ঢাকা: লকডাউনের মাঝে সব সময় গাড়ি পাওয়া যায় না। অ্যাম্বুলেন্স মেলেনি। এদিকে মা করোনা আক্রান্ত। বেশি শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়ায় পিঠে অক্সিজেন সিলিন্ডার বেঁধে মা কে বাইকে বসিয়ে হাসপাতালে পৌঁছলেন ছেলে। ঘটনা বরিশালের। ছবি হয়েছে ভাইরাল।

জানা গিয়েছে, ওই বাইক চালকের নাম জিয়াউল হাসান। তিনি বরিশালের ঝালকাঠি জেলার নলসিটি শহরের বাসিন্দা ও ব্যাংকের কর্মচারি। তাঁর মা রেহানা পারভীন। তিনি স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। ৫৭ বছর রেহানার শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দেয়। বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষা করা হয়। বৃহস্পতিবার তার করোনাভাইরাস পজিটিভ রিপোর্ট আসে।

বাড়িতে রেখেই চিকিৎসা চলছিল রেহানা পারভীনের। দেখভাল করছিলেন পুত্র জিয়াউল হাসান। শনিবার রেহানার অক্সিজেন মাত্রা কমে আসে দ্রুত গতিতে। এদিকে লকডাউন চলতে থাকায় হাসপাতালে নিয়ে যেতে অসুবিধা হচ্ছে দেখে জিয়াউল পিঠে অক্সিজেন সিলিন্ডার বেঁধে নেন। মা কে কোনওরকমে বাইকের পিছনে বসান। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, আর কোনও উপায় ছিল না।

পিঠে অক্সিজেন ও মা কে সঙ্গে নিয়ে জিয়াউল যখন হাসপাতালে যাচ্ছেন তখন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে তাঁর ছবি তুলে সোশ্যাল সাইটে স্থানীয়রা ছড়িয়ে দেন। মুহূর্তে সেই ছবি ভাইরাল হয়ে যায়।

জিয়াউল হাসান জানিয়েছেন, মা যাতে পথে অক্সিজেনের অভাবে বেশি অসুস্থ হয়ে না পড়ে এজন্য তিনি পিঠের সাথে অক্সিজেন সিলিন্ডার বেঁধে নিয়েছিলাম। মা মাস্ক পরেছিলেন। এভাবেই মা রেহানা পারভীনকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি করেন জিয়াউল।

বাংলাদেশে গতকাল শনিবার টানা দ্বিতীয় দিনে মতো ১০১ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। শুক্রবার করোনায় মারা গিয়েছেন ১০১ জন। এই পরিসংখ্যান করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর সর্বাধিক। শনিবার পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনায় মোট মৃত্যু হয়েছে ১০ হাজার ২৮৩ জনের। মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা  ৭ লক্ষ ১৫ হাজার ২৫২ জন।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.