতেন তারা৷ পরে তাদের উদ্যোগেই খবর পৌঁছায় পুলিশে৷

মায়ের আদেশেই তাঁর দেহ আগলে রাখা হয়েছিল৷ পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন মৈত্রেয়৷ তবে ওই ছেলের মানসিক ভারসাম্যহীন বলেই দাবি প্রতিবেশীদের। কতদিন ওই মরদেহ আটকে রাখা হয়েছিল তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে৷ প্রতিবেশীদের দাবি গত ৬ই ডিসেম্বর মারা যান কৃষ্ণাদেবী৷ পুলিশের

অবশ্য প্রাথমিক অনুমান গত সাত দিন আগেই মৃত্যু হয়েছে বৃদ্ধার৷ প্রতিবেশীরা জানান, মৈত্রেয় অন্যান্যদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতেন না। একাই থাকতেন। তবে কোনও কারণে প্রতিবেশীদের সঙ্গে মতপার্থক্য হলেই গালাগাল দিতেন মৈত্রেয়৷ ভাঙচুর করতেন নিজের বাড়ির জিনসপত্র। মৃতা মহিলা পেশায় একজন স্কুল শিক্ষিকা ছিলেন। তাঁর স্বামী ছিলেন এসএসকেএম হাসপাতালের চিকিত্সক। ছাত্র হিসাবে ভালো ছিলেন মৈত্রেয়৷ কয়েকবছর আগেই মারা যান চার বাবা। ত্রমেই অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই মহিলা।

আরও পড়ুন: বন্ধ ঘরে উদ্ধার পচাগলা দেহ, রবিনসন স্ট্রিটের ছায়া বর্ধমানে

পুলিশের দাবি, মৈত্রেয়কে জিজ্ঞাসাবাদে একাধিক অসঙ্গতি পাওয়া গিয়েছে৷ তাঁর শংসাপত্র বাড়ির বারান্দায় ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে৷ রেশন ও ভোটার কার্ডও ঝুলছে সেখানে৷ কোন উদ্দেশ্যে এই ধরণের আচরণ মৈত্রেয়র৷ জিজ্ঞাসাবাদে সেই রহস্যেরই উন্মোচন করতে চাইছে পুলিশ৷
উল্লেখ্য, কয়েক বছর আগে মধ্য কলকাতার রবিনসনস স্ট্রিটে দিদির মৃতদেহ আগলে বসেছিলেন এক যুবক। পুলিস এসে তা উদ্ধার করে। বাথরুম থেকে উদ্ধার হয় তার বাবার আধপোড়া দেহ। এছাড়াও উদ্ধার হয় দুটি কুকুরের মৃতদেহ।